প্রচ্ছদমেঘকুমারী মেহজাবিনলাক্সতারকা খ্যাতি অর্জনের পর ৮ বছর অতিক্রম করেছেন মেহজাবিন চৌধুরী। ছোটপর্দা ও মডেলিংয়ে তিনি অনেকটা সফল হয়েছেন। মিষ্টি হাসি ও সৌন্দর্যগুণে দর্শকদের কাছেও সুপরিচিতি লাভ করেছেন। বর্তমানে এ লাক্সকন্যা বিশেষ দিবসের নাটককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ কারণে ধারাবাহিক নাটকে তাকে নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বিজ্ঞাপনচিত্রে নিয়মিত মডেল হচ্ছেন তিনি। মেহজাবিন বলেন, 'আপাতত কোনো ব্যস্ততা নেই। তাই পরিবারকে সময় দিচ্ছি। কিছু কিছু কাজের প্রস্তাব আসছে। সেগুলোর চিত্রনাট্য দেখছি।'মিজানুর রহমান মেহজাবিন চৌধুরীদর্শকপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী বৃষ্টিতে ভিজতে দারুণ পছন্দ করেন। মেঘলা আকাশ তার মনকে ভাবিয়ে তোলে। বৃষ্টির টাপুর-টুপুর শব্দ তাকে আরো বেশি আবেগী করে। বৃষ্টির দিনগুলোতে তিনি একাকী গুনগুনিয়ে গান করেন। মেহজাবিন জানান, বর্ষাকাল চলে গেলেও এখনো মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিস্নাত পরিবেশ তিনি খুবই উপভোগ করছেন। তবে অধিক বৃষ্টি হলে ঢাকা শহরের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়ে। রাস্তায় চলাচল করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুনজর দেয়া আবশ্যক বলে মনে করেন তিনি।
এবারের ঈদটা মেহজাবিনের জন্য অনেকটা স্পেশাল ছিল। কারণ, তার অভিনীত বিশেষ টেলিছবি 'বড় ছেলে' নিয়ে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে মেহজাবিন বলেন, 'ঈদের কাজগুলো দর্শকদের জন্যই করা হয়। যখন কাজের জন্য প্রশংসা পাই, তখন খুব ভালো লাগে। এত কাজের মধ্যে যখন কেউ একটা নির্দিষ্ট কাজকে ভালো বলে, তখন নিজেকে নিয়ে গর্ব হয়। একটি ছেলের গল্প নিয়ে এর কাহিনী আবর্তিত হয়েছে। তাই প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তবা আমার চরিত্রের খুব একটা গুরুত্ব থাকবে না। তবে যখন কাজ শুরু হলো, তখন বুঝলাম এর প্রতিটি চরিত্রের গুরুত্ব-ই সমান।'
টেলিছবিটির শেষ দৃশ্যে অনেক দর্শক-ই কেঁদেছেন। দৃশ্যটি ধারণের অভিজ্ঞতাটি কেমন ছিল? এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেহজাবিন বলেন, 'শেষ দৃশ্যের জন্য আমাদের হাতে খুব কম সময় ছিল। সূর্যাস্ত হতে যাচ্ছিল। তাই আমাদের তাড়াতাড়ি শট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হয়েছিল। আমি আর অপূর্ব ভাই নিজেদের মধ্যে দৃশ্যটি আলোচনা করে শট দেই। মজার ব্যাপার হলো, যখন আমরা সংলাপ বলা শুরু করলাম, তখন এতটাই গভীরে গিয়েছিলাম যে কান্না চলে এসেছিল। তাই ওই দৃশ্যে আমাকে গি্লসারিনও ব্যবহার করতে হয়নি। শুধু তাই নয়, এনজি শটও লাগেনি। শট দেওয়ার পরও আমি কাঁদছিলাম।'
এখন কী নিয়ে ব্যস্ত আছেন? মেহজাবিন বলেন, 'আপাতত কোনো ব্যস্ততা নেই। পরিবারকে সময় দিচ্ছি। কিছু কিছু কাজের প্রস্তাব আসছে। সেগুলোর চিত্রনাট্য দেখছি।' আপনার সর্বশেষ বিজ্ঞাপন কোনটি? জবাবে মেহজাবিন বলেন, "কয়েকদিন আগে ইউরো লেমনজির একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছি। এতে 'ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি' বিজয়ী বাঁধন আমার সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়েছেন। এতে আমি নিজের চরিত্রেই অভিনয় করেছি। অন্যদিকে বাঁধনকে একজন উঠতি ক্রিকেটার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিজ্ঞাপনে একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমার লক্ষ্য অস্কার জেতা। আর ক্রিকেটার হিসেবে বাঁধনের লক্ষ্য বিশ্বকাপ জেতা। লক্ষ্য পূরণের এ কঠিন রাস্তায় ইউরো লেমনজি আমাদের আরও উদ্যমী করে তোলে। এমনই থিম নিয়ে এটি নির্মিত হয়েছে।"
ধারাবাহিক নাটকে মেহজাবিনকে দেখা যায় না বললেই চলে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি সব সময় খ- নাটকে অভিনয় করতে পছন্দ করি। কারণ খ- নাটক স্বল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ধারাবাহিক নাটকের ক্ষেত্রে মাসের পর মাস শুটিং করতে হয়। তাছাড়া ধারাবাহিকে গল্পের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে না। এ কারণে দর্শক দিন দিন ধারাবাহিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তাই আমিও ধারাবাহিক থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছি।'
আপনি নাকি আপনার নামের বানান নিয়ে বিভ্রান্তিতে রয়েছেন? এ প্রসঙ্গে মেহজাবিন বলেন, 'আমার নামের ইংরেজি বানান নিয়ে খুব বিভ্রান্তিতে আছি। আমার নামের বানান 'গবযধুধনরবহ'। কিন্তু অনেকেই এটি ভুলভাবে লিখে। ভুল বানানের কারণে গুগল অথবা ইউটিউবে সার্চ করলে আমার কাজ খুঁজে পাওয়া যায় না।'
কিছুদিন আগে আপনার ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়েছিল। কীভাবে ফিরে পেয়েছেন? মেহজাবিন বলেন, 'একটি আইটি টিম ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এ বিষয়ে আমাকে সাহায্য করেছে। যে হ্যাকড করেছে, তাকে জেলেও যেতে হয়েছে।' তিনি হ্যাকারদের সাবধান করে বলেন, 'এরপর কেউ যদি আবার আমার ফেসবুক হ্যাকড করার চেষ্টা করে, তাহলে তাকেও জেলে যেতে হবে।' মেহজাবিন তার ফেসবুকবন্ধুদের অনুরোধ করে আরও বলেন, 'হ্যাকার আমার সব বন্ধুদের ফেসবুক থেকে ডিলিট করে দিয়েছে। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, আপনারা ফেসবুকে আমাকে একটু নক করবেন অথবা নতুন করে ফ্রেন্ড রিক্যুয়েস্ট পাঠাবেন।'
মেহজাবিনের একটা অক্ষেপ রয়েছে। শত চেষ্টা করেও তিনি নিজেকে চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। ইতিমধ্যে কয়েকজন স্বনামধন্য পরিচালকের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে ছবিগুলো তার হাত ছাড়া হয়ে গেছে। কিন্তু চিত্রনায়িকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই মেহজাবিন ২০০৯ সালে লাক্সসুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। অভিনয়-মডেলিংয়ে পরিপূর্ণ দক্ষতা ও আকর্ষণীয় সৌন্দর্য্যগুণের কারণে তিনি প্রতিযোগিতায় শীর্ষ স্থান অধিকার করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নন্দিত নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলুর 'ওয়ারিশ' ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পান। ২০১০ সালে ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অর্ধযুগ অতিক্রম করলেও পরিচালক এর শুটিং শুরু করতে পারেননি। এরপর স্বপন আহমেদের 'পরবাসিনী' ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিছুদিন তিনি এ ছবির শুটিংও করেছিলেন। তবে পরিচালকের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ছবিটি থেকে সরে দাঁড়ান। অন্যদিকে, বছর দুয়েক আগে এ লাক্সকন্যা আরেকটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। ছবিটি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন বিশিষ্ট নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। কিন্তু পরবর্তিতে এ ছবি থেকেও নিজেকে গুটিয়ে নেন মেহজাবিন। সবমিলিয়ে চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ার নিয়ে অনেকটা হতাশার মধ্যে রয়েছেন তিনি। তবে একেবারে আশাহত নন। তিনি মনে করেন, একদিন ঠিকই সুবর্ণ সুযোগটি তার হাতের মুঠোয় ধরা দেবে। আর সে অপেক্ষাই তিনি দিন গুনছেন।
চট্টগ্রামের মেয়ে মেহজাবিন লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ইফতেখার আহমেদ ফাহমির 'তুমি থাকো সিন্ধুপারে' নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। এরপর 'মাঝে মাঝে তব দেখা পাই', 'কল সেন্টার', 'মেয়ে শুধু তোমার জন্য', 'আজও ভালোবাসি মনে মনে', 'হাসো আনলিমিটেড'সহ শতাধিক জনপ্রিয় নাটক দর্শকদের উপহার দিয়েছেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin