ইমাম সিরাজুল ও আলমগীরের পরিকল্পনায় রংপুরে হামলাটিটু রায় গ্রেপ্তার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা পরিদর্শনরংপুর প্রতিনিধি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মঙ্গলবার রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত্ম হিন্দু এলাকা পরিদর্শন করেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় পুলিশের মহাপরিচালক এ কে এম শহীদুল হকও উপস্থিত ছিলেন -যাযাদিসলেহশাহ মসজিদের ইমাম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী আলমগীরের পরিকল্পনাতেই রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় হিন্দু বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, ঘটনার ৪ দিন আগে পাগলাপীর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এক বৈঠকে চূড়ান্ত্ম করা হয় পরিকল্পনা। এরপর শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয়দের সহায়তায় বহিরাগত কয়েক হাজার মানুষ হামলা চালিয়ে পরিকল্পনা বাস্ত্মবায়ন করে। ঘটনার দিন রাতে সিরাজুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও, এখনো পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত আলমগীর।
৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় পাগলাপীর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সলেহশাহ মসজিদের ইমাম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী আলমগীরের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন বৈঠকে বসে পাগলাপীর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামসহ
হস্থানীয়দের সঙ্গে। সেই বৈঠকের বিষয়বস্ত্মু ছিল টিটু রায়ের ফেসবুক পোস্ট। তিন ঘণ্টা পর রাত ৯টায় শেষ হয় বৈঠকটি।
এদিকে পরিকল্পনার অংশহিসেবে বৈঠকের আগে পাগলাপীর বাজারের একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে টিটুর প্রোফাইলে শেয়ার করা পোস্টটি প্রিন্ট দেন আলমগীর। এরপর পাশের একটি দোকান থেকে সেটি ফটোকপি করা হয়।
এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম জানান, ৬ নভেম্বর হঠাৎ করেই সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন তাকে ফোন দিয়ে জানান, জরম্নরি একটি বিষয় নিয়ে বৈঠকের দরকার। এরপর তিনি সবাইকে পাগলাপীর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসতে বলেন।
রফিকুল ইসলাম আরও জানান, ১০ তারিখে মানববন্ধনের আগে ৭ তারিখে আরেকটি মানববন্ধন করা হয়। সেই মানববন্ধন শেষে কিছু সময়ের জন্য রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছিল। পরে পুলিশের অনুরোধে সেখান থেকে সরে যায় এলাকাবাসী। সেই মানববন্ধনটিরও নেতৃত্ব দেন সিরাজুল ইসলাম এবং আলমগীর। মানববন্ধনের পর পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেয়া হলেও তারা এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
এদিকে ৭ তারিখের মানববন্ধনের পর ১০ তারিখে মানববন্ধনের আয়োজকও সিরাজুল ইসলাম এবং আলমগীর। ১০ তারিখের মানববন্ধনের দুই দিন আগে পাশের একটি দোকান থেকে আলমগীরের নামে মাইক ভাড়া নেয়া হয়।
আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার দোকানে গেলেও দোকানটি বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন বেশিরভাগ হামলাকারীর হাতেই ছিল লাঠিসোটা ও পেট্রল ভরা বোতল। এদিকে পলাতক আলমগীরকে ধরতে পারলে এ ঘটনা সম্পর্কে অনেক গুরম্নত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারণা স্থানীয়দের।

টিটু রায় গ্রেপ্তার
এদিকে যার বিরম্নদ্ধে ফেসবুকে 'ধর্ম অবমাননার' অভিযোগ তুলে রংপুরে হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দেয়া হয় সেই টিটু রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
রংপুর সদর উপজেলার ঠাকুরপাড়া গ্রামে মঙ্গলবার পোড়ানো বাড়িঘর পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'টিটু রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টিটু দোষী হলে তার বিরম্নদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।'
টিটুকে নীলফামারী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলস্না ইউনিয়নের চিড়াভেজা গোলস্না এলাকায় টিটু তার স্ত্রীর এক আত্মীয়বাড়িতে ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তাকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
টিটু ওই গ্রামের খগেন রায়ের ছেলে। তিনি একজন গ্রাম্য কবিরাজ বলে তার মায়ের ভাষ্য। তার বিরম্নদ্ধে ফেসবুকে 'ধর্ম অবমাননার' অভিযোগ ওঠে গত মাসে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'শুনেছি টিটু লেখাপড়া জানেন না। তিনি নাকি আট-দশ বছর আগে থেকে বাড়ি ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ গিয়ে থাকেন। পুলিশ ঘটনা তদন্ত্ম করছে। এটা আসলে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা। এ জন্য এ সব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। দেশে ষড়যন্ত্র চলছে।'
ফেসবুকে টিটুর স্ট্যাটাস সম্পর্কে জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেছেন, 'ফেসবুকে তার দেয়া ধর্ম অবমাননার স্ট্যাটাস খুঁজে পাওয়া যায়নি। এলাকায় বিভ্রান্ত্মিকর তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।'
টিটুর মা জিতেন বালা বলেন, 'আমার ছেলে কোনোদিনও স্কুলে যায়নি। সে গ্রাম্য কবিরাজ। জীবিকার সন্ধানে দশ বছর আগে এলাকা ছাড়ে টিটু। তবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে তার।'
এ ঘটনায় গঙ্গাচড়া থানার এসআই রেজাউল করিম ও কোতোয়ালি থানার এসআই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছেন। এ সব মামলায় দুই হাজারের বেশি লোককে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ১২৪ জনকে। আর জেলা প্রশাসন গঠন করেছে একটি তদন্ত্ম কমিটি।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close