পূর্ববর্তী সংবাদ
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনআওয়ামী লীগে কোন্দল বিএনপিতে এককপ্রার্থীআ'লীগের প্রার্থীর পাশাপাশি তাদের মহাজোটের শরিক দলগুলোর প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের মনোনয়ন পাওয়ার জোর তৎপরতা চালাচ্ছেনরফিক মজিদ শেরপুর শেরপুর-১ (সদর)প্রাচীনতম জনপদ শেরপুর জেলায় ৫ উপজেলা নিয়ে ৩টি সংসদীয় আসন। এর মধ্যে শেরপুর-১ আসন গঠিত হয়েছে একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন সম্বলিত সদর উপজেলা নিয়ে। এখানে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৫২ হাজার।
ইতিপূর্বের তিনটি নির্বাচনে এ আসন বিএনপি জোট সঙ্গি জামায়াতকে ছেড়ে দিলেও এবার তা হচ্ছে না। এখানকার জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ কামারম্নজ্জামানের যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি হওয়ার পর এবার বিএনপির একক ও শক্তিশালী প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং দলের দুর্দিনের কা-ারী হিসেবে পরিচিত
মো. হযরত আলীর পথ

পরিষ্কার হয়েছে।
অপরদিকে এখানে টানা ৪ বার মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়ে আসছেন বর্তমান সাংসদ, জাতীয় সংসদের হুইপ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আতিউর রহমান আতিক। অন্যবারের মতো এবারও আওয়ামী লীগের এই প্রার্থীর পাশাপাশি তাদের মহাজোটের শরিক দলগুলোর প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের মনোনয়ন পাওয়ার জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। জোটের পাশাপাশি দলে এবার শক্তিশালী মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান, সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, কেন্দ্রীয় পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শেরপুর জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ছানুয়ার হোসেন ছানু। তিনি ইতিমধ্যেই মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং গ্রামে-গঞ্জে, শহর ও হাট-বাজারে স্স্নোগান উঠেছে 'আতিক ছাড়া নৌকা চাই, নৌকার মাঝি ছানু ভাই'। একই সঙ্গে তার সাথে একাট্টা হয়ে মাঠে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক পৌর মেয়র ও বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির রম্নমান, উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক ভিপি বায়োজিত হাসান, জেলা যুবলীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান হাবিবসহ আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা।
অন্যদিকে মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের ঘনিষ্ঠ ও প্রিয়পাত্র হিসেবে পরিচিত জেলা জাপার সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস উদ্দিনকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে আসনটি ছেড়ে দেয়ার জন্য এবারও চাপ থাকবে। আওয়ামী লীগের কাছে মহাজোটের আরেক শরিক জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন তিনবারের এমপি শাহ রফিকুল বারী চৌধুরীর জন্য মনোনয়ন চাইবেন। এ ছাড়া মহাজোটের আরেক শরিক দল হাসানুল হক ইনু'র জাসদের অন্যতম নেতা ও জেলা জাসদের সভাপতি এবং গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মনিরম্নল ইসলাম লিটনের জন্য এই আসনটি ছাড় চাইবেন বলে জেলা জাসদ সূত্রে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে এ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লড়াইয়ে রয়েছেন মহাজোটের অন্যতম আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় পার্টি (জেপি-মঞ্জু) এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (ইনু)। তবে শেষ পর্যন্ত্ম মহাজোট থেকে ৪ বারের ও বর্তমান এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিউর রহমান আতিকের ভাগ্যেই জুটতে পারে মহাজোটের মনোনয়ন। তবে কোনো পরিবর্তন হলে বা জোটগত নির্বাচন না হলে উলেস্নখিত সব দলের প্রার্থীরা এককভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে পাল্টে যাবে চিত্র।
এসবের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাঁধে রয়েছে কোন্দলের বাড়তি চাপ। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকার কারণে এ দলের মধ্যে অন্ত্মর্দ্বন্দ্ব, কোন্দল ও গ্রম্নপিং বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও নেতারা দলের মধ্যে গ্রম্নপিং নেই বলে দাবি করছেন। কিন্তু গত পৌরসভা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে জেলা সদরে আওয়ামী লীগ দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দলীয় কর্মসূচিও পৃথকভাবে পালিত হচ্ছে। প্রকাশ্য মিটিংয়ে এক গ্রম্নপ অন্য গ্রম্নপ সম্পর্কে অশালীন ভাষায় বক্তব্য দিতেও দ্বিধা করছেন না।
৩৭ বছর আগে এ আসনটি বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। বিএনপি প্রথম ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিশিষ্ট সাংবাদিক খন্দকার আব্দুল হামিদের মাধ্যমে (১৯৯৬ সালের ১৫ জানুয়ারির নির্বাচন বাদে) একবার জয়ের স্বাদ পেয়েছিল। নানান সংকটে পড়ে এই আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়ে যায় এবং আওয়মী লীগের দুর্গে পরিণত হয়। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত্ম টানা ৪ বার এ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের আতিউর রহমান আতিক। ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকায় জনসম্পৃক্তার কারণে দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন তিনি।
দলের মধ্যে আতিউর রহমান আতিকের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ছানোয়ার হোসেন ছানু ছাড়াও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও গোপালগঞ্জের বধূ হিসেবে পরিচিত ফাতেমাতুজ্জোরা শ্যামলী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শামসুন্নাহার কামাল ও সাবেক গভর্নর মরহুম আনিসুর রহমানের ভাতিজা জনস্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম মঞ্জু।
অপরদিকে এবার একক দলীয় শক্তিশালী প্রার্থী পেয়ে অনেকটা উচ্ছ্বসিত বিএনপির তৃণমূল থেকে শীর্ষ নেতা-কর্মীরা। তবে দলের ভেতর চাপা কোন্দল সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে বলে দলীয় একাধিক নেতা-কর্মীর শংকা রয়েছে। কারণ বিএনপির এখানে বড় ভোট ব্যাংক থাকলেও দল একেবারেই হ-য-ব-র-ল অবস্থায় রয়েছে। এখানে পদের জন্য সবাই লড়লেও দলের জন্য নেতা নেই বলে অনেক তৃণমূল নেতার অভিযোগ। এ ছাড়া গত ৩ বছরের মধ্যে বিএনপির ৪ শীর্ষ নেতার মৃতু্য এবং মামলা মোকদ্দমাসহ কমিটি সংকটের কারণে অঙ্গদলের অবস্থা যেমন সংকটাপন্ন, তেমনি মূল দলেও কমিটি গঠনের খেলা চলছে দীর্ঘদিন। ১১ মাস আগে জানুয়ারিতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেও রহস্যজনক কারণে এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। উপজেলা ও শহর কমিটি ২ বছর ধরে চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে।
এবার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হযরত আলী এ আসনে বিএনপির প্রায় নিশ্চিত প্রার্থী। এ ছাড়াও তরিকত ফেডারেশনের মিজান সরকার দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। এখানে পরপর দু'বার জোটের প্রার্থী হিসেবে এবং একবার দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃতু্যদ-প্রাপ্ত মো. কামারম্নজ্জামান। কামারম্নজ্জামানের ছেলে ওয়াফি মনোনয়ন চাইবেন এমন কথা শোনা গেলেও এলাকায় তার আসা-যাওয়া নেই।

আগামীকাল পড়ুন রাজবাড়ী-১ আসনের (সদর-গোয়ালন্দ উপজেলা)
নির্বাচনী সংবাদ
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close