মেয়র নেই বলে উত্তরে খেই হারাল সড়কবাতি-সিসিটিভি প্রকল্পওযাযাদি রিপোর্ট রাজধানীর সড়কে জ্বলছে এলইডি বাতি -ফাইল ছবিদক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের আদলে ঢাকা শহরে ঝলমলে এলইডি বাতি ও সিসিটিভি স্থাপন করার স্বপ্ন দেখেছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। তার স্বপ্নকে বাস্ত্মবে রূপ দিতে 'ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় এলইডি সড়কবাতি, সিসিটিভি ক্যামেরা ও সিসিটিভি কন্ট্রোল সেন্টার সরবরাহ ও স্থাপন' শীর্ষক প্রকল্প প্রস্ত্মুত করা হয়। ৪৪২ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি অনুমোদনও পেয়ে যায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায়।
কিন্তু মেয়র প্রয়াত হওয়ার পর যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে তার স্বপ্নের প্রকল্পটি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্পটির জন্য ১৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও এই অর্থের ১২১ কোটি ৮৬ লাখ টাকাই খরচ করা হয়নি। মাত্র ৫২ কোটি ১৪ লাখ টাকা খরচের প্রক্রিয়াধীন। 'বাস্ত্মব সমস্যার' কারণে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ১২১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বর্তমান অর্থ-বছরে অব্যয়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে জানিয়ে দিয়েছেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) মেসবাহুল ইসলাম।
প্রয়াত আনিসুল হকের স্বপ্নের প্রকল্পে ছিল, ডিএনসিসির সড়কগুলোতে পাঁচ হাজার সিসি ক্যামেরা ও ৪০ হাজার নতুন এলইডি বাতি স্থাপন করা হবে। একটি কন্ট্রোল রম্নম থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা হবে। নান্দনিক সড়কবাতিগুলোর ওয়ারেন্টি থাকবে অন্ত্মত ১০ বছর।
কিন্তু আনিসুলের প্রয়াণে প্রকল্পটি এভাবে ধাক্কা খাওয়ায় সংশিস্নষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা আক্ষেপ করেন। তারা বলেন, নগরপিতা আনিসুল হক বেঁচে থাকলে দ্রম্নত সময়ে সিদ্ধান্ত্ম নিয়ে হয়তো এডিপির সব অর্থ ব্যয় করে প্রকল্পটি অনেক দূর এগিয়ে নিতেন। অথচ চলতি অর্থবছরে স্বপ্নের প্রকল্পটির অগ্রগতি এখনও 'শূন্য' বলা চলে। ফলে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যেই এলইডি সড়কবাতি ও সিসিটিভি স্থাপনে সংশয় দেখা দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ কুদরত উলস্নাহ বলেন, 'মেয়রের শূন্যতায় প্রকল্পটি বাস্ত্মবায়নে ধীরগতি এসেছে। তবে চলমান রয়েছে। মেয়র থাকলে তিনি আরও দ্রম্নত সময়ে সিদ্ধান্ত্ম নিতে পারতেন, যেটা আমরা করায় দেরি হচ্ছে। তবে এটা মেয়রের স্বপ্নের প্রকল্প। আমরা দ্রম্নত এটা বাস্ত্মবায়ন করব। এ নিয়ে সামনে মিটিং করব।'
প্রকল্পটি বাস্ত্মবায়ন হলে সিটি করপোরেশনের সেবাদাতা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন সহজ করে দেবে স্থাপিত এলইডি লাইট এবং সিসিটিভি। খুব সহজেই অবৈধ পেশা, অবৈধ পার্কিংসহ অবৈধ কার্যকলাপের বিরম্নদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া যাবে। পাশাপাশি নগরবাসীর নিরাপদ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা যাবে।
৩৬টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার আয়তন প্রায় ৮২ দশমিক ৬৩ বর্গকিলোমিটার। এসব এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার সড়ক ও ২৩০ কিলোমিটার ফুটপাত রয়েছে। এ সড়ক-ফুটপাতজুড়ে প্রায় ৪৫ হাজার হাই প্রেসার ও লো- প্রেসার সোডিয়াম এবং টিউবলাইট রয়েছে। এসব সোডিয়াম ও টিউবলাইটের পরিবর্তে আধুনিক, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব এলইডি সড়কবাতি স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রকল্পের আওতায়।
প্রকল্প পরিচালক ও ডিএনসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বিদু্যৎ) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আজাদুর রহমান বলেন, 'স্যার (মেয়র আনিসুল হক) তিন মাস নেই, এটার প্রভাব পড়েছে প্রকল্পে। স্যার বিশ্বমানের প্রযুক্তির সড়কবাতি স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। যার ওয়ারেন্টি হবে ১০ বছর। আমরা স্যারের স্বপ্ন পূরণে কাজ করছি।'
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin