পূর্ববর্তী সংবাদ
অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্পের মুখে ফের অশস্নীল কথা'কেন আমরা নোংরা দেশগুলো থেকে এসব লোককে এখানে নিয়ে আসছি'যাযাদি ডেস্ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনপ্রত্যাশী কয়েকটি দেশের নাগরিকদের নিয়ে আবারও বিদ্বেষপূর্ণ ও অশস্নীল মন্ত্মব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওভাল অফিসে একদল এমপির সঙ্গে অভিবাসন নীতিমালা নিয়ে আলোচনায় বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, 'কেন আমরা নোংরা দেশগুলো থেকে এসব লোককে এখানে নিয়ে আসছি?' হাইতি, এল সালভাদর ও আফ্রিকার দেশগুলো নিয়ে ট্রাম্পের এই অশস্নীল মন্ত্মব্য ছিল। সংবাদসূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট, বিবিসি নিউজ
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্ত্মব্য নিয়ে ডেমোক্রেট-রিপাবলিকান দুই শিবিরেই তীব্র সমালোচনার মধ্যে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের পক্ষে সাফাই গেয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রাজ শাহ জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের কিছু রাজনীতিক বিদেশি দেশগুলোর হয়ে লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইচ্ছা সবসময়ই আমেরিকার জনগণের পক্ষে লড়াই করার। মার্কিন বর্তমান প্রশাসন অন্য অনেক দেশের মতো মেধাভিত্তিক অভিবাসনে আগ্রহী বলেও মন্ত্মব্য মুখপাত্রের।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের দেশকে শক্তিশালী করতে স্থায়ী সমাধানের পথে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, যেন তাদেরই স্বাগত জানানো যায়, যারা আমাদের সমাজে অবদান রাখতে পারবেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে ও আমাদের মহান জাতির সঙ্গে একীভূত হয়ে যেতে পারবেন।
অস্থায়ী, দুর্বল ও বিপজ্জনক পন্থায় নেয়া অভিবাসী; যারা পরিশ্রমী মার্কিনিদের ও বৈধভাবে অভিবাসী হওয়া নাগরিকদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে ট্রাম্প তাদের প্রত্যাখ্যান করতে চান বলেও বিবৃতিতে বলা হয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট পার্টির একদল এমপি দ্বিপক্ষীয় একটি অভিবাসন নীতিমালা নিয়ে কথা বলতে গেলে ট্রাম্প অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ এই মন্ত্মব্য করেন। বৈঠকে ডেমোক্রেট সিনেটর রিচার্ড ডারবিন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ ও মহামারি আক্রান্ত্ম দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি সংক্রান্ত্ম একটি প্রস্ত্মাব প্রেসিডেন্টকে দেন বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো। প্রতু্যত্তরে ট্রাম্প এমপিদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ওইসব দেশ থেকে অভিবাসী না নিয়ে নরওয়ের মতো দেশগুলো থেকে নেয়া। সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, যদিও প্রেসিডেন্টের মন্ত্মব্য নিয়ে পরে তাকে কিছু বলতে শোনা যায়নি।
ওভাল অফিসে বসে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে করা ট্রাম্পের মন্ত্মব্য যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মেরিল্যান্ডের ডেমোক্রেট এমপি এলিজাহ কামিংস টুইটে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্ত্মব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, 'ক্ষমার অযোগ্য এমন মন্ত্মব্যের নিন্দা জানাচ্ছি, যা প্রেসিডেন্টের অফিসের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে।'
একইদলের কৃষ্ণাঙ্গ এমপি সেডরিক রিচমন্ড এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ট্রাম্পের মন্ত্মব্য ফের প্রমাণ করল, তার 'মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন' সেস্নাগান আসলে 'মেক আমেরিকা হোয়াইট এগেইন' এজেন্ডা।
সমালোচনা করছেন রিপাবলিকানরাও। হাইতিয়ান-আমেরিকান একমাত্র সিনেটর উটাহ'র মিয়া লাভ 'নির্দয়, বিভাজিত ও এলিটিস্ট' মন্ত্মব্যের জন্য ট্রাম্পকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের মন্ত্মব্য নিয়ে জানতে চাইলেও ওয়াশিংটনের সালভাদরিয়ান দূতাবাসের মুখপাত্র কোনো মন্ত্মব্য করতে রাজি হননি। আফ্রিকান অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে ট্রাম্পের অশস্নীল মন্ত্মব্য এবারই প্রথম নয়। গত বছরের জুনে অভিবাসন নিয়ে এক বৈঠকে ট্রাম্প হাইতির নাগরিকদের 'সবারই এইডস আছে' মন্ত্মব্য করেছিলেন বলে তিন সপ্তাহ আগে 'নিউইয়র্ক টাইমস' এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল।
চলতি সপ্তাহে এক ঘোষণায় ট্রাম্প প্রশাসন আগামী বছরের মধ্যে তিন দশক ধরে অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বাস করা সালভাদরের দুই লাখ লোককে দেশে ফিরে যেতে সময় দিয়েছে। ১৯৯১ সালে দেশটিতে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের প্রতিক্রিয়ায় সেখানকার নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের এই সুযোগ মিলেছিল। গত সোমবার এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তিন দশক আগে সালভাদরের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত্ম বেশির ভাগ অবকাঠামোর মেরামত সম্পন্ন হয়েছে, তাই দেশটির নাগরিকদের আর যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ীভাবে বসবাসের প্রয়োজনীয়তা নেই। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ীভাবে বসবাস করা হাইতি ও নিকারাগুয়ার নাগরিকদের টেম্পোরারি প্রটেক্টেট স্ট্যাটাসও (টিপিএস) প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin