পূর্ববর্তী সংবাদ
গোপালগঞ্জে অবাধে নিধন হচ্ছে নানা প্রজাতির অতিথি পাখিনির্বিচারে পাখি শিকারের ফলে দেশিয় পাখির সংখ্যাও দিন দিন হ্রাস পাচ্ছেএস এম নজরম্নল ইসলাম গোপালগঞ্জ গোপালগঞ্জে বিক্রির জন্য অতিথি পাখি হাতে এক শিকারি -যাযাদিগোপালগঞ্জে নিরাপত্তা নেই, ব্যাপকহারে নিধন হচ্ছে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। এসব পাখি জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ধরা পড়ছে দেশি প্রজাতির পাখিও। শিকারিরা জেলার বিভিন্ন বিল ও জলাশয়ে ফাঁদ পেতে প্রতি রাতে ধরে নিচ্ছে হাজার হাজার পাখি। এভাবে নির্বিচারে পাখি শিকারের ফলে বিল বাঁওড়বেষ্টিত গোপালগঞ্জে দেশীয় পাখির সংখ্যাও দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।
গোপালগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় রয়েছে ছোট বড় শতাধিক বিল, বাঁওড় ও অসংখ্য জলাশয়। এর মধ্যে দুইটি বড় বিল হচ্ছে জেলার মুকসুদপুর উপজেলার চান্দার বিল ও কোটালীপাড়া উপজেলার বাঘিয়ার বিল। এসব বিল ও বাঁওড় এলাকায় রয়েছে শত শত পাখি শিকারি।
এলাকাবাসী ও পাখি শিকারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক একটি ফাঁদে একজন শিকারির সঙ্গে দুই-তিনজন সহযোগী থাকে। তারা পাখির ভাষার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বাঁশি বাজিয়ে পাখিদের ডাক দেয়। বিলে জাল দিয়ে ফাঁদ পাতে। পাখি ডাকে সাড়া দিয়ে এসে ফাঁদের স্থানে পড়লেই শিকারির জালে জড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি শিকারি প্রতি রাতে ৫০ থেকে ১০০টি পাখি শিকার করে। এরমধ্যে হাঁস পাখি, কালকুচ, চেগা, ভিলভিলি, ঢুংখোর, বকসহ বিভিন্ন জাতের পাখি শিকার হয়ে থাকে।
এসব পাখি জেলার সদর উপজেলা ও কাশিয়ানী উপজেলার সাতপাড় বাজার, বৌলতলী বাজার, বলাকইড় বাজার, বনগ্রাম বাজার, সিংগা বাজার, হাতিয়াড়া বাজার, রাহুথর বাজার, উজানী বাজারসহ অন্ত্মত ১৫টি স্থানে বিক্রি হয়ে থাকে।
কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুলস্নাপুর ইউনিয়নের নিতাই বাজার, কান্দি ইউনিয়নের ধারাবাশাইল, পিঞ্জুরী ইউনিয়নের তারাইল বাজার, বরইভিটা বাজার, কলাবাড়ি ইউনিয়নের রামনগর বাজারসহ অন্ত্মত ১২টি স্থানে এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের তাড়াইল বাজার, জামাই বাজার, বাঁশবাড়িয়া বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে পাখি বিক্রি হয়ে থাকে।
পাখি কিনে নিয়ে আসা পদ্মবিলা গ্রামের এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'সাতপাড় বাজার থেইকা চারটি হাঁস পাখি কিনছি। পেত্যেকটি ৬০০ টাকা করে। এখানে শুধু হাঁস পাখি না, চেগা, কালকুচ, ঢুংখোরসহ মেলা (অনেক) ধরনের পাখি পাওয়া যায়। শুধু আমি না আশপাশ গ্রামের মানুষ খুব ভোরে আসে পাখি কিনতে।'
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সদর উপজেলার বনগ্রামের এক পাখি শিকারি বলেন, 'পেটের দায়ে আমরা ঠা-া উপেক্ষা করে রাত জাইগা বিল পাথারে পাখি ধরি। সে পাখি আবার মানুষের কাছে বিক্রি কইরা সংসার চালাই। আমরা হাঁস পাখি ৬০০ থেকে এক হাজার, কালকুচ ৩০০ থেকে ৫০০, চেগা পাখি ১০০ থেকে দেড়শ, ভিলভিলি ১০০ থেকে দেড়শ, ঢুংখোর দেড়শ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি কইরা থাকি।' এক প্রশ্নের জবাবে ওই শিকারি বলেন, 'স্থানীয় বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ফরিদুজ্জামানকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে পাখি ধরার অনুমতি পাইছি। তারপরও বিক্রির সময় স্থানীয় প্রভাবশালীরা ও প্রশাসনের লোকজন আমাদের ভয় দেখায়। তাদের কিছু দিতে হয়। এই জন্য আমরা দামটা একটু বেশি নেই। এসব কারণে অনেক শিকারিও পাখি ধরা বাদ দিছে।'
গোপালগঞ্জ বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, 'পশু-পাখি সংরক্ষণ আমাদের কাজ। গোপালগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে পাখি বিক্রি হয় শুনেছি। কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে বের হতে পারিনি। তারপরও ভেবেছি পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।'
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, 'বিষয়টি আমি শুনেছি। ইতোমধ্যে জেলার পাঁচ থানার ওসিদের এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশা করি, দ্রম্নত পাখিধরা ও বিক্রি কমে যাবে।'
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেন, জেলার বিভিন্ন বিলে পাখি শিকার এবং সেগুলো হাট-বাজারে গোপনে বিক্রি হওয়ার সংবাদ পেয়েছেন। ইতোমধ্যে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin