ভালোবাসার দিন আজযাযাদি রিপোর্ট নিত্যদিনের মতো আজও ভোরে আলোর নাচন তুলে সূর্য মেলবে চোখ। ফাগুন হাওয়ায় দুলবে তরম্ন-পলস্নব। তবে সব ছাপিয়ে হৃদয় মন্দিরে বাজবে প্রেমের সুর। আজ সারাদিন শুধুই ভালোবাসার। আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস- ভ্যালেন্টাইন ডে।
কবিগুরম্ন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় 'আমার জীবনে তুমি বাঁচো ওগো বাঁচো/ তোমার কামনা আমার চিত্ত দিয়ে যাঁচো' অথবা 'তোমরা যে বল ভালবাসা ভালবাসা/সখী ভালবাসা কারে কয়'।
কবির বাঁচা মরার এবং চিত্র দিয়ে ভালোবাসা বোঝাবোঝির চিরন্ত্মন বোধ আজ হয়ত একটু বেশিই অনুভূত হবে গোলাপ বিনিময় ও আবেগের ভাষায়।
বসন্ত্ম বাতাসে হৃদয়ের মিথস্ক্রিয়ায় সারা বিশ্বের প্রেমপিয়াসী যুগলরা বছরের এই দিনটিকেই বেছে নেয় মনের গহিনের কথকতার কলি ফোটাতে।
চ-িদাসের অনাদিকালের সেই সুর-'দুঁহ করে দুঁহ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া/আধতিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া/সখী কেমনে বাঁধিব হিয়া'। এই আবেদনও আজ বাজবে কারও কারও হৃদয়ে।
প্রেমদেব কিউপিড এদিন প্রেমশর বাগিয়ে হৃদয় কন্দরে ঘুরে বেড়াবেন। অনুরাগে পাগল প্রেমিক-প্রেমিকারা পরাণ তাড়িত হয়ে বিদ্ধ হবে দেবতার বাঁকা ইশারায়। তাদের মনে লাগবে দোলা, ভালোবাসার রঙে রাঙাবে হৃদয়। ভালোবাসা উৎসবে মুখর হবে জনপদ। সারা বিশ্বের মতোই বাংলাদেশেও আজ উদযাপিত হবে দিবসটি।
ডিজিটাল যুগের তরম্নণ-তরম্নণীরা এই দিবসটি ঘিরে ব্যস্ত্ম হয়ে ওঠবে। প্রযুক্তির কল্যাণে হাইটেক ডিজিটালের যুগে মুঠোফোনের ক্ষুদ্র বার্তা, ই-মেইল অথবা ফেসবুকে পুঞ্জ পুঞ্জ প্রেমকথার কিশলয় পলস্নবিত হয়ে উঠবে আজ রাত ১২টার পর থেকেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, রবীন্দ্র সরোবরসহ রাজধানী ঢাকার আনাচে কানাচে এমনকি সারাদেশের পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্রগুলো সরব হবে প্রেমিক-প্রেমিকাদের পদচারণায়। হয়ত কবির ভাষায় একে অন্যকে বলবে- 'তোমাকে ভালবাসি। ভালোবেসে সখী নিভৃত যতনে আমার নামটি লিখো তোমার মনের মন্দিরে'।
পশ্চিমা দুনিয়ায় ভ্যালেন্টাইন ডে বা প্রেম উৎসব তারম্নণ্যের মাঝে এক অদেখা ভুবনের উত্তেজনা ছড়ায়। এদিন চকোলেট, পার্ফিউম, গ্রিটিংস কার্ড, ই-মেইল, মোবাইলের এসএমএস প্রেমবার্তা, আংটি, পোশাক, বইয়ের ভেতর রাখা গোলাপের ইশারা বিনিময় হয়ে উঠবে তরম্নণ-তরম্নণীদের প্রথম অনুসঙ্গ।
হয়ত আরও থাকবে নীল খামে হালকা প্রেমের আকুতি, একটি গোলাপ ফুল, ছোট্ট কোনো উপহার, আর ছোট্ট একটি চিরকুট। এতে দু'ছত্র গদ্য বা পদ্যে প্রেমের ঊর্মি- 'ইউ স্টেপ ইনটু মাই হার্ট, টার্নিং ইট ফ্রম স্টোন' অথবা 'তুমি আমার সবটুকু গান/ ঝড়ের পরে একটু চুমু/তাতে আছে সবটুকু প্রাণ'।
আমাদের দেশে ১৯৯৪ সাল থেকে দিবসটি বেশ ঘটা করে পালিত হয়ে আসছে। এদিন শুধু প্রেমবিনিময় নয়, প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে গোপনে বিয়ের হিড়িকও পড়ে। রাজধানীর উদ্যান, বইমেলা, কফিশপ, ফাস্টফুড শপ, লং ড্রাইভ অথবা নির্জন গৃহকোণে একান্ত্ম নিভৃতে কাটান প্রেমকাতুর তরম্নণ-তরম্নণীরা।
দিবসটি শুধু তরম্নণ-তরম্নণীদের নয়, পিতামাতা-সন্ত্মানদেরও ভালোবাসার বড় মাত্রায় উদ্ভাসিত করে। অনেকে বলেন, প্রেমের কোনো দিন থাকে না, ভালোবাসলেই ভ্যালেন্টাইন, সেলিব্রেট করলেই ভ্যালেন্টাইন ডে।
অনেকের মতে, সাধু ভ্যলেন্টাইনের নামানুসারে পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রম্নয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে ঘোষণা করেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close