কোটা আন্দোলনফেসবুকে গুজব রটনাকারী ব্যক্তিদের খুঁজছে পুলিশযাযাদি রিপোর্ট বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে অজ্ঞাতসংখ্যক লোকজনের বিরম্নদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, মৃতু্য ও রগ কাটার মতো মিথ্যা তথ্য প্রচার করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে যারা সহিংস করে তুলেছে তাদের খুঁজে বের করার কাজ চলছে।
পুলিশ বলছে, এজন্য তারা প্রাথমিকভাবে ফেসবুকের দুইশটির মতো অ্যাকাউন্টকে সন্দেহ করেছিলেন। কিন্তু গত দুদিনের তদন্ত্মের পর এই সংখ্যা এখন প্রায় ৩০টিতে নেমে এসেছে।
কর্মকর্তারা বলেন, এই অ্যাকাউন্টগুলো পর্যালোচনা করে তারা এখন উস্কানিমূলক তথ্য প্রচারকারী ও গুজব রটনাকারীদের খুঁজে বের করবেন। এসবের মধ্যে রয়েছে ফেসবুক পেজ, ফেসবুকে ও টুইটারে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এবং কিছু অনলাইন পোর্টাল।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকার রমনা থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের পক্ষ থেকে মামলাটি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে কারও নাম-ঠিকানা উলেস্নখ করা হয়নি। এর সাথে বিভিন্ন ফেসবুক আইডির নাম ও পোস্টও যুক্ত করা হয়েছে।
সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আন্দোলনের ডাক দেয়া একটি গণতান্ত্রিক বিষয়। কিন্তু কিছু লোক যখন মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে ফেসবুকের অপব্যবহার করে সহিংসতায় প্ররোচনা দেয় তখন তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব কনটেন্ট শেয়ার হচ্ছে, আপলোড করা হচ্ছে কিংবা সেখানে যেসব মন্ত্মব্য করা হচ্ছে সেগুলোর উপর নজর রাখার জন্য এই ইউনিটের রয়েছে বিশেষ একটি বিভাগ। এই বিভাগের কর্মকর্তারা এরকম দুটো ঘটনার কথা উলেস্নখ করেছেন।
তারা বলছেন, পুলিশের গুলিতে আবু বকর নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের মৃতু্য এবং আন্দোলনের বিরোধিতা করায় এক ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়েছে এরকম মিথ্যা খবর রটিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে সহিংস করে তোলা হয়েছিল।
নাজমুল ইসলাম বলেন, আবু বকরের মৃতু্য হয়েছে বলে ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয়েছে কিন্তু এই খবরের কোনো সত্যতা নেই। তিনি শুধু তার চোখের কোণে সামান্য আঘাত পেয়েছেন।
তিনি বলেন, এছাড়াও আন্দোলনের বিরম্নদ্ধে কথা বলায় একজন ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়েছে বলে একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এই খবরেরও কোনো ভিত্তি নেই।
যার পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়েছে বলে রটানো হয়েছে, সেই ছাত্রীই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছেন, রাগ উঠে যাওয়ায় তিনি জানালায় লাথি মেরেছিলেন এবং তখন তার পা কেটে যায়, বলেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
পুলিশ বলছে, আবু বকরের মৃতু্যর মিথ্যা সংবাদ ছড়ানোর পরেই আন্দোলনকারীরা সহিংস হয়ে উঠে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে ঢুকে সেখানে ভাঙচুর চালায়।
নাজমুল ইসলাম বলেন, এসব মিথ্যা খবর রটিয়ে যারা হিংসাত্মক কার্যকলাপে প্ররোচনা জুগিয়েছে তাদের খুঁজে বের করারই কাজ চলছে।
তিনি জানান, গুজব রটানোর অভিযোগে প্রথমে তারা ফেসবুকের দুইশটির মতো অ্যাকাউন্টকে সন্দেহ করেছিলেন। সেসব প্রোফাইল তারা খতিয়ে দেখেছেন। দেখার চেষ্টা করেছেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার লক্ষ্যে কারা কারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব মিথ্যা সংবাদ রটিয়েছে। এখন এই অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ থেকে ৩০টির মতো।
'আমরা এখন এই আইডিগুলো নিয়ে কাজ করছি। এসবের পেছনে আসলেই যারা আছে তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে', বলেছেন সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম।
কিন্তু ফেসবুকে তো বহু মানুষ এসব ভিডিও ও খবর শেয়ার করেছে, যাদের অনেকেই না বুঝে সেটা করেছেন, তাদের মধ্য থেকে কীভাবে অভিযুক্তদের খুঁজে বের করা হবে- এই প্রশ্নের জবাবে নাজমুল ইসলাম বলেন, 'অনেকেই শেয়ার করেছেন স্বাভাবিকভাবে যেরকমটা ফেসবুক ব্যবহারকারীরা করে থাকেন। কিন্তু যারা একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এই কাজটা করেছে তাদের আমরা খুঁজছি। এসব ভিডিও বা খবর যারা প্রথম দিয়েছে অর্থাৎ এসবের উৎস খুঁজে বের করে তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।'
পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, এই কাজটি তাদের অনেক সতর্কতার সাথে করতে হচ্ছে। কারণ ফেক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে একজন আরেকজনের নাম ব্যবহার করেও এটা করতে পারেন। সে কারণে এর পেছনের প্রকৃত লোকগুলোকেই তারা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close