শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজযাযাদি রিপোর্ট শেখ হাসিনাআওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩৮তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। ১৯৮১ সালের এ দিনে দীর্ঘ ৬ বছরের নির্বাসন শেষে তিনি দেশের মাটিতে ফিরে আসেন। তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ভারতের রাজধানী নয়াদিলিস্ন থেকে কলকাতা হয়ে ঢাকায় নামলে বিমানবন্দরে লাখো মানুষ তাকে স্বাগত জানান। এদিন ঢাকায় ফিরেই বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মানিক মিয়া এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে অংশ নেন শেখ হাসিনা। হৃদয় নিংড়ানো ভাষণ দেন দলের লাখো নেতাকর্মীর উদ্দেশে।
ইতিহাস বলে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যা করা হয়।

হবিদেশে অবস্থানের কারণে ঘাতকদের হাত থেকে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। বিষাদময় এ ঘটনার সময় স্বামী পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়ার কর্মস্থল জার্মানিতে বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। পরে ভারতে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি।
সেদিন জনতার আনন্দাশ্রম্নতে অবগাহন করে শেরেবাংলা নগরে লাখ লাখ জনতার সংবর্ধনায় শেখ হাসিনা বলেছিলেন, 'সব হারিয়ে আমি আপনাদের মধ্যে এসেছি; বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্ত্মবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।' আমার আর হারানোর কিছুই নেই। পিতা-মাতা, ভাই রাসেল সকলকে হারিয়ে আমি আপনাদের কাছে এসেছি, আমি আপনাদের মাঝেই তাদের ফিরে পেতে চাই। আপনাদের নিয়েই আমি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তা বাস্ত্মবায়ন করে বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে চাই, বাঙালি জাতির আর্থ-সামাজিক তথা সার্বিক মুক্তি ছিনিয়ে আনতে চাই।'
উলেস্নখ্য, ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রম্নয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপরই দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরম্ন করেন শেখ হাসিনা। ১৭ মে দেশে ফিরে তিনি আওয়ামী লীগের হাল ধরেন।
আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে বারবারই তাকে ঘাতকদের হামলার শিকার ও কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। কিন্তু রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে জনগণের ভালোবাসায় অভিষিক্ত হয়ে তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পান শেখ হাসিনা। পরিকল্পনা নেন 'রূপকল্প-২০২১' এবং 'রূপকল্প-২০৪১' বাস্ত্মবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত ও আধুনিক সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনের। বর্তমানে সে লক্ষ্যেই কাজ করছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দিবসটি উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি এবং গণতন্ত্র বিকাশে বঙ্গবন্ধু-তনয়া শেখ হাসিনার অবদান অপরিসীম।
দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, শেখ হাসিনার সুন্দর জীবন ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দেশব্যাপী দোয়া, মিলাদ মাহফিল, আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা প্রভৃতি। বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
আজ দুপুর ৩টায়  রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। দলের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে দেশের বরেণ্য নাগরিক ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করবেন। এ ছাড়া যুবলীগের পক্ষ থেকে বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। আনন্দ মিছিলের কর্মসূচি রয়েছে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দিবসটি উপলক্ষে এক বিবৃতিতে দেশ ও জাতির কল্যাণে, গণতন্ত্রের উন্নয়নে ও আধুনিক এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ায় অসামান্য অবদান রাখার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার সুন্দর জীবন ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দেশব্যাপী দোয়া, মিলাদ মাহফিল, বিজয়র্ যালি ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সব স্ত্মরের নেতাকর্মী, সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী ও দেশের সর্বস্ত্মরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close