এক মাসেও খোঁজ মেলেনি নিখোঁজ তিন যুবকেরখাগড়াছড়ি প্রতিনিধি সালাউদ্দিন মহরম আলী বাহার মিয়াখাগড়াছড়ির মহালছড়ি থেকে তিন যুবক নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ একমাস পেরিয়ে গেলেও তাদের হদিস মেলেনি এখনও। অপহরণকারীরা তিনজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর মুক্তিপণ হিসেবে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরও তাদের মুক্তি না দেয়ায় অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ আর দুশ্চিন্ত্মায় দিন কাটছে স্বজনদের। অবশ্য পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার 'ঘটনাটি খতিয়ে দেখা'র কথা বলা হচ্ছে।
গত ১৬ এপ্রিল মহালছড়ির মাইসছড়ি থেকে কাঠ কিনতে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন মাটিরাঙার নতুনপাড়া এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে মো. সালাউদ্দিন (২৮), একই এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মহরম আলী (২৭) ও আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা ট্রাক চালক বাহার মিয়া।
স্বজনরা জানান, সেদিন ১০টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে কাঠ কেনার জন্য ওই তিনজন মাইসছড়িতে যান। দুপুরে তারা খাগড়াছড়ি শহরে আনোয়ার নামের একজনকে মোবাইল ফোনে কাঠের দাম বাবদ টাকা পাঠাতে বলেন। টাকা পাঠানোর পর থেকে তিনজনের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বন্ধ হয়ে যায় তাদের মোবাইল নম্বরও।
এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, সেদিন তার মোটরসাইকেল নিয়ে তিনজন মাইসছড়িতে গাছ কিনতে যান। আর গাছ কেনার টাকা পাঠানোর জন্য তাকে খাগড়াছড়ি রেখে যান। বিকাল ৪টার দিকে তারা ফোন করে তার কাছে থাকা ৭৫ হাজার টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঠাতে বলেন। তিনি তাদের কথামতো পাঁচটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকউন্টের নম্বরে টাকা পাঠানোর পর থেকে আর যোগাযোগ করতে পারেননি। কিন্তু পরে কাঠবোঝাই করার জন্য নিয়ে যাওয়া ট্রাকটি লেমুছড়ি এলাকায় পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় মাটিরাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
দু'দিনের মাথায় ১৮ এপ্রিল অপহৃত সালাউদ্দিনের মোবাইল থেকে তার বাবা খোরশেদ আলমের কাছে অপহরণকারীরা ফোন দিয়ে তিনজনের মাথাপিছু দেড় লাখ টাকা দাবি করে। টাকা পাঠালে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে বলেও জানানো হয়। ওইদিন রাতেই অপহরণকারীদের কাছে দেড় লাখ টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু এরপর ফের সালাউদ্দিনের মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়।
খোরশেদ আলম বলেন, তিনি ছেলের (সালাউদ্দিন) সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন। অপহরণকারীরা বলেছে টাকা পাওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেয়া হবে। তখন নাকি সালাউদ্দিন নিজেই তাকে ফোন দেবে। রাত ১০টায় দেড় লাখ টাকা পাঠানোর পর থেকে সালাউদ্দিনের মোবাইল আবার বন্ধ হয়ে রয়েছে।
এদিকে দীর্ঘ এক মাসেও নিখোঁজ তিনজনের কোনো হদিস না মেলায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। এরইমধ্যে হরতাল, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, সাংবাদিক সম্মেলন, সমাবেশের মতো কর্মসূচিও পালন করেছে প্রতিবাদী লোকজন। ঘটনার পর থেকে অপহৃত তিনজনের পরিবারে চলছে কান্নার রোল। স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তারা।
এ বিষয়ে মাটিরাঙা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী বলেন, সম্ভাব্য সবখানে খোঁজ নেয়া হয়েছে। প্রশাসন বারবার আশ্বস্ত্ম করলেও তাদের তেমন তৎপরতা দেখছেন না।
এ ব্যাপারে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার (এসপি) আলী আহম্মেদ খান বলেন, বিষয়টি তদন্ত্ম করে দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তির সহায়তায় তারা ঘটনার অনেক কাছে পৌঁছে গেছেন। তাদের টিম মাঠে কাজ করছে। আশা করেন খুব শিগগির এ রহস্য উদঘাটন করতে পারবেন।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
প্রথম পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close