প্রশাসনের মনিটরিংঝুঁড়িতে নামার অপেক্ষায় রাজশাহীর আম২১ মে থেকে পুরোদমে আম পাড়া শুরম্ন হবে। পর্যায়ক্রমে পাড়া হবে বিভিন্ন জাতের আমযাযাদি ডেস্ক রাজশাহীর বাগানগুলোতে গাছে গাছে ঝুলছে বিষমুক্ত আম -যাযাদি'আম' এমনিতেই বাঙালির পছন্দের সেরা ফল। আর সেটি যদি হয় রাজশাহীর তাহলে তো কথাই নেই! কারণ রাজশাহীর আম স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। নামেই যার খ্যাতি দেশজুড়ে।
মধুর মতো মিষ্টি, আর টসটসে রসে ভরা আম। হাতে নিয়ে খেতে গেলে নিস্ত্মার নেই, খেতে হবে কনুই ভিজিয়েই।
তাই মৌসুমে একবার খেলেও এমন আমের স্বাদ বছরজুড়েই লেগে থাকে রসনাবিলাসীদের জিভে। কেবল দেশেই নয়; যায় বহির্বিশ্বেও। এজন্য বছরজুড়েই চলে অপেক্ষা। চলে বিশাল কর্মযজ্ঞ। মধুমাস পড়েছে মাত্রই।
কিন্তু বাহারি নাম ও স্বাদের রসালো আম ছাড়া কি আর মধুমাস জ্যৈষ্ঠ জমে! বছর ঘুরে প্রতীক্ষার ইতি টেনে আগামী সপ্তাহেই পরিপক্ব হয়েই গাছ থেকে বাজারের ঝুড়িতে নামছে 'রাজশাহীর আম'।
দেশবাসীকে বিষমুক্ত ফল দিতে গত দু'বছর ধরে গাছ থেকে আম পাড়ার জন্য সময় বেঁধে দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। কিন্তু তীব্র তাপদাহে সময়ের আগে অনেক আম পেকে গাছেই নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে রাজশাহীর আমের ওপর দিয়ে এবার ঝড়-বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির ধকলও যাচ্ছে।
প্রথম দিকে গাছে যখন মুকুল আসা শুরম্ন হয় তখন তীব্র শীত ছিল। আবার শেষের দিকে গরমও পড়তে শুরম্ন করেছিল। তাই গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার গাছে সবচেয়ে বেশি মুকুল এসেছিল।
কিন্তু দফায় দফায় কালবৈশাখী আর শিলাবৃষ্টিতে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এরপরও যা অবশিষ্ট আছে তা দিয়েই দেশের চাহিদাপূরণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মণিগ্রামের আমচাষি ও ব্যবসায়ী জিলস্নুর রহমান বলেন, সাধারণত মধুমাস জ্যৈষ্ঠ শুরম্নর পর রাজশাহীতে আম পাকতে শুরম্ন করে। কোনো আম আগে পেকে যায় কোনোটা পরে।
তাই বিভিন্ন জাত ও নামের আম পর্যায়ক্রমে উঠতে থাকে বাজারে। কিন্তু গত বছর নিষেধাজ্ঞা মেনে আম পাড়ায় বাজারে প্রায় এক সঙ্গেই তোলা হয়েছিল সব জাতের আম। তবে এবার তেমনটি হবে না। এবার পর্যায়ক্রমেই বাজারে উঠবে বিভিন্ন জাতের আম।
এবার আম পাড়ার নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়ার পর থেকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি মনিটরিংও করা হচ্ছে। আর সময় বেঁধে দেয়ায় আম পাড়ার বিষয়ে সতর্ক রয়েছেন এ অঞ্চলের আমচাষিরা। তারা বছরজুড়ে পরিশ্রমের এ ফসল গাছ থেকে নামাতে চান পরিপক্ব করেই।
তাই মূলত আগামী ২১ মে থেকে রাজশাহী জেলার সব উপজেলায় পুরোদমে আম পাড়া শুরম্ন হবে। এজন্য বাঘার মতো রাজশাহীর প্রতিটি উপজেলাতেই নির্বাহী কর্মকর্তা খোঁজ রাখছেন বলেও জানান বাঘার মণিগ্রামের এ আম ব্যবসায়ী।
আমচাষি জসিম উদ্দিন বলেন, গাছে পরিপক্ব করে আম পাড়লে আর কেমিকেল দিয়ে আম পাকাতে হয় না। এজন্য তার মত সব চাষিই এখন গাছ থেকে পরিপক্ব আম পাড়েন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না। এরই মধ্যে প্রায় সব গাছের আমেই পূর্ণতা এসে গেছে। সোমবার থেকে অনেকেই গুটি জাতের আম পাড়তে শুরম্ন করেছেন।
তাই সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই বাগানে পুরোদমে আম ভাঙা শুরম্ন করবেন। প্রথমেই জাত আম খ্যাত গোপালভোগ রাজশাহীর বাজারে তোলা হবে বলেও জানান এ আমচাষি।
রাজশাহী ফল গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন বলেন, গুটিআম প্রতিবছরই একটু আগে পাকে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। তাই অনেকে এখন গুটিআম পাড়তে শুরম্ন করেছেন। তবে আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত রাজশাহীর আম পাড়ার কর্মযজ্ঞ শুরম্ন হবে আগামী সপ্তাহেই। প্রথমেই গোপালভোগ ও গুটি জাতের আম পাড়তে শুরম্ন করেবেন রাজশাহীর বাগানমালিকরা।
হবৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিনের হিসাব অনুযায়ী বিভিন্ন জাতের জনপ্রিয় আমের পরিপক্বতা আসার সময়কালের মধ্যে মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে উঠবে গোপালভোগ আম। অত্যন্ত্ম সুস্বাদু, আঁশহীন, আঁটি-ছোট আম। সাইজ মাঝারি, কেজিতে ৫ থেকে ৬টা ধরবে। এর পর পাকা শুরম্ন হবে ল্যাংড়া আম।
তাই রাজশাহীতে জুনের প্রথম ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে উঠবে ল্যাংড়া আম। নাম ল্যাংড়া হলেও এর স্বাদ অসাধারণ। আঁটি ছোট ও পাতলা, খোসা খুব পাতলা, রসালো, গায়ে শুধুই শাঁস। এভাবে পর্যায়ক্রমে সব আম উঠতে শুরম্ন করবে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালি বলেন, চাষিরা এখন আমগাছের নিয়মিত পরিচর্যা করেন এবং যত্ন নেন। তাই প্রতিবছরই ভালো ফলন হয়। রাজশাহীতে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। প্রতি হেক্টর জমির বাগান থেকে ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়।
হসে হিসাবে প্রতি মৌসুমে কমপক্ষে এক লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়। কিন্তু এবার দফায় দফায় কালবৈশাখীর কারণে আমের উৎপাদন কিছুটা কম হবে। তবে এতেও চাহিদা পূরণ হবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) এসএম আবদুল কাদের বলেন, কোনোভাবেই ২০ মে'র আগে রাজশাহীতে গাছ থেকে আম পাড়া এবং বাজারজাত করা যাবে না।
গাছ থেকে আম পাড়া প্রসঙ্গে বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের বলেন, কেবল গাছে পাকলেই গুটিআম পাড়তে পারবেন চাষিরা। তবে গোপালভোগ কোনোভাবেই ২০ মে'র আগে গাছ থেকে পাড়া যাবে না। পর্যায়ক্রমে ১ জুনের আগে হিমসাগর, খিরসাপাত ও লক্ষণভোগ পাড়া যাবে না।
হজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী এবার ল্যাংড়া পাড়া যাবে ৬ জুন থেকে। এছাড়া চলতি মৌসুমের আম্রপালি ও ফজলি ১৬ জুন এবং আশ্বিনা জাতের আম ১ জুলাইয়ের আগে পাড়তে পারবেন না রাজশাহীর চাষিরা।
কারণ রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আশ্বিনা আম পাকা শুরম্ন করবে জুনের শেষ সপ্তাহে। তাই এবার চলতি মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত্ম রাজশাহীর সুস্বাদু আমের ভরা মৌসুম চলবে। বাংলা নিউজ।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close