পূর্ববর্তী সংবাদ
মেঘনার চার স্থানে নাব্য সংকটলক্ষ্ণীপুর-ভোলা নৌরম্নটে যাত্রী দুর্ভোগ চরমেসাইফুল ইসলাম স্বপন, লক্ষ্ণীপুর লক্ষ্ণীপুর-ভোলা নৌরম্নটে ডুবোচরের কারণে এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে লঞ্চ -যাযাদিলক্ষ্ণীপুর (মজুচৌধুরীরহাট)-ভোলা নৌরম্নটের ২৬ কিলোমিটারের বিভিন্ন স্থানে ডুবোচরের কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলাচলকারী ফেরি ও লঞ্চগুলো নির্দিষ্ট সময়ে গন্ত্মব্যে পৌঁছতে পারছে না। শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি কমে এ সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে যাতায়াত করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার হাজারও যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিককে। নৌপথে দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে দ্রম্নত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পলি সরিয়ে লঞ্চ ও ফেরি চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আনার দাবি জানান তারা। সরেজমিনে দেখা যায়, রহমতখালী চ্যানেলের মাঝ নদীতে ফেরি কিষাণী ডুবোচরে আটকা পড়ে আছে। নদীর পানি কম থাকায় বার বার চেষ্টা করেও ডুবোচর থেকে ফেরিটি ছাড়ানো যাচ্ছে না। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে ফেরিটি বন্ধ রাখা হয়। এতে ফেরিতে থাকা যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের ঘণ্টাব্যাপী ভোগান্ত্মির শিকার হতে হয়। এ সময় ফেরি কিষাণীর মাস্টার মো. শাহেদুল ইসলাম জানান, ভাটায় নদীতে পানি কমে যাওয়ায় ডুবোচরে ফেরি আটকা পড়েছে, জোয়ারের পানি না আসা পর্যন্ত্ম ফেরিঘাটে পৌঁছানো যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, গত নভেম্বর থেকে ছয় মাস যাবৎ ভাটার সময় নদীর পানি কমে যাওয়ায় এ রম্নটের মতিহাট, বিবির ভয়া, ভূরির খাল ও রহমতখালী চ্যানেলসহ চারটি স্থানে চরে আটকে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। একবার আটকা পড়লে ৩-৪ ঘণ্টা বাড়তি সময় লেগে যায়। নদীর ওই পয়েন্টগুলো ড্রেজিং করা হলে জোয়ার-ভাটায় সমান তালে চলাচল স্বাভাবিক থাকত। দুর্ভোগের দিকগুলো সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দেখেও দেখে না। জানা যায়, লক্ষ্ণীপুর-ভোলা নৌরম্নট হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ যাতায়াতের জন্য ২০০৬ সালের এপ্রিলে তিনটি ফেরি নিয়ে লক্ষ্ণীপুর সদর উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট লঞ্চঘাটটি চালু করে বর্তমান সরকার। পরবর্তীতে আরও একটি ফেরি সংযোজন করা হয়। বর্তমানে মজুচৌধুরীরহাট নৌবন্দরের এক কিলোমিটার দূরে রহমতখালী চ্যানেল হয়ে লক্ষ্ণীপুর-ভোলা এ নৌরম্নট দিয়ে চলাচল করছে কনকচাঁপা ও কিষাণী নামে দুটি ফেরি ও হাজারো যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছে ৫-৬টি যাত্রীবাহী লঞ্চ ও সি-ট্রাক। এ রম্নটে গড়ে ১৬০টি মালবোঝাই ট্রাক, ২০টি যাত্রীবাহী বাস ও ৮০টির মতো ছোট গাড়ি যাতায়াত করে। এছাড়াও প্রায় ৭শ যাত্রী প্রতিদিন চলাচল করে। কিন্তু নদীর সংকটাবস্থায় তাদেরকে প্রতিনিয়তই পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। স্থানীয়রা জানায়, নাব্য সংকটের কারণে ফেরি ও লঞ্চ আটকে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকায় পারাপারে সময় বেশি লাগায় পরিবহনের ট্রিপ কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে এ রম্নটের চলাচলরত হাজারও যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের। সংকটাবস্থায় ৪/৫ দিন ঘাটে অপেক্ষা করতে হচ্ছে শতাধিক মালবাহী ট্রাক। অপরদিকে লঞ্চেও পর্যাপ্ত যাত্রী সংকট এবং ট্রিপ কমে যাওয়ায় লঞ্চ মালিকরাও লোকসান গুনছেন। লক্ষ্ণীপুর-ভোলা-বরিশালগামী এম.ভি. পারিজাত লঞ্চের কেরানি হেলাল উদ্দিন জানান, নদী স্বাভাবিক থাকা অবস্থায় প্রতি ট্রিপে ৬/৭শ জন যাত্রী যাতায়াত করত। বর্তমানে সংকটাবস্থায় ১০০-১৫০ জন যাত্রী যাতায়াত করছে। এতে কর্তৃপক্ষ প্রতি ট্রিপে ২০ হাজার টাকা লোকসান গুনছেন। আগামী রমজান ঈদের আগে নদীর এ সংকট সমাধান না হলে লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে। চারদিন ধরে চট্টগ্রাম থেকে মালবোঝাই ট্রাক নিয়ে ভোলা-লক্ষ্ণীপুর ফেরির অপেক্ষায় চালক ইউসুফ মজুচৌধুরীর হাট ঘাটে অবস্থান করছে। জানতে চাইলে তিনি জানান, সময়মতো ফেরি পারাপার হতে পারলে যাতায়াত খরচ কমে যেত। এ ভোগান্ত্মির কারণে শুধু পরিবহন শ্রমিক বা যাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত্ম হচ্ছে না। এর প্রভাব পড়ছে দ্রব্যমূল্যের ওপর। ভোগান্ত্মির কারণে পণ্যের পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। এ সংকট নিরসনে দ্রম্নত বিকল্পব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি। বিআইডবিস্নউটিসির মজুচৌধুরীর হাট ফেরিঘাটের প্রান্ত্মিক সহকারী নুরম্নর রহমান বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে যাওয়ায় পথে পথে ডুবোচরের কারণে ফেরি চলাচল করতে পারে না। এতে ট্রিপ সংখ্যা কমে যাত্রীর ভোগান্ত্মি বেড়ে গেছে। এ সমস্যার বিষয়টি উপরস্থ কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। লক্ষ্ণীপুর বিআইডবিস্নউটিসির সহকারী পরিচালক মো. শিহাব উদ্দিন বলেন, লক্ষ্ণীপুর-ভোলা রম্নটের কয়েকটি পয়েন্টে কম পানি থাকার কারণে ভাটার সময় ডুবোচরে ফেরি আটকে যায়। জোয়ার এলে স্বাভাবিক হয়। এ সমস্যার কারণে ফেরির ট্রিপ কম হয়। সমস্যা সমাধান হলে এ রম্নটে যাত্রীদের যাতায়াত আরও বাড়ত। এতে সরকার প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব আদায় হতো। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চাঁদপুর নৌসংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের বিআইডবিস্নউটিএ'র উপ-পরিচালক মাহমুদুল হাসান জানান, মেঘনা নদীর নাব্য সংকট দীর্ঘদিনের, এতে চর ভোগান্ত্মির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। বর্ষার মৌসুমে এ সংকট থাকবে না। তারপরও বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
স্বদেশ -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close