রমজানে ত্রিমুখী চেষ্টায় ইফতার হবে নিরাপদযাযাদি রিপোর্ট ভোক্তা, সরবরাহকারী ও ভেজাল-দূষণরোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সরকারের কঠোর নজরদারির মাধ্যমেই আসন্ন রমজানে নিরাপদ ইফতারের প্রত্যাশা করছেন নিরাপদ খাদ্য অধিকারের সঙ্গে সংশিস্নষ্ট ব্যক্তিরা।
সংশিস্নষ্টদের মতে, নিরাপদ ইফতার পেতে ভোক্তাকে আগে সচেতন হতে হবে। বিক্রেতাদেরও নিরাপদ ইফতার সরবরাহের বিষয়ে জোর দেয়ার পাশাপাশি ভেজাল নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর নজরদারি থাকতে হবে।
ত্রিমুখী চেষ্টার ফলেই রমজানে নিরাপদ ইফতার পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তারা।
বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) গোলটেবিল মিলনায়তনে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য নেটওয়ার্ক (বিএফএসএন) আয়োজিত 'রমজানে নিরাপদ খাদ্যের আলোকে ইফতার'-বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে কনজু্যমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরম্নল ইসলাম, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, বিসেফ ফাউন্ডেশনের সিইও আনোয়ার ফারম্নক ও বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রিন্সিপাল অ্যান্ড হেড অব নিউট্রিশন বিভাগের শাসসুন নাহার নাহিদ, এফএও ফুড সেফটি প্রোগামের সিনিয়র ন্যাশনাল অ্যাডভাইজার প্রফেসর শাহ মুনির হোসেনসহ প্রমুখ।
খাদ্যমন্ত্রী কামরম্নল ইসলাম বলেন, উৎপাদন থেকে বিপণন ও খাবার টেবিল পর্যন্ত্ম নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে সরকার কাজ শুরম্ন করেছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে পার্শ্ববর্তী দেশের আইনের আলোকে খাদ্য নিরাপত্তা আইন ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। বিদেশে এই আইনের বাস্ত্মবায়নে ৭-৮ বছর সময় লেগেছে। এই আইন দেশে বাস্ত্মবায়ন হয়েছে। সবার সহযোগিতা পেলে বিদেশের চেয়ে কম সময়ে এই আইনের বাস্ত্মবায়ন করতে পারব।'
তিনি আরও বলেন, 'আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই রাস্ত্মা বা বাহিরের খাবারও স্বাস্থ্যসম্মত হবে। বাড়ির খাবারও নিরাপদ হতে হবে। ভোক্তার সচেতনতার পাশাপাশি বিক্রেতাদেরও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। যে খাবার আপনার পরিবারকে দিতে পারবেন না, সেটা কেন অন্যকে খাওয়াবেন? সঠিক পথে আসুন, না এলে শাস্ত্মির বিধানে নামব।'
শাহাবুদ্দিন আহমদ বলেন, 'কেবল রমজানেই নয়, সারাবছরই খাদ্যের নিরাপত্তা গুরম্নত্বপূর্ণ। বাহিরের ও ঘরের খাবারকেও নিরাপদ করতে হবে। আপনি ঘরে যে খাবার খান, সেটা নিরাপদ তো? বাসায় কাজের মেয়ে ঠিকমতো হাত ধুয়ে খাবার প্রস্তুত করে কিনা? খাবারের টেবিল পরিষ্কার কিনা- এসব বিষয়েও গুরম্নত্ব দিতে হবে। রেস্ত্মোরাঁ মালিকদের একা সচেতন হলেই হবে না, সবাই সচেতন হলেই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।'
ভেজাল ও দূষণরোধে নানামুখী কর্মকা- তুলে ধরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুল হক বলেন, 'খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখতে জোর চেষ্টার অংশ হিসেবে রমজানের আগেই ভেজাল ও দূষণরোধে অভিযান চলছে। শাস্ত্মির আওতায়ও আনা হচ্ছে। হোটেল ও রেস্ত্মোরাঁর খাবারের মান যাচাইয়ে প্রফেশনাল অডিটর দিয়ে অডিট করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী, লাল-নীল ও হদুল রঙ নির্দেশনা দিয়ে ঝুঁকির বিষয়ে জনগণকে জানানো হবে। কাঁচাবাজার ও কসাইখানা খাদ্য দূষণের বড় জায়গা। রমজানে বড় ঝুঁকি হচ্ছে পানি। জারের পানিতে জীবাণু পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বরফকলেও দূষণ নিয়ে অভিযান চলছে।
নিউট্রিশন বিভাগের শাসসুন নাহার নাহিদ বলেন, 'রমজানে ভেজাল খাদ্য বাজারে বেশি আসে। একই তেল একাধিকবার ব্যবহার করায় এসিডিটি বেড়ে যায়। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। খাবারে রঙ ব্যবহারের কারণে আলসারসহ বিভিন্ন রোগ বাড়ে। খাদ্যের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানকেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করলে দোকান বন্ধ ও লাইসেন্স বাতিল করা হবে। যাতে অন্যরাও সচেতন হয়। রমজানে প্রতিটি ইফতার হতে হবে হোমবেজড।'
শাহ মুনির হোসেন বলেন, 'ইফতার ও সেহরিতে আমাদের তৈলাক্ত খাবার বর্জন করে চিড়া, মুড়িসহ শুকনা খাবার খাওয়ার অভ্যাস বাড়াতে হবে। অবিশুদ্ধ খাবার গ্রহণে রোজায় ফুড পয়জনিং রোগীদের সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু ইসলামের আলোকে যদি আমরা খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রেও সংযমের অভ্যাস চালু করি, তাহলে আমরা বেশি সুস্থ থাকব। মনে রাখতে হবে, আমাদের সেফ নিউট্রিশন ফুড গ্রহণের মাধ্যমে নিজের আয়ুষ্কালকে সুস্থ রাখতে হবে।
এ সময় বক্তারা স্ট্রিট ফুডের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থান ও পরীক্ষিত মানের বিশুদ্ধ খাবার পরিবেশনের নিশ্চয়তার আশায় সরকারি পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close