পূর্ববর্তী সংবাদ
বাঁশি বাজছে আজ বিশ্বকাপেরক্রীড়া ডেস্ক ক্ষণ গণনা শেষ, সব আয়োজনও সম্পন্ন। এবার রাশিয়ায় বিশ্বকাপ শুরম্ন বাঁশি বাজার অপেক্ষা। সেই অপেক্ষাও ঘুচে যাবে আজ। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে ফুটবল মহাযজ্ঞের ২১তম সংস্করণের। ৩২ দলের ফুটবল লড়াই চলবে জুলাইয়ের ১৫ তারিখ পর্যন্ত্ম। এর মধ্যেই লেখা হবে আনন্দ-বেদনা, কান্না-হাসি, উচ্ছ্বাস-উন্মাদনার কতশত উপাখ্যান। এই লুঝনিকিতেই কোনো এক দলের আগামী চার বছরের জন্য বিশ্বসেরা হওয়ার মধ্য দিয়ে যবনিকাপাত হবে সব উৎসবের।
শেষটা এখন আলোচ্য নয়, আপাতত শুরম্নটাই মুখ্য। সেই শুরম্নতেই আজ লুঝনিকিতে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক রাশিয়া আর সৌদি আরব। বিশ্ব ফুটবলে দুটো দলই মিনোসদের কাতারে। তাই উদ্বোধনী ম্যাচটাকে ঘিরে যতটা না আগ্রহ, এর থেকে ঢের বেশি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিয়ে। ময়দানি লড়াই শুরম্নর ৩০ মিনিট আগেই শুরম্ন হবে এই অনুষ্ঠান। যেখানে পারফর্ম করবে নৃত্যশিল্পী, জিমনাস্টিকস এবং অ্যাথলেটদের ৫০০ সদসেু্যর একটি দল, মনোজ্ঞ ডিসপেস্নর মাধ্যমে যারা বিশ্ববাসীর সামনে বিভিন্নভাবে ফুটিয়ে তুলবেন রাশিয়ার সংস্কৃতি।
এবারই প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক রাশিয়া। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নেও কখনো হয়নি এই ক্রীড়াযজ্ঞ। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে সিদ্ধান্ত্ম হয়, ২০১৮ বিশ্বকাপের আয়োজন করবে রম্নশরা। সেই সিদ্ধান্ত্ম অবশ্য যথেষ্টই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আয়োজক হতে আগ্রহী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ইংল্যান্ড, ভোটাভুটির প্রথম পর্বে বাদ পড়ে যাওয়ার পর দেশটির ততকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন অভিযোগ তোলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে স্বাগতিক হওয়ার অধিকার আদায় করেছে রাশিয়া।
দুর্নীতির অভিযোগেই বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা থেকে বিতাড়িত হওয়া সংস্থার সাবেক প্রেসিডেন্ট সেপ বস্নাটার পরবর্তী সময়ে স্বীকার করেছেন, ভোটের আগেই নির্ধারিত হয়ে যায় ২০১৮ বিশ্বকাপ ফুটবল হবে রাশিয়ায়। সে যাই হোক, এখন আর কারও ওসবে মাথা ঘামানোর সময় নেই। বিশ্বকাপ ফুটবলের রোমাঞ্চেই বুঁদ হয়ে আছে সবাই। তাই উত্তেজনা-উন্মাদনার কমতি নেই কোথাও। বিশ্বকে দেখিয়ে দেয়ার চ্যালেঞ্জটাই যেন নিয়েছে আয়োজক রাশিয়া।
সুরের ঝঙ্কারে চার বছর আগে ব্রাজিল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাতিয়েছিলেন জেনিফার লোপেজ আর পিটবুল। রাশিয়ায় তাদের জায়গাটা নিচ্ছেন রোবি উইলিয়ামস আর আয়দা গণ্যারিফুললিনা। তাদের সঙ্গে থাকবেন তরম্নণ কিছু রম্নশ শিল্পী। গোটা বিষয়টা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত উইলিয়ামস, 'আমি খুবই খুশি এবং উচ্ছ্বসিত। ক্যারিয়ারে আমি অনেক কিছুই করেছি। তবে ৮০ হাজার দর্শক এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা কয়েক মিলিয়ন দর্শকের সামানে ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করা আমার বাল্যকালের স্বপ্ন।'
সবকিছুর পরও চাপা সংশয়। রাশিয়া কি পারবে ঠিকঠাক বিশ্বকাপ আয়োজন করতে? বাকি বিশ্ব যেন ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে আছে মেঘ দেখার আশঙ্কায়। তাদের পূর্ডুমার চাঁদ দেখিয়ে দেয়ার চ্যালেঞ্জ রাশিয়ার। বিশ্বকাপের স্বাগতিক নির্বাচিত হওয়ার পর ইউক্রেনের যুদ্ধে জড়িয়েছে রাশিয়া। সিরিয়াতেও। বিশ্বরাজনীতির ক্ষমতার দাবা খেলায় এখন বড় এক ঘুঁটির নাম ভস্নাদিমির পুতিন। পুতিন আর রাশিয়ার বাজিমাত করার জন্য এর চেয়ে বড় সুযোগ আর হতে পারে না।
পুতিন আর রাশিয়ার সুযোগ বিশ্বকে দেখিয়ে দেয়ার। অন্যদিকে সুযোগের অপেক্ষায় ৩২ দল। সবার চোখ একটা শিরোপায়। তবে ফেভারিট হিসেবে স্পেনের নাম আসছে, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা-জার্মানি-ফ্রান্সের নামও আসছে ঘুরেফিরে। তবে ভুলেও কেউ রাশিয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছে না। ইউরোর প্রথম আসর জিতেছে সোভিয়েত ইউনিয়ন। এইতো ২০০৮ ইউরোতেও সেমিফাইনাল খেলেছে রাশিয়া। এরপরও স্বাগতিকদের নিয়ে বাজি ধরার লোক নেই। সেটা নিয়ে অবশ্য ভাবনা নেই আয়োজকদের। ফুটবলীয় সাফল্য নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে আয়োজনের সাফল্য নিয়েই ভাবছে ভস্নাদিমির ইলিচ লেনিনের দেশ রাশিয়া।
 
পূর্ববর্তী সংবাদ
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close