পদে পদে ভোগান্ত্মি ঠেলে ঈদযাত্রায় জনস্রোতসাখাওয়াত হোসেন পদে পদে নানা ভোগান্ত্মি ঠেলে ঈদযাত্রায় শামিল লাখো মানুষ। ছবিটি বুধবার দুপুরে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চটার্মিনাল থেকে তোলা -ফোকাসবাংলাভাঙাচোরা সড়ক-মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, রেলপথে সিডিউল বিপর্যয় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীপথে জীবন ঝুঁকির পাশাপাশি পদে পদে নানা ভোগান্ত্মি ঠেলে ঈদযাত্রায় শামিল লাখো মানুষ। বাস লঞ্চ ট্রেন কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। টার্মিনালগুলোও লোকে লোকারণ্য। গলদঘর্ম সবাই একজন আরেকজনকে ঠেলে ছুটছে কাঙ্ক্ষিত পরিবহনের দিকে। দিগ্বিদিক এ ছোটাছুটিতে নানা বিড়ম্বনা থাকলেও কারো সেদিকে কোনো ভ্রম্নক্ষেপ নেই। সবারই লক্ষ্য- যেভাবেই হোক প্রিয়জনের কাছে ফেরা।
বাস, ট্রেন, লঞ্চের আগাম টিকিট যাদের হাতে তাদের সঙ্গে পালস্না দিয়ে ঘরমুখী যাত্রায় নেমেছেন টিকিটবিহীন অনেকেই। টিপটিপ বৃষ্টির মাঝেও কেউ কেউ নিঃসংকোচে সাওয়ার হয়েছেন বাস, ট্রেন ও লঞ্চের ছাদে। দূরপালস্নায় নামা লোকাল বাসেও ছিল গ্রামে ফেরা মানুষের ভিড়।
পরিবহন সংশিস্নষ্টরা জানান, নির্বাচনী ঈদের কারণে এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রীর চাপ অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। যা বৃহস্পতিবার আরও খানিকটা বাড়বে। তবে এ বছর ঈদের আগে-পড়ে মহাসড়কে ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখায় যানজট কিছুটা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারি বর্ষণসহ বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারের ঈদযাত্রায় ভোগান্ত্মি কম হবে বলে আশাবাদী পরিবহন শ্রমিকরা। তবে তাদের এ প্রত্যাশা যে কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়, তা ঢাকা-চট্টগ্রাম রম্নটের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঈদযাত্রায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বুধবার সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ৩০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এই অসহনীয় যানজটে ভোগান্ত্মিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও মুগড়াপাড়া পর্যন্ত্ম প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই যানজট সৃষ্টি হয়। পরিবহন শ্রমিকরা জানান, মেঘনা সেতুর সংযোগ সড়কের উচ্চতা, টোল আদায়ে সারিবদ্ধ গাড়ির লাইন ও আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতার কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সৃষ্ট যানজটে আটকা পড়ে যানবাহনে থাকা নারী ও শিশু যাত্রীরা অনেকে প্রচ- গরমে ও খাবার পানির সংকটে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
হাইওয়ে ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র শবে কদরের ছুটি থাকায় বুধবার ভোর থেকেই ঘরমুখো যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পায়। আর সেই সঙ্গে শুক্রবার থেকে শুরম্ন হচ্ছে ঈদের ছুটি। তাই অনেকেই বৃহস্পতিবারের ছুটি নিয়ে বুধবার থেকেই 'নারীর টানে গ্রামের বাড়ি' ফিরতে শুরম্ন করেছেন। ফলে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে গেছে। এছাড়া পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্যবাহী যানবাহনগুলো ঢাকার দিকে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত্ম সৃষ্ট যানজট সোনারগাঁও উপজেলার মুগড়াপাড়া থেকে গজারিয়ার সীমান্ত্মবর্তী মেঘনা-গোমতী সেতু পর্যন্ত্ম বিস্ত্মৃত হয়ে পড়ে।
এদিকে শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কেই নয়, ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে তীব্র যানজটের খবর পাওয়া গেছে। রাস্ত্মা ভাঙাচোরা হওয়ার কারণে বেশিরভাগ জায়গায় যানজট হয়েছে বলে পরিবহন শ্রমিকরা দাবি করেছেন।
এদিকে বুধবার রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে উত্তরবঙ্গ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর ও সিলেট রম্নটের দূরপালস্নার বাস ছেড়ে যায়। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গ ও সিলেট রম্নটের ক্ষেত্রে অগ্রিম টিকিটের যাত্রীদের দেখা গেলেও বাকি অন্যান্য রম্নটের ক্ষেত্রে অগ্রিম টিকিটের কোনো বালাই নেই।
অভিযোগ রয়েছে, টাঙ্গাইলের নিরালা পরিবহন ও বিনিময় পরিবহন সাধারণ ভাড়ার চেয়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি নিয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গ রম্নটের বাসগুলোর ক্ষেত্রে অগ্রিম টিকিট দেয়া থেকে শুরম্ন করে ভাড়া পর্যন্ত্ম সবকিছুতেই ভোগান্ত্মির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। কাউন্টার থেকে ইচ্ছে করেই বিক্রি হয়ে গেছে বলে অগ্রিম টিকিট আটকে রাখা হয়। এরপর যাত্রীর চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হয়।
গাবতলী থেকে দূরপালস্নার বিলাসবহুল গাড়ির টিকিট দিয়ে লোকাল বাসে চড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে বলেও বিস্ত্মর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে পরিবহন মালিকদের দাবি, পথে কয়েকটি গাড়ি যানজটে আটকা থাকায় বিকল্প হিসেবে তাদের এসব বাস রাস্ত্মায় নামাতে হয়েছে।
এদিকে বুধবার সকাল থেকেই কমলাপুর স্টেশনে ছিল ঘরমুখো যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। তবে অধিকাংশ ট্রেন সময়মতো যাত্রা শুরম্ন করতে পারেনি। এতে ঘরমুখো যাত্রীদের চরম ভোগান্ত্মি পোহাতে হয়েছে।
কমলাপুর স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল ট্রেনের ছাড়ার সময় ছিল সকাল পৌনে ৯টার; তা ছেড়েছে নির্ধারিত সময়ের পৌনে এক ঘণ্টা পর। লালমনিরহাটের লালমনি ঈদ স্পেশাল ট্রেন বেলা সোয়া ৯টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা। এটি ছাড়ে সকাল ১১টায়। রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ৯টায় ছাড়ার কথা থাকলেও তা সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ছেড়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস কমিউটার ট্রেন সকাল সাড়ে ৯টার পরিবর্তে ২০ মিনিট দেরি করে বেলা ৯টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে গেছে। জামালপুরের তারাকান্দি রম্নটের অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেন আধাঘণ্টা দেরি করে সকাল সোয়া ৯টায় ছেড়েছে। এছাড়া দিনাজপুরের একতা এক্সপ্রেস ২০ মিনিট দেরি করে বেলা ১০টা ২০ মিনিটে ছেড়েছে। নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাড়ার সময় সকাল ৮টায়। তবে ট্রেনটি আধাঘণ্টা দেরি করে সকাল সাড়ে ৮টায় গেছে।
তবে সকালের দিকের ট্রেনগুলো অল্প সময় দেরিতে ছাড়লেও দুপুরের পর তা আরো বেড়েছে। এ সময় অধিকাংশ ট্রেন এক থেকে দেড়ঘণ্টা দেরিতে যাত্রা শুরম্ন করে। এতে কমলাপুর রেলস্টেশনের প্রতিটি পস্নাটফর্ম লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। গাদাগাদি করে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
তবে এসব কষ্ট বাড়ি যাওয়ার আনন্দের কাছে 'কিছুই না' মিরপুরের গৃহিণী শামীমা মেহফুজের কাছে। একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের এই যাত্রী পরিবারের সঙ্গে দিনাজপুর যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, বাড়িতে বাবা-মা ও শ্বশুর-শাশুড়ি আছেন। এছাড়া আত্মীয়-স্বজন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ঈদ করার আনন্দই তো অন্যরকম। গরম অনেক এজন্য কিছুটা কষ্ট হচ্ছে তবে এটা খুব বেশি কিছু না।
বুধবার আগের চেয়ে ভিড় বেশি হয়েছে বলে জানান কমলাপুর স্টেশনের ব্যবস্থাপক সীতাংশু চক্রবর্ত্তী। তিনি বলেন, কয়েকটি ট্রেন সামান্য দেরি করেছে, এটা বড় কিছু নয়। বিভিন্ন কারণে কয়েকটি ট্রেন দেরি করে গেছে। তবে ঈদের সময় ১৫-২০ মিনিট দেরি করে যাওয়া বড় কিছু নয়। এটা ঠিক হয় যাবে।
এদিকে সকাল থেকে কমলাপুর ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনের ছাদেই বিপুল সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। ছাদে বসা কয়েকজন যাত্রী জানান, বৃষ্টি বা দুর্ভোগ যা-ই হোক বাড়িতে যেতেই হবে। ট্রেনের ভেতর কোনো জায়গা ফাঁকা না পাওয়ায়, তারা ছাদে উঠতে বাধ্য হয়েছেন।
মোশাররফ হোসেন নামে একজন যাত্রী বলেন, 'সকাল ৮টার দিকে আমি কমলাপুরে এসেছি। সে সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। তা উপেক্ষা করেই আমি এসেছি। বাবা-মা'র সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করব, এটাই আমার লক্ষ্য। তাই কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে হলেও ছাদে চড়েছি।'
এদিকে, বেলা পৌনে ১২টার দিকে সিলেটগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনের ছয় নম্বর পস্নাটফর্মে এসে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীতে ভরে যায়। উপবনেও ছিল উপচেপড়া ভিড়। ট্রেনটি পস্নাটফর্ম ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ যাত্রীদের আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close