ঈদ কেনাকাটাশেষ সময়ে আতর-টুপিএসএম মামুন হোসেন ঈদের কেনাকাটা শেষ। ঈদের জামাতে চাই টুপি, জায়নামাজ ও সুগন্ধি আতর। তাই এসব দোকানে ভিড় করছেন ক্রেতারা। ছবিটি বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে তোলা -আমিনুল ইসলাম শাহীনদরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। কেনাকাটাও প্রায় গুছিয়ে এনেছেন বেশিরভাগ মানুষ। তবে ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে নতুন পাঞ্জাবির সঙ্গে মাথায় টুপি, সে সঙ্গে হালকা সুগন্ধির মিষ্টি বাতাস ও হাতে জায়নামাজ ছাড়া অপূর্ণতা যেন রয়েই যায়। আর সে অপূর্ণতাকে দূর করতে এখন আতর আর টুপির দোকানে ঢু মারছেন বেশিরভাগ ধর্মপ্রাণ মানুষ।
সুগন্ধি তথা আতরের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, অনেকেই হালাল আতর খুঁজছেন। তাই ব্যবসায়ীরাও গ্রাহকের চাহিদা বুঝে আতরের গাঁয়ে হালাল লেখা আতর বাজারে এনেছেন। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হওয়ায় এখানে ধর্মীয় রীতিকে বিশেষ প্রাধান্য দেয়া হয়। এ কারণে হালাল হারামের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরম্নত্ব পাচ্ছে। অতীতে হালাল হারাম সুগন্ধির বিষয়ে খুব বেশি আগ্রহ না থাকলেও কিছু কোম্পানি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে পণ্যের গায়ে হালাল লিখে বিক্রি করতে শুরম্ন করে বেশ কয়েক বছর আগ থেকেই। সরল ধর্ম বিশ্বাসী মানুষও সহজে হালাল লেখা জিনিসে আকৃষ্ট হচ্ছেন।
সুগন্ধি প্রেমীরা বলছেন, ঈদসহ ধর্মীয় উৎসবে আতর-সুগন্ধির ব্যবহার অতি প্রাচীন রীতির অন্যমত। আর মুসলমানদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে এর ব্যবহার যেমন সুন্নত, তেমনি রম্নচিশীলতার প্রতীক। এ কারণেই সময়ের বিবর্তনে অন্যসব ফ্যাশনের সঙ্গে সুগন্ধিটাও এখন ঈদ আনন্দের বড় অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে।
কখনো তীব্র গরম আবার কখনো ঘন মেঘাচ্ছন্ন আকাশ বা বৃষ্টি সবকিছুকে উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে তাদের শেষ কেনাকাটা করছেন। কোন কিছু বাদ পড়ে গেল কিনা তাও দেখে নিচ্ছেন ভালোভাবে। রাজধানীর গুলিস্ত্মানের বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে গিয়ে দেখা যায় এখানে সারিসারি দোকানে আতর, টুপি, জায়নামাজসহ বিভিন্ন ধর্মীয় বই ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় বিক্রি হচ্ছে।
দোকানে ক্রেতাদের তীব্র ভিড় থাকায় বিক্রেতারাও এখন ব্যস্ত্ম সময় পার করছেন। বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের এমনই একটি দোকান আশেকী আতর হাউজে গিয়ে দেখা যায় অসংখ্য ক্রেতা এখান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় আতর কিনছেন। এ দোকানের মালিক মো. রবিউল ইসলাম যায়যায়দিনকে বলেন প্রতি শেষ সময়ে আতর-টুপি
বছরই ঈদের ঠিক সপ্তাহখানেক আগ থেকে আতরের বাজার জমে ওঠে। ধর্মপ্রাণ মুসলিস্নরা সারা বছরই কম-বেশি আতর কিনে থাকেন। তবে এ সময়টিতে তা বেড়ে যায় বিপুলভাবে। কারণ এ সময়ে শুধু ধর্মপরায়ণরাই নন, সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতর কেনার ধুম পড়ে যায়।'
এ আতর বিক্রেতা আরো বলেন, 'অতীতে দেশে খুব বেশি আতর উৎপাদন হতো না। পাকিস্ত্মান, তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে আতর আমদানি করা হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে দেশেও ভালো মানের আতর উৎপাদন হচ্ছে। ক্রেতারাও দেশি আতর কিনতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।'
এবার বাজারে আসা দেশি আতরের মধ্যে আগরা, মদিনা, কাশ্মিরী উড সহ বেশ কয়েক ধরনের আতর রয়েছে। এর বাইরে সৌদি আরব থেকে আসা আমিরম্নল উড, মুখালস্নাতুল আল আরব, শাহি শামামা, আলফে জেহেরাসহ আরো কিছু সুগন্ধি রয়েছে। এর বাইরে পাকিস্ত্মান ও তুরস্কের আতরও বেশ জনপ্রিয়। রয়েছে ভারত ও চীনের আতরও।
এসব আতরের দাম বিশ টাকা থেকে শুরম্ন করে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত্ম রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় আতরগুলোর গড় দাম দুইশ' থেকে পাঁচশ' টাকা পর্যন্ত্ম।
এর বাইরে সুলতান, আলফারেজ, লর্ড, আলফে জহুর, রোজ, ডাহনাল উড, রয়্যাল ম্যারেজ, কোবরা, বোম্বে দরবার, নূর, গাউজসহ বিভিন্ন আতর পাওয়া যায় ১২০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায়। দেশি আতরের মধ্যে দরবার-কাঁচাবেলী, জান্নাতুল ফেরদাউস, রজনীগন্ধা, শাহি দরবার পাওয়া যায় ৩০ থেকে ৩০০ টাকায়।
আতরের দোকানের পাশেই বিক্রি হচ্ছে টুপি ও জায়নামাজ। আবার কিছু দোকানে এক সঙ্গে উঠানো হয়েছে আতর, টুপি, তজবিহ ও জায়নামাজ। এখানকারই একটি দোকান জায়নামাজ হাউজ। এর কর্ণধার মো. আতিক যায়যায়দিনকে বলেন, 'গত কয়েকদিনে বিক্রি হচ্ছে ভালো। অন্য সময়ও বিক্রি হয়। কিন্তু ঈদের আগে কেনাকাটা বেড়ে যায় অনেক। এখন একদিনে যা বিক্রি হয় অন্য সময়ে তা বিক্রি হতে অনেক সময় লাগে।'
এদিকে টুপিতে রয়েছে ব্যাপক বৈচিত্র। নকশা ও কারম্নকাজ দেখে মনে হয়, দেশি ও বিদেশি দুই ধরনের টুপিরই চাহিদা রয়েছে ক্রেতাদের কাছে। বিক্রেতারা জানান, প্রায় আড়াইশ' ধরনের টুপি রয়েছে তাদের কাছে। বিদেশি টুপির মধ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব, ইরান, কাতার ও চায়নার চুপিই বেশি। দেশি বিদেশি মিলে টুপির দাম পড়বে ২০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত্ম। এর মধ্যে গোল টুপি ৫০ থেকে ৪০০, সোনালি সুতার কারম্নকার্য করা টুপি ৪০০ থেকে ১২০০, বাচ্চাদের চুমকি বসানো টুপি ৮০ থেকে ২০০, হাতের তৈরি জালের মতো টুপি মিলবে ১০০ টাকায়। এ ছাড়া চায়না টুপির দাম পড়বে ১২০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত্ম। এর বাইরে ভালোমানের তুর্কি টুপি ২৫০০ টাকা এবং ইরানের খামেনি টুপি কিনতে ৩০০০ টাকা গুণতে হবে।
দোকানিরা জানান, ভেলভেট, সুতি, কার্পেটসহ বিভিন্ন কাপড়ের জায়নামাজও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এর বাজার মূলত তুরস্কের দখলে। ৮০ শতাংশই আসে দেশটি থেকে। ক্রেতারা কিনতে পারবেন ১০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে। পণ্যটির দামি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে আইডিন মেনসুকেট, সেলিন, ইরানি। এর মধ্যে আইডিন মেনসুকেটের দাম ৫০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা। সেলিনের দাম ২৫০-৭০০ টাকা।
এদিকে তসবিহের বাজারে রয়েছে নানান ডিজাইন। কোনটা দামি পাথর বসানো আবার কোনটায় পস্নাস্টিকের তসবিহও রয়েছে। দামি তসবিহগুলোতে ইউসার পাথর, কোক কাঠ, আকিক পাথর, লাল মারজান, সামছেতারা, টাইগার, মুন স্টোন, ফিরোজা প্রভৃতি পাথর ব্যবহার করা হয়। দাম পড়বে একশ' থেকে দুই হাজার পর্যন্ত্ম। আবার ফাইবার বা সাধারণ মানের তসবিহ ৫০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যায়। এর বাইরে রয়েছে জিডিটাল তসবিহও। এটা আবার দুই ধানের। একটি হাতে ধরা অন্যটি আঙ্গুলে পরার তসবিহ। এগুলোর দাম পড়বে ৩০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত্ম।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেট ও এর পাশের ফুটপাত ধরে গড়ে ওঠা দোকানগুলোই দেশের সবচেয়ে বড় আতর, টুপি, তসবিহ ও জায়নামাজের বাজার। তবে কাকরাইলের তাবলিগের মারকাজ মসজিদেও এগুলো কেনাবেচা হয় সারা বছর ধরে। এর বাইরে মতিঝিল, গুলিস্ত্মান, নিউমার্কেট, ফার্মগেটসহ অন্যান্য এলাকাতেও বিক্রি হচ্ছে এসব সামগ্রী। বিক্রেতারা বলছেন, দুটি ঈদেই আতর, টুপি, জায়নামাজ ও তসবিহ এর বিক্রি বেড়ে যায় অনেক গুণ। ফলে এ সময় ধর্মীয় এসব আনুষঙ্গিকে কেন্দ্র করে দেশে একটি মধ্যম শ্রেণির ব্যবসায়িক গোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
শেষের পাতা -এর আরো সংবাদ
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close