logo
সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২০, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৬

  আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

'বিএফআরআই' মৎস্য বিপস্নবের অগ্রদূত

'বিএফআরআই' মৎস্য বিপস্নবের অগ্রদূত
২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশের মাছের উৎপাদন ৪২ লাখ ৭৭ হাজার টন। যা দেশের মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। প্রাণিজ প্রোটিনের প্রায় ৬০ শতাংশ পূরণ হচ্ছে এই মৎস্য সম্পদ থেকে। প্রতিনিয়ত জলাভূমি হ্রাস, বিরূপ পরিবেশের মাঝে ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণ করে বাংলাদেশ আজ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন ১০০ একর জমির ওপর ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত মৎস্য সম্পদের আঁতুড়ঘর দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনার জন্য একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)।

ময়মনসিংহে অবস্থিত ইনস্টিটিউটের সদরদপ্তরের অধীন দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদের প্রকৃতি অনুযায়ী (স্বাদুপানি, লোনা পানি, চিংড়ি গবেষণা, নদী, সামুদ্রিক ও মৎস্য প্রযুক্তি) গবেষণা পরিচালনার জন্য ৫টি কেন্দ্র ও ৫টি উপকেন্দ্র রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলে প্রায় ৬৪৬ জন কর্মরত। দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে জাতীয় চাহিদার নিরিখে গবেষণা পরিচালনা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিএফআরআই নিরলসভাবে কাজ করে চলছে। মৎস্য বিষয়ে এ যাবত ২৪০টি প্রকাশনা রয়েছে বিএফআরআইয়ের। এ ছাড়াও বাংলাদেশ জার্নাল অব ফিসারিজ রিসার্চ নামে একটি জার্নাল এবং ফিশারিস নিউজলেটার নামে একটি ত্রৈমাসিক প্রকাশনা করছে। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিএফআরআই এ যাবত ৮টি স্বর্ণপদক, ৫টি রৌপ্যপদক ও ১টি তাম্রপদক অর্জন করেছে।

মৎস্যবিষয়ক গবেষণা পরিচালনা ও সমন্বয় সাধন। মৎস্য উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নিরাপদ খাদ্য হিসেবে বাজারজাতকরণের জন্য অধিকতর দক্ষ ও অর্থনৈতিক উপায় নিয়ে গবেষণা। মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় সাধন। মৎস্যবিষয়ক সভা, প্রশিক্ষণ এবং কর্মশালা আয়োজন। দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় সাধন। গবেষণা জার্নাল প্রকাশনা। গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আমিষের চাহিদা পূরণ। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে চলছে বিএফআরআই।

স্বাদুপানির ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৬৪ প্রজাতি বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। বিএফআরআই বিলুপ্তপ্রায় ২০ প্রজাতি (টেংরা, গুতুম, পাবদা, গুলশা, মেনি, ফলি, দেশি সরপুঁটি, কৈ, শিং, মাগুর, গুজি আইড়, বাটা, ভাগনা, গনিয়া, কালিবাউস, মহাশোল, চিতল, খলিশা, বালাচাটা) মাছের প্রজনন ও চাষাবাদের কৌশল উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করেছে। ৬১টি মৎস্যচাষ ও ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বরিশালে ৬ষ্ঠ অভয়াশ্রম চিহ্নিতকরণ করেছে। ২০১৪ সালে সারা দেশের প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ ভিয়েতনামী কৈ প্রজাতির খামারে মড়ক লাগে। তিন বছরের গবেষণায় কৈ মাছের রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করে। মাছের ক্ষত রোগ নিরাময়ে ভেষজ কালোজিরার ঔষধি ব্যবহার উদ্ভাবন করেছে। হালদা নদীতে কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রের সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা উপায় নিয়ে গবেষণা করেছে। উপকূলীয় জলাশয়ে নোনা টেংরা ও পারশে মাছের পোনা উৎপাদন ও চাষ কৌশল উদ্ভাবন করেছে। সামুদ্রিক মাছের প্রজননকাল নির্ণয় করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদাসম্পন্ন কুচিয়ার পোনা উৎপাদন ও চাষ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। মিঠাপানির ঝিনুক থেকে মূল্যবান মুক্তা উৎপাদনের কৌশল উদ্ভাবন করেছে।

বিএফআরআইয়ের প্রধান নির্বাহী ও মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মৎস্য অধিদপ্তর ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণের ফলে মাছের উৎপাদন আজ ৪২ লাখ ৭৭ হাজার টন। দেশ এখন মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে আমরা ১ম, তেলাপিয়া উৎপাদনে বিশ্বে ৪র্থ। অভ্যন্তরীণ মুক্তজলাশয়ে মাছ আহরণে আমরা বিশ্বে ৩য়, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে