logo
  • Wed, 21 Nov, 2018

  ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ   ২৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

পুরো অথর্নীতিতেই ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে

ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলোর অন্যতম হলো খেলাপি ও সুশাসনের অভাব। দীঘির্দন থেকে বলে আসছি, খেলাপি যে হারে বেড়েছে তা উদ্বেগজনক।

সুশাসনের অভাবে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি ও তদারকিতে সমস্যা রয়েছে। ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ভালো নয়। এসব সমস্যার দ্রæত সমাধান জরুরি।

তা না হলে ব্যাংকিং খাতে আরও বিপযর্য় আসতে পারে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে। সামগ্রিকভাবে অথৈর্নতিক কমর্কাÐে এর প্রভাব পড়বে। শিল্প, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক বাণিজ্য মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর ফলে অথর্নীতিতে যে সব অজর্ন হয়েছে, তা ধরে রাখা যাবে না। ঋণ বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করা হচ্ছে।

ব্যাংক কমর্কতাের্দর মধ্যে একটি প্রচলিত নিয়ম হয়েছেÑ যাদের আছে তাদের ঋণ দাও, যাদের নেই তাদের দেয়ার প্রয়োজন নেই। প্রকৃত ঋণগ্রহীতাদের সাতঘাট দেখানো হয়। সৃজনশীল, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও মহিলাদের জন্য কোনো উদ্যোগ নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের সিআরআর কমানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রথম কথা হলো, সিআরআর কমানোর প্রয়োজন ছিল কিনা? এর উত্তর হলো, না। কারণ যে যুক্তিতে সিআরআর কমানো হয়েছে, তা হলো ব্যাংকের তারল্য সংকট। কিন্তু কথাটা ঠিক নয়। কারণ সব ব্যাংকের তারল্য সংকট নেই।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় যথেষ্ট তারল্য রয়েছে। আরও বড় কয়েকটি ব্যাংকের তারল্য সংকট নেই। অন্যদিকে কিছুদিন আগে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ব্যাংকের তারল্য কমাতে হবে।

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমাতে হবে। এরপর হঠাৎ করে সিআরআর কমিয়ে ব্যাংকে তারল্য বাড়ানো হলো। এটি মুদ্রানীতির সঙ্গে সাংঘষির্ক সিদ্ধান্ত। এর ফলে বিপরীতমুখী সিদ্ধান্তের খেলাপি আরও বাড়বে। বিশেষ করে নেতিবাচক ব্যাংকিং বাড়বে। পুরো অথর্নীতিতে এর প্রভাব পড়বে।

দ্বিতীয় কথা হলো, যে প্রক্রিয়ায় কমানো হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ সিআরআর কমানোর বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে আইনে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

সেখানে অথর্মন্ত্রীর সঙ্গে মিটিং করে কমানোর বিষয়টি যৌক্তিক নয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা ক্ষুণœ করা হয়েছে। এ কাজ বাংলাদেশ ব্যাংকের সুশাসনের পরিপন্থি। অন্যদিকে ব্যাংকের সুশাসনের কথা আসছে।

ব্যাংক পরিচালকরা গণমাধ্যমে নেতিবাচক সংবাদ বন্ধ করতে বলছেন। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ রিপোটর্ নেতিবাচক কিনা তা নিধার্রণ করবে কে? অন্যদিকে ব্যাংকের টাকা সাধারণ গ্রাহকের। যেখানে গ্রাহকের টাকা জমা আছে, সেখানে তাদের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে।

আর এ তথ্য জানার ক্ষেত্রে সহজ উপায় হলো গণমাধ্যম। সেখানে রিপোটর্ বন্ধ করা হলে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকের আস্থা থাকবে না। তবে কোনো পত্রিকা ভুল রিপোটর্ করলে তার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা আছে। প্রেস কাউন্সিল রয়েছে। রিপোটের্র প্রতিবাদ করা যায়। এর পর নেতিবাচক রিপোটর্ বন্ধ করার বিষয়ে কেউ কথা বললে সেটি গ্রাহকের স্বাথের্র পরিপন্থি।

ব্যাংকিং সেক্টরে রাজনীতি ঢুকে গেলে এ সেক্টর ভালো থাকতে পারে না। রাজনীতি স্বচ্ছ না হলে কিছুই ঠিক হবে না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার খুবই বিপজ্জনক। ব্যাংকিং সেক্টর সংস্কারে রাজনৈতিক দৃঢ়তা জরুরি। একমাত্র রাজনৈতিক দৃঢ়তাই ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ফেরাতে পারে। ব্যাংকের পরিচালনা পষের্দ কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে বসানোর আগে তিনি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ যাতে না করেন সেই বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। এটি ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিতকরণে সহায়ক হবে। রাজনীতির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊধ্বর্তন কমর্কতার্রা সবচেয়ে বেশি চাপে থাকেন। অন্যান্য চাপের চেয়ে লবিস্টদের চাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়ে। এ চাপের ফলে অনেক ভালো আইন থাকলেও তা প্রয়োগে শক্ত অবস্থান নিতে পারে না।

করপোরেট প্রতিষ্ঠান সাধারণত ইকুইটির চেয়ে ঋণ দিয়ে বিনিয়োগ বেশি পছন্দ করে। এ কারণে ওই প্রতিষ্ঠান কিছু ট্যাক্স মওকুফের সুবিধা পায়। এতে শিল্প-কারখানাগুলোর আথির্কভাবে দুদর্শা বাড়তে থাকে। তাই দেশের ব্যাংকগুলোকে ঋণ প্রদানে বিনিয়োগ না করে ইকুইটি বিনিয়োগের দিকে যেতে হবে।

আরেকটি বিষয়Ñ ব্যাংকগুলোকে বেশি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। কারণ বেশি নিয়ন্ত্রণ করাটা খারাপ। এ ক্ষেত্রে ব্যালান্স করতে হবে। আথির্ক খাতে গÐগোল হলে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। নিয়ম পরিপালনের ব্যাপারে সচেষ্ট না হলে সারা জীবনেও অনিয়ম-দুনীির্ত বন্ধ হবে না। শুধু আইটি মেশিন থাকলেই হবে না, ব্যাংকের আইটি সেক্টরে দক্ষ ও সৎ-মানুষের প্রয়োজন। এগুলো চালানো লোকদের দক্ষ করে তুলতে হবে। ব্যাংকগুলোকে যথাসময়ে ঋণ দিতে হবে। ঋণ কাযর্ক্রম ও টাগের্টগুলো পরিপূণর্ হচ্ছে কিনা, তা নজরে রাখতে হবে।

লেখক : সাবেক গভনর্র, বাংলাদেশ ব্যাংক
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে