logo
  • Sun, 23 Sep, 2018

  রাহাত খান   ২৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

নিবার্চনের অপেক্ষায় রাজনীতি

বিএনপি যদি নিবার্চনে অংশগ্রহণ করে, যদি ক্ষমতায় যাওয়ার গরিষ্ঠ আসন পেয়ে যায়, অবাক হওয়ার কিছু নেই। বরিশাল বিভাগীয় শহরে হিরন, খুলনার আবদুল খালেক, রাজশাহীর লিটন, সিলেটের কামরান তো নিজ নিজ শহরের অভ‚তপূবর্ উন্নয়ন সাধন করেছিলেন। একবার তদানীন্তন বিভাগীয় কমিশনার কবি আসাদ মান্নানের আমন্ত্রণে সপরিবারে রাজশাহী শহর দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। দু-একটি রাস্তা ছাড়া প্রায় সব রাস্তা গাছগাছালিতে ভরা। যানজট নেই, ধুলোবালি নেই, ভারি নিজর্ন ও সুন্দর। রাজশাহীর মতো উল্লিখিত অন্য কটি শহরও আগের তুলনায় যথেষ্ট উন্নত হয়েছিল। কিন্তু যারা নিজেদের শহর এমন সুন্দরভাবে গড়ে তুলেছেন তারা পরবতীর্ মেয়র নিবার্চনে পরাজিত হয়েছিলেন। এর কারণটা কী?

নিবার্চনের অপেক্ষায় রাজনীতি
অনেকের সংশয় ছিল, এখনো কারও কারও আছে যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পাটির্ সংক্ষেপে বিএনপি ২০১৯ সালের নিধাির্রত সাধারণ নিবার্চনে অংশগ্রহণ করবে না। তবে বিএনপির ঢাকা ও লন্ডন নেতৃত্ব যেন উপলব্ধি করতে পারছে, ২০১৪ সালের সাধারণ নিবার্চনে অংশ না নেয়াটা যেমন ভুল হয়েছে, কিছুটা হলেও বিএনপি মূলধারার রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েছে, তেমনি ২০১৯ সালের নিবার্চনে অংশগ্রহণ না করাটাও হবে বতর্মান ও ভবিষ্যতের বিচারে এক ধরনের রাজনৈতিক হারিকিরি।

রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল মনে করেন, ২০১৯ সালের নিবার্চন, যা হয়তো ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, বিএনপিবিহীন ‘একতরফা’ নিবার্চন হবে না। আওয়ামী লীগকে নিবার্চনী মাঠে ‘ওয়াকওভার জয়’ কিছুতেই দেয়া হবে না। বিএনপি এ-ও মনে করে কারচুপি, হস্তক্ষেপ, ষড়যন্ত্র ইত্যাদির বাইরে নিবার্চন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হলে তারা বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। বিএনপির উগ্র অংশটি মনে করে, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নিবার্চনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তিরিশ-চল্লিশটির বেশি সংসদীয় আসন পাবে না। পাবে কী করে? জনগণ তো আওয়ামী শাসনামলে উন্নয়নের নামে দুনীির্তর ভয়াবহ বিস্তার, সুশাসনের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার নামে কাযর্ত পুলিশি রাষ্ট্র কায়েম করেছে। নিবার্চনে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও কারচুপি না হলে ভোট বিপ্লবের মধ্যদিয়ে জনগণ আওয়ামী লীগকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে শাসনক্ষমতা থেকে। এই হলো উগ্র অংশের বিএনপির ধারণা।

যাহোক নিবার্চনে অংশগ্রহণ করার ব্যাপারে বিএনপি এবার বেশ অনেকটা ইতিবাচক কথাবাতার্ বলছে। ২০১৪ সালের নিবার্চনের আগে ও পরে বিএনপির যে ধ্বংসাত্মক ও নাশকতামূলক অবস্থান ছিল, এবার সেটা আর নেই। বিএনপি যা কোনোদিন মান্য করেনি, অধুনা তারা সেই গণতন্ত্রের কথা খুব বলছে। গণতন্ত্রকে তারা নাকি পুনরুদ্ধার করতে চায়। বিএনপি গণতান্ত্রিক নিবার্চনের ধারায় দুবার জয়ী হয়েছিল বটে। জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিল। তবে গণতন্ত্র বলতে তো শুধু নিবার্চনী ধারা বোঝায় না। রাষ্ট্রীয় ও সংসদীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বলশালী ও কাযর্কর করতে পারাই গণতন্ত্রের প্রাণ-প্রতিষ্ঠা করা বোঝায়। ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক ধারায় নিবার্চনে জয়লাভের পর আমাদের দুটি প্রধান দল গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করতে কোন দল কতটা কাযর্কর ভ‚মিকায় ছিল। সে তকের্ না যাওয়াই ভালো। গেলে সাতকাহন বলতে হবে। সেদিকে আর না-ই গেলাম। শুধু এটুকু বলি, যাদের আমলে গণতন্ত্র বঁাধা ছিল হাওয়া ভবনের তালামারা একটি কক্ষে, তারা না হয় গণতন্ত্রের কথা বলুন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা বলবেন না। দয়া করে বলবেন না। দেশের সাধারণ মানুষকে বোকা ভাববেন না। হ্যঁা, নিজেদের বদলানো যায়। সে হিসেবে বিএনপি নেতারা যদি গণতন্ত্রের কথা বলেন, দেশের মানুষ বিএনপির ব্যাপারে খানিকটা আশান্বিতই হবে। বিএনপির শাসনপবের্ কোনোকালে গণতন্ত্র ছিল না। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার বলাটা তাই এক ধরনের মিথ্যাচার বৈ কিছু নয়। তবে গণতন্ত্রের কথা বলতে আপত্তি করার কিছু নেই।

বিএনপি যদি নিবার্চনে অংশগ্রহণ করে, যদি ক্ষমতায় যাওয়ার গরিষ্ঠ আসন পেয়ে যায়, অবাক হওয়ার কিছু নেই। বরিশাল বিভাগীয় শহরে হিরন, খুলনার আবদুল খালেক, রাজশাহীর লিটন, সিলেটের কামরান তো নিজ নিজ শহরের অভ‚তপূবর্ উন্নয়ন সাধন করেছিলেন। একবার তদানীন্তন বিভাগীয় কমিশনার কবি আসাদ মান্নানের আমন্ত্রণে সপরিবারে রাজশাহী শহর দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। দু-একটি রাস্তা ছাড়া প্রায় সব রাস্তা গাছগাছালিতে ভরা। যানজট নেই, ধুলোবালি নেই, ভারি নিজর্ন ও সুন্দর। রাজশাহীর মতো উল্লিখিত অন্য কটি শহরও আগের তুলনায় যথেষ্ট উন্নত হয়েছিল। কিন্তু যারা নিজেদের শহর এমন সুন্দরভাবে গড়ে তুলেছেন তারা পরবতীর্ মেয়র নিবার্চনে পরাজিত হয়েছিলেন। এর কারণটা কী?

কারণটা জনগণ জানেন। এবারের সাধারণ নিবার্চনে বিএনপির পক্ষে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বিস্মিত হব নিশ্চিত, তবে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে তো আর অবিশ্বাস করা যাবে না।

বিএনপি এবার নিবার্চনে যেতে চায়। তবে কতগুলো শতের্। ২০১৪ সালের নিবার্চনেও বিএনপি কতগুলো শতর্ আরোপ করেছিল। প্রধান শতর্ ছিল দলনিরপেক্ষ তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে সাধারণ নিবার্চন অনুষ্ঠিত হতে হবে। ততদিনে সংবিধান থেকে নিবার্চনকালীন তত্ত¡াবধায়ক সরকারের আইন তুলে দেয়া হয়েছে। সেই তুলে দেয়া অস্থায়ী বিধান কোনোক্রমেই সংবিধানে ফিরিয়ে আনার ইচ্ছা আওয়ামী লীগের ছিল না। তবে আওয়ামী লীগ সরকার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নিবার্চন কীভাবে করা যায় এ নিয়ে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে বসতে এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসতে রাজি ছিল। কিন্তু তাদের লোকদের যেমন এক কথা, বিএনপিও ছিল সেই অবস্থানে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফোন করে খালেদা জিয়াকে বললেন, আসুন আমরা দুজন আলোচনায় বসি, সমাধান একটা বেরিয়ে যাবে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিএনপিকে দিতে চেয়েছিলেন, তবু যদি বিএনপি নিবার্চনে আসতে রাজি হয়।

বিএনপি এবং দলীয় নেত্রীর এক কথা। সংবিধান বদলে দিয়ে হলেও দলনিরপেক্ষ তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে নিবার্চন দিতে হবে। যদি তেমনটা করা না হয় তাহলে বিএনপি তো যাবেই না, দেশে নিবার্চন হতেও দেয়া হবে না।

সংবিধান মোতাবেক সাধারণ নিবার্চন দেয়া ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। নিবার্চন অনুষ্ঠিত হলো নিদির্ষ্ট দিনে। সে ইতিবৃত্ত সবারই জানা। নিবার্চনের দিন কয়েকশ পোলিং বুথ পুড়িয়ে দেয়া হয়, বহু পোলিং স্টেশন পুড়িয়ে দেয়া হয়, কয়েকশ মানুষকে হত্যা করা হয়, ইট দিয়ে পুলিশের মাথা থেঁতলে দেয়া হয়! ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু নিবার্চন করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন আপসহীন। বিএনপির নিবার্চনে অংশ না নেয়া, ধ্বংসাত্মক কাযর্কলাপ, অগ্নিসন্ত্রাস ইত্যাদি দেশকে যে একটা সাংবিধানিক সংকটে ফেলার অপচেষ্টা, সেটা তিনি, তার সরকার এবং দেশের গরিষ্ঠ অংশের জনগণ বুঝতে পেরেছিলেন। জনগণ ২০১৪ সালে বিএনপির হরতাল কিংবা গণতন্ত্র ‘পুনরুদ্ধারের’ নামে নাশকতা, হরতাল ও অগ্নিসন্ত্রাস গ্রহণ করেনি।

২০১৯ সালের নিবার্চনে বিএনপি অংশ নিতে চায় বলেই মনে হয়। তবে নিবার্চনে যেতে আবার শতর্ আরোপের রাজনীতি। তাদের ভাষ্যÑ নিবার্চনে তারা যাবে যদি পালাের্মন্ট ভেঙে দিয়ে সবর্দলীয় সরকারের অধীনে নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয়। যদি খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বিনাশতের্ মুক্তি দেয়া হয়। নেত্রী খালেদাকে জেলে রেখে বিএনপি নিবার্চনে যাবে না।

ওয়াকিবহাল মহল মনে করেন এসবই বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল। ভেতরে ভেতরে নিবার্চনে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে, মুখে বলছে খালেদাকে জেলে রেখে তারা নিবার্চনে যাবে না।

বিএনপির এই ধরনের রাজনৈতিক কৌশল বহু আগে ব্যথর্ হয়েছে। সময় ও সুযোগ কারও জন্য বসে থাকে না। এবারও তেমনটাই হবে, যদি বিএনপি সেই অবান্তর ও ব্যথর্-প্রমাণিত রাজনৈতিক কৌশল বজায় রেখে নিবার্চন বজর্ন করে।

গত প্রায় দশ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় সরকার দরিদ্র বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের সমৃদ্ধ হতে থাকা দেশে পরিণত করেছে। দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। দুনীির্ত নেই, তা নয়। তবে সুখের সঙ্গে যেমন বিড়ম্বনা থাকে, উন্নয়নের সঙ্গে তেমনি জড়িয়ে আছে দুনীির্ত। পুঁজিবাদী ব্যবস্থা বলি, সাম্যবাদী ব্যবস্থা বলি, উন্নয়ন, সমৃদ্ধির সঙ্গে দুনীির্ত জড়িয়ে থাকে কমবেশি। তাই বলে গত প্রায় দশ বছরে বাংলাদেশে দুনীির্তর কোনো ‘হাওয়া ভবন’ তৈরি হয়নি। দুনীির্তকে একটা সহনীয় মাত্রায় আনতে হবে অতি অবশ্যই। সে প্রচেষ্টা ১৪ দলীয় সরকার করছে বলেই তো জানি।

লেখক : কথাশিল্পী ও সাংবাদিক
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে