logo
  • Fri, 21 Sep, 2018

  মোহাম্মদ আবু নোমান   ২৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

নিবার্চনী মাঠ সবার জন্য সমতল হবে

নানা ধরনের অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কা থাকা সত্তে¡ও আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনের আমেজের পূবার্ভাস পাওয়া যাচ্ছে। অনেক হতাশার মধ্যেও জাতির সামনে এক উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে বাতাসে নানা গুঞ্জনও ভেসে বেড়াচ্ছে। জনগণ সেসব গুঞ্জনে কান দিতে চান না। হতাশার কোনো কারণ দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ দেখতে চান না, বুঝতে চান না। চলতি বছরের শেষ দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চন অনুষ্ঠিত হতে পারে। কিন্তু শুধুই সংবিধানের দোহাই এবং নিবার্চনের জন্য নিবার্চন হলে ভালো হবে কি? সাথর্ক নিবার্চনের জন্য দরকার সব দলের ও সব মতের লোকের অংশগ্রহণ। এ ব্যাপারে নিবার্চন কমিশনের ভ‚মিকাই মুখ্য, তবে সরকারকে অবশ্যই সহায়ক হতে হবে।

ক্ষমতা বদলের জন্য নিবার্চন অপরিহাযর্। কিন্তু সেই নিবার্চন কীভাবে হবে? কারা করবে? নিবার্চনে সুষ্ঠু হওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে কী? না আগামী নিবার্চনও ২০১৪ সালের মতো একতরফা হবে? এসব প্রশ্নের হ্যঁা-না উত্তর দেওয়ার সময় এখনো আসেনি। নিবার্চনে যাওয়া, না যাওয়া নিয়ে বিএনপির মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। দলের একাংশ মনে করে, বতর্মান সরকারের অধীনে নিবার্চনে যাওয়া ঠিক হবে না। কারণ সেই নিবার্চন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না বলে তারা মনে করে। সব দলকে নিবার্চনে আনতে প্রথমে নিবার্চন কমিশনকে নিবার্চনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সব নাগরিক যেন তাদের ভোটগুলো তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে স্বাধীনভাবে দিতে পারে, নিবার্চন কমিশনকে যথাযথভাবে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলেই দেশে সুখ-শান্তি ফিরে আসবে এবং জনগণ তাদের প্রাপ্য অধিকার গ্রহণ করতে পারবে।

একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নিবার্চনের জন্য এই মুহূতের্ নিবার্চন কমিশনের দায়িত্ব শান্তিপূণর্ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। নিবার্চনের জন্য আবশ্যিক শতর্, সবার জন্য মাঠ সমতল করা। এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ না নিলে শুধু মতবিনিময়সভায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। নিবার্চন কমিশনকে আগে থেকেই কঠোর কমর্পরিকল্পনা করে, সুষ্ঠু ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার ঝামেলা দূর করতে হবে। অন্যান্য দলকেও সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। জনগণ পছন্দসই প্রাথীের্ক ভোট দিবে, সেই ক্ষেত্রটি তৈরি করার দায়িত্ব কিন্তু নিবার্চন কমিশনেরই।

মনে রাখতে হবে, রাজনীতিকদের কোনো অবিবেচক সিদ্ধান্ত বা ভুলের কারণে যদি দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিপন্ন হয়ে পড়ে, নিবার্চন ভÐুল হয়ে যায় তাহলে দেশ অগণতান্ত্রিক অপশক্তির কবলে পড়তে পারে, ভয়ংকর বিপযর্য় নেমে আসতে পারে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিও বেশির ভাগ দল শ্রদ্ধাশীল নয়। এ কারণেই আমাদের রাজনীতি ও নিবার্চন দিন দিন সংঘাতপূণর্ হয়ে উঠছে। প্রায়ই রাজনীতিকরা প্রতিপক্ষকে উৎখাত, নিশ্চিহ্ন বা নিমূর্ল করার হুমকি দেন। সুস্থধারার রাজনীতিতে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়।

গণতন্ত্রের পূবর্শতর্ সুষ্ঠু নিবার্চন। একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নিবার্চন জাতিকে একটি সুন্দর সংসদ উপহার দিতে পারে। সব দল অংশ নিলে নিবার্চন নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না। এ ক্ষেত্রে সরকারি দলের ভ‚মিকা খুবই গুরুত্বপূণর্। এর বাইরে সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে সবর্জনগ্রাহ্য মতগুলো নিয়ে নিবার্চনের ব্যবস্থা করতে হবে নিবার্চন কমিশনকে। আগামী জাতীয় সংসদ নিবার্চন যদি বিতকির্ত হয়, তাহলে দেশ ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেশবাসীর।

রাজনীতি কোনো ব্যবসা নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধানরা যা যা বলবে সে কথা শুনে জনগণকে নাচলে চলবে না। রাজনীতিকরা চাইলেও যেন জনগণকে বিভ্রান্ত করতে না পারে। দুনীির্তবাজ, ঋণখেলাপি, সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতাদের জনগণ ভোট দেবে না। সব দলই যেন সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেয়। আমরা মনে করি, জনগণকে আরো সতকর্ ও সচেতন হতে হবে। দলগতভাবে বা স্বতন্ত্রভাবে জ্ঞানী-গুণী, সৎ, যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিরা যাতে নিবাির্চত হতে পারেন সেদিকে জনগণকেই নজর রাখতে হবে। যাদের মধ্যে দেশাত্মবোধ আছে, যারা মানুষের জন্য কাজ করবে এবং মানবিক হবে তারাই যেন সরকারে আসতে পারে সে জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এ-ও ভাবতে হবে, রাজনীতি হবে জনগণের জন্য; ক্ষমতা, মোহ বা ক্ষমতায় টিকে থাকতে নয়। এভাবে জনগণ সচেন হলে রাজনীতিকরাও ইতিবাচক রাজনীতির পথে ফিরে আসতে বাধ্য হবে।

লেখক : কলাম লেখক
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে