logo
রোববার ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২ পৌষ ১৪২৫

  এম সাখাওয়াত হোসেন   ২৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

নিবার্চন কমিশনের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে

উপমহাদেশের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের সংবিধান রচয়িতারা ১৯৭২ সালে সংবিধানের আওতায় শুধু স্বাধীন নিবার্চন কমিশনই গঠন করেননি বরং এর পূণর্ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য ধারা ১১৮ থেকে ১২৬ পযর্ন্ত সবিস্তারে বিন্যস্ত করেছেন। এসব ধারার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিবার্চন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তদুপরি মূল নিবার্চনী আইন গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২-এ (আরপিও) সংবিধানের ধারার আওতায় স্বাধীন নিবার্চন কমিশনের স্বাধীনতাকে শুধু নিশ্চিতই নয়, কাযর্কর করার ধারাগুলো সবিস্তারে বিন্যস্ত রয়েছে। প্রথমে ২০০৮ সালে অধ্যাদেশ এবং পরে ২০০৯ সালে আইনের মাধ্যমে সচিবালয় নিবার্হী বিভাগের অধীন থেকে নিবার্চন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

নিবার্চনী ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের (ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডি, আমাদের জন্য নিবার্চন কমিশন) তিনটি স্বীকৃত মডেল রয়েছে। এসব মডেল হলো : স্বাধীন নিবার্চন কমিশন (ওহফবঢ়বহফবহঃ গড়ফবষ); সরকারি বা সরকার নিয়ন্ত্রিত কমিশন বা নিবার্চন ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এড়াবৎহসবহঃধষ) এবং মিশ্র ব্যবস্থাপনা সংস্থা (গরীবফ গড়ফবষ)। নিবার্চনী মডেল নিয়ে কয়েক বছর আগে ইন্টারন্যাশনাল আইডিএ (ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ওউঊঅ) নামক সংস্থা বিশ্বের ১৮৭টি দেশে এক জরিপ চালিয়েছিল। ওই জরিপের ফলাফলে প্রতীয়মান যে, বিশ্বের উঠতি ও উন্নয়নশীল গণতান্ত্রিক দেশে স্বাধীন নিবার্চন কমিশন প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। ১৮৭টি দেশের মধ্যে ১৩১ দেশে (৭০%) স্বাধীন নিবার্চন কমিশন, ৩৩টি দেশে (১৮%) সরকার নিয়ন্ত্রিত এবং ২৩টি দেশে (১২%) মিশ্র নিবার্চনী সংস্থা রয়েছে। এ জরিপের ফলাফল থেকে প্রতীয়মান যে, স্বাধীন নিবার্চন কমিশন বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য। তবে বহু দেশে নামমাত্র স্বাধীন কমিশন প্রতিষ্ঠিত রয়েছে, যেখানে সরকারের পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।

একটি দেশ কী ধরনের নিবার্চনী ব্যবস্থাপনা মডেল গ্রহণ করবে তা নিভর্র করে সে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা, সামাজিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার হার এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে। তবে যে কোনো মডেলের ব্যবস্থাপনা হোক না কেন, অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নিবার্চন শুধু ব্যবস্থাপনা সংস্থার ওপরই নয়, আরও অনেক শরিকের কাযর্কর সহযোগিতা এবং নিবার্চন কমিশনের প্রত্যয়ের ওপরও নিভর্র করে। নিবার্চন কমিশন বা ব্যবস্থাপনা সংস্থা সমগ্র নিবার্চন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে কাযর্কর ও প্রধান সংস্থা হলেও যদি আইনের প্রয়োগ সঠিক না হয় এবং প্রধান শরিকদের মধ্যে সরকার ও বিচার বিভাগ সম্পূণর্ভাবে সহযোগিতা না করে তবে গ্রহণযোগ্য নিবার্চনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।

এই উপমহাদেশের সব কটি দেশেই সাংবিধানিক কাঠামোর আওতায় স্বাধীন নিবার্চন কমিশন প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। সবের্শষ সংযোজন শ্রীলংকা। শ্রীলংকা ২০১৭ সালে নিবার্চন কমিশনকে সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন কমিশন হিসেবে পুনগর্ঠন করেছে।

উপমহাদেশের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের সংবিধান রচয়িতারা ১৯৭২ সালে সংবিধানের আওতায় শুধু স্বাধীন নিবার্চন কমিশনই গঠন করেননি বরং এর পূণর্ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য ধারা ১১৮ থেকে ১২৬ পযর্ন্ত সবিস্তারে বিন্যস্ত করেছেন। এসব ধারার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিবার্চন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তদুপরি মূল নিবার্চনী আইন গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২-এ (আরপিও) সংবিধানের ধারার আওতায় স্বাধীন নিবার্চন কমিশনের স্বাধীনতাকে শুধু নিশ্চিতই নয়, কাযর্কর করার ধারাগুলো সবিস্তারে বিন্যস্ত রয়েছে। প্রথমে ২০০৮ সালে অধ্যাদেশ এবং পরে ২০০৯ সালে আইনের মাধ্যমে সচিবালয় নিবার্হী বিভাগের অধীন থেকে নিবার্চন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কাঠামোগত নিবার্চন কমিশন কতৃর্ক গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও নিবার্চন কমিশনের আওতায় রয়েছে।

বাংলাদেশ নিবার্চন কমিশনের নিবার্চনী আইন আরপিও ১৯৭২ এবং অন্যান্য আইনকে অধিকতর কাযর্কর ও প্রায়োগিক করতে বিধি তৈরির ক্ষমতাও রাখে। নিবার্চনকালীন আইন এবং বিধির বাইরে সংবিধানের ধারা ১১৯-এর আওতায় পরিপত্র দ্বারাও কাযর্কর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। নিবার্চনকালীন নিবার্চন কমিশনের পরিপত্রও আইনের সমতুল্য বলে স্বীকৃত যদি ওই পরিপত্র কোনো বিদ্যমান আইনের পরিপন্থি না হয়। এ বিষয়ে যে শুধু ভারতেই নয়, বাংলাদেশেও উচ্চতর আদালতের একটি ব্যাখ্যা রয়েছে।

ওপরের সংক্ষিপ্ত আলোচনা, বিভিন্ন গবেষণা এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণেও প্রতীয়মান যে, উপমহাদেশের অন্যান্য নিবার্চন কমিশনের তুলনায় বাংলাদেশের নিবার্চন কমিশন আইনের দিক থেকে অনেক শক্তিশালী। অথচ ওই বিশ্লেষণেই প্রতীয়মান হয় যে, আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত এবং আইনের প্রয়োগে উপমহাদেশের অন্যান্য কমিশন থেকে বাংলাদেশ অনেকাংশে দুবর্ল। এর প্রধান কারণ বেশিরভাগ সময়ে বাংলাদেশ নিবার্চন কমিশন প্রধান শরিকদের কাছ থেকে তেমন সহযোগিতা না পাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ দুবর্লতা।

এ পযর্ন্ত বাংলাদেশে ১২টি নিবার্চন কমিশন গঠিত হয়েছে (বতর্মান নুরুল হুদা কমিশনসহ) এবং ১১টি কমিশনের তিনটি ছাড়া আটটি কমিশন দশটি জাতীয় সংসদ নিবার্চন পরিচালনা করেছে। এসব নিবার্চনের মধ্যে তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সময় চারটি নিবার্চন ছাড়া বাদবাকি নিবার্চনগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যথেষ্ট বিতকর্ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে এরশাদ সাহেবের নিবার্চনগুলো বাদ দিলেও ১৯৯৬ এবং ২০১৪ সালের নিবার্চন নিয়ে নতুন করে বলার তেমন কিছু নেই। তবে সবচেয়ে খারাপ নিবার্চনের উদাহরণ হয়ে থাকবে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নিবার্চন।

যেমনটা আগেই বলেছি, নিবার্চন কমিশন কাযর্কর হবে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে সব ধরনের নিবার্চন পরিচালনার ক্ষেত্রে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সরকারের নিচে জাতীয় সংসদ এবং অন্যান্য স্থানীয় সরকার নিবার্চনের সময় সবার্ত্মক নিরপেক্ষভাবে সহযোগিতা না করার কারণে প্রায় সব নিবার্চন কমিশনকে নানা ধরনের প্রতিক‚লতার মধ্যে কাযর্ক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে। অনেক নিবার্চন কমিশন নিজের দুবর্লতার কারণেও কাযর্কর হতে পারেনি। অনেক সময় সরকারের ভিন্ন অবস্থানের কারণে নিবার্চন কমিশনের অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করা যায়নি। বিশেষ করে নিবার্চনের নিরাপত্তা বিধানে সেনা নিয়োগের প্রশ্নে। যেমনটা হালে সেনা নিয়োগ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নীতিনিধার্রক পযাের্য়র একজন নেতার বক্তব্য। এ বক্তব্যের সূত্রপাত বতর্মান প্রধান নিবার্চন কমিশনারের আগামী জাতীয় সংসদ নিবার্চনে সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনার মতামত ব্যক্ত করার পর। প্রশ্ন উঠেছে যে, সেনা মোতায়েন করা বা না করার এখতিয়ার নিবার্চন কমিশনের রয়েছে কিনা?

যে ধরনের বক্তব্য যাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতকর্ উঠেছিল তা মোটেই কাম্য নয়। বাংলাদেশের এগারোটি জাতীয় সংসদ নিবার্চনে সেনা মোতায়েন অপরিহাযর্ ছিল। তবে এ ধরনের বিতকের্র কারণে আরপিওতে সামরিক বাহিনী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংজ্ঞায়িত ছিল। পরে বাদ দেয়া হয়। কেন দেয়া হয় তার ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। আমাদের দেশে ভারতের মতো আলাদা কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো বাহিনী নেই। ভারতে নিবার্চন কমিশন রাজ্য পুলিশের সহায়তা নিলেও কেন্দ্রীয় বাহিনী স্ট্যাবিলাইজিং এবং অনেকটা নিরপেক্ষ ফোসর্ হিসেবে নিরাপত্তার বেশিরভাগ দায়িত্বে নিয়োজিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এ কাজটিই সামরিক বাহিনী করে থাকে। তা ছাড়া বেসামরিক বাহিনীগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়েও জনমনে ধেঁায়াশা রয়েছে। অতীতে বহুলাংশে বিভিন্ন ঘটনার কারণে এমন অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। আরও বিশেষ কিছু কারণেই সেনা মোতায়েন আবশ্যক হয়ে পড়ে।

অতীতে তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে নিবার্চন ছাড়া বহু সময় সেনাবাহিনী নিয়োগ নিয়ে নিবার্চন কমিশনের সিদ্ধান্তে সরকারগুলো মোটেও গুরুত্ব দেয়নি। এর সূত্রপাত হয় ১৯৯১ সালে পূণর্ গণতন্ত্র পুনবর্হালের পর থেকে। ২০০৩ সালে তৎকালীন নিবার্চন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নিবার্চনের প্রাক্কালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের কাছে একাধিকবার সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তার সিদ্ধান্ত জানালেও সরকার কাযর্কর ব্যবস্থা নেয়নি। তৎকালীন প্রধান নিবার্চন কমিশনার মরহুম আবু সাঈদ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, সেনাবাহিনী মোতায়েন না করলে ব্যাপক রক্ত ঝরতে পারে। সেনা মোতায়েন নিয়ে নিবার্চন কমিশন ও সরকার প্রায় মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। দুঃখজনক হলো যে, স্বাধীন নিবার্চন কমিশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকার সহযোগিতা করেনি। শুধু সেখানেই থেমে থাকেনি, প্রধান নিবার্চন কমিশনারকে নিয়ে সংসদেও কিছু কিছু সরকারি দলের সদস্যরা বিরূপ মন্তব্য করে অভিসংশনের দাবিও করেছিলেন।

এ ধরনের দাবি বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। ওই সময়ে নাগরিক সমাজে প্রশ্ন উঠেছিল, এতে নিবার্চন কমিশনের স্বাধীনতা ক্ষুণœ হয়েছে কিনা? সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা? অবশ্যই হয়েছিল কিন্তু এর প্রতিকার ছিল আইনের আশ্রয় অথবা সংবিধানের রক্ষক হিসেবে উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ। কিন্তু বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে এর পরও এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও কেউ আদালতের দারস্থ যেমন হননি, তেমনি আদালত সপ্রণোদিত হয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি। অবশ্য নিতে পারতেন কিনা তা সংবিধান বিশেষজ্ঞরাই ভালো বলতে পারবেন। বিভিন্ন পত্রপত্রিকার সূত্রমতে, ওই নিবার্চনে প্রায় ১০০-র ওপর মানুষের মৃত্যু হয়।

সেনা মোতায়েন নিয়ে বিতকর্ এবং নিবার্চন কমিশনের সঙ্গে মতভেদ সেখানেই শেষ হয়নি। ২০০৪ সালে ঢাকা-১০ আসনের উপনিবার্চনে একজন প্রাথীের্ক আদালতে যেতে হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনা মোতায়েনের জন্য। আদালতের রায় সত্তে¡ও নিবার্চন কমিশন পরিকল্পনা মোতাবেক সেনা মোতায়েন করতে পারেনি। ওই নিবার্চনও দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। সময়কাল ছিল বিএনপির শাসনামল। ২০১১ সালেও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নিবার্চনে সেনা নিয়োগ নিয়ে নিবার্চন কমিশনের সিদ্ধান্ত সরকার বাস্তবায়ন করেনি। তখনো সংবিধানের প্রশ্ন উঠেছিল এবং তা অমীমাংসিত থেকে যায়। ওই সময় নিবার্চনী আইনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সামরিক বাহিনী অন্তভুর্ক্ত ছিল। তথাপি ওই সময়ের সবের্তাভাবে অধিকতর স্বাধীন নিবার্চন কমিশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় ওই নিবার্চন অনুষ্ঠানে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল।

বাংলাদেশে এ পযর্ন্ত ১২টি নিবার্চন কমিশনের বেশিরভাগ কমিশন জনগণের আস্থা অজর্ন অথবা আস্থা খোয়াতে হয়েছে। এর অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা, বোঝাপড়ার অভাব এবং অভ্যন্তরীণ দুবর্লতার কারণে। অনেক উদাহরণ রয়েছে, যেখানে নিবার্চনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরও সরকারি দলের প্রভাবে অনেক বিধি পরিবতর্ন করা হয়েছে। একইভাবে নিবার্চন চলাকালীন অথবা কয়েকদিন আগে সুষ্ঠু নিবার্চনের পরিবেশ না থাকলেও নিবার্চন কমিশন নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেনি বা করেনি, যার কারণে দেশকে রাজনৈতিক ডামাডোলে পড়তে হয়েছে। যেমনটা হয়েছিল ১৯৯৪ সালে মাগুরা-২ উপনিবার্চনকে ঘিরে, যার জের এখনো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে উত্তপ্ত করে রেখেছে। ওই সময়ে ক্ষমতাসীন সরকার এবং বিরোধী দল কেউই নিবার্চন কমিশনের সঙ্গে সহযোগিতা যেমন করেনি, তেমনি স্বাধীন নিবার্চন কমিশন তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করেনি।

যাহোক বাংলাদেশের ইতিহাসে হাতেগোনা কয়েকটি কমিশন ছাড়া প্রায় প্রতিটিতেই অভ্যন্তরীণ দুবর্লতা এবং অন্যান্য কারণে তেমন কাযর্কর হতে দেখা যায়নি বা পারেনি। যদিও আইনের দিক থেকে বাংলাদেশ নিবার্চন কমিশন সবের্তাভাবে স্বাধীন হলেও প্রধান শরিকদের বিশেষ করে দলীয় সরকারের তরফ থেকে সুষ্ঠু, অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য নিবার্চন অনুষ্ঠানে সবের্তা সহযোগিতা না করা হয় তবে নিবার্চন কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করা কষ্টকর হয়। কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষায় যেমন সরকারের ভ‚মিকার প্রয়োজন, তেমনি অন্যান্য সংস্থার সক্রিয় সহযোগিতার প্রয়োজন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূণর্ হলো বিচারব্যবস্থার সক্রিয় ভ‚মিকা। নিবার্চন কমিশন স্বাধীনভাবে তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে না পারলে কাগজে-কলমে শক্তিশালী নিবার্চন কমিশন কাযর্কর হতে পারে না।

সাবেক নিবার্চন কমিশনার

কলাম লেখক ও পিএইচডি গবেষক

যযরহঃষনফ@ুধযড়ড়.পড়স
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে