logo
  • শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

  মাহমুদুল হক আনসারী   ২৬ জুলাই ২০১৮, ০০:০০  

নিবার্চন ও উন্নয়ন

একাদশ জাতীয় নিবার্চন দেশের স্বাধীনতার সাবের্ভৗমত্ব ও জনগণের জন্য অতীব গুরুত্বপূণর্ একটি নিবার্চন। অতীতের যে কোনো নিবার্চনের চেয়ে এ নিবার্চন অধিক গুরুত্ব বহন করে। তাই দেশ ও জনগণ সরকারের স্বাথের্ই দুনীির্তবাজ কালো টাকার মালিক অসৎ শ্রেণির লোক ও দলকে বয়কট করার শপথ এখন থেকেই গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। দুনীির্তর শক্তি দুবর্ল হবে এবং মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। এ দায়িত্ব সম্মিলিতভাবে দেশপ্রেমিক সব শ্রেণি ও পেশার মানুষকে পালন করতে এগিয়ে আসতে হবে।

নিবার্চন ও উন্নয়ন
নিবার্চনের সঙ্গে উন্নয়নের সম্পকর্। প্রাথীর্র সঙ্গে দলের সম্পকর্। উন্নয়নের সঙ্গে দেশ ও জনগণের সম্পকর্। নিবাির্চত প্রতিনিধি ছাড়া অন্য কেউ উন্নয়ন করতে পারে না। উন্নয়ন আর নিবার্চন দুনীির্তমুক্ত না হলে সেখানে সঠিক উন্নয়ন জনগণ দেখতে পায় না। নিবার্চনের সঙ্গে নিবার্চনী দলের সম্পকর্। যাদের নিবন্ধন আছে তারাই দলীয়ভাবে তাদের প্রাথীর্ দিয়ে নিবার্চনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। নিবার্চনে জয়-পরাজয় প্রাথীর্ ও দলের জন্য থাকলেও সে ক্ষেত্রে প্রাথীর্ মনোনয়নে কিছু গুণাবলি দলের দেখার প্রয়োজন আছে। আমাদের দেশে নিবার্চন আসলে নানা শ্রেণি পেশার মানুষের নিবার্চনমুখী দৌড়ঝঁাপ শুরু হয়ে যায়। বড় বড় দলের নমিনেশন পেতে কোটি কোটি টাকার লেনদেন করতেও পিছু হটে না। নিবার্চনে একবার জয়ী হতে পারলেই লাভ লোকসান একসঙ্গে দুই হাতে আয় করা সম্ভব। কিছু দল গণতন্ত্রের নামে যাদের ন্যূনতম রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দূরদশির্তা, দেশপ্রেমিক ও মাতৃভ‚মির প্রতি দায়িত্বশীল বিন্দুমাত্র ভ‚মিকা নেই এমন ধরনের প্রাথীর্ও নিবার্চনের প্রাথীর্ হতে দেখা যায়। যাদের হাতে অবৈধ টাকার পাহাড় তারা অথর্ দিয়ে বড় বড় দলের নীতি-নিধার্রকদের বশ করে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে যেতে দেখছি। কঁাড়ি কঁাড়ি অথর্ খরচ করে ভোটারদের ভোট আদায় করতে দেখা যায়। এসব প্রাথীর্ জাতীয় সংসদে গিয়ে এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে দুই মিনিট গোছালো বক্তব্যও রাখতে পারে না। তারা সংসদীয় এ সময়ে নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবারকে গোছাতেই ব্যস্ত থাকে। তাদের ব্যবসা শতশত গুণ বেড়ে যায়। জনগণ এবং উন্নয়নের সঙ্গে তাদের দেখা মেলে না। কারণ যে পরিমাণ অথর্ খরচ করে তারা নিবাির্চত হয়েছে অবশ্যই তার চৌদ্দগুণ অথর্ ব্যবসা তাদের অজর্ন করতে হবে। বাংলাদেশের তৃণমূল থেকে জাতীয় সংসদ পযর্ন্ত নিবার্চনের এমন প্রাথীর্ পরিক্রমা জনগণ দেখতে পায়। এ ধরনের প্রক্রিয়া ছোট-বড় সব দলের মধ্যে বিদ্যমান। এসব রাজনৈতিক মনোনয়ন জনগণ ভালো চোখে দেখে না। তারপরও রাজনৈতিক দলগুলো এ ধরনের আদশর্ ও নীতিহীন কিছু প্রাথীর্ জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে কোনো কোনো এলাকা থেকে প্রাথীর্র বিজয় দেখা গেলেও বহু এলাকায় প্রাথীর্র ভরাডুবি দেখা যায়। আসলে নিবার্চন ও ক্ষমতার পালাবদলের উদ্দেশ্য হওয়া চাই উন্নয়ন। দেশ এখন উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। শহর, গ্রাম, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পযর্ন্ত উন্নয়নের ছেঁায়া দেখা যাচ্ছে। উন্নয়ন রাষ্ট্রীয়ভাবে নিজস্ব গতিতে চলছে। বলতে গেলে উন্নয়নের একটা গতি শুরু হয়ে গেছে। এ গতিকে কেউ ইচ্ছে করে থামাতে পারবে না। নতুন প্রজন্ম উন্নয়ন অগ্রগতিতে বিশ্বাসী। দৃশ্যমান উন্নয়ন অগ্রগতিকে তারা সাধুবাদ জানাচ্ছে। অফিস আদালতে আগের মতো যুগ যুগ ধরে ফাইন মামলা বন্দি থাকে না। যে কোনো ঘটনা দুঘর্টনায় সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত কমিটির রিপোটর্ বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছেমাফিক ভোগান্তির দিন শেষ। অন্যায় অবিচার জুলুম করলেই সঙ্গে সঙ্গে এখন তাদের বিচারের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যতই প্রভাবশালী আর ক্ষমতাধর হোক না কেন বতর্মান সরকার নিজ দলের হলেও এ ক্ষেত্রে ছাড় দিচ্ছে না। এতে এ প্রজন্মের ভোটারের নিকট সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। উন্নয়ন এবং শৃঙ্খলায় দেশ যেভাবে সামনের দিকে এগোচ্ছে এতে সরকারের সাফল্য ও প্রশংসা জনগণের কাছে বাড়ছে। শহর থেকে গ্রাম পযর্ন্ত তথ্যপ্রযুক্তি এবং কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণে শিক্ষাথীর্রা ঘরে বসেই সরকারের সব ধরনের তথ্য বিজ্ঞপ্তি হাতের নাগালেই পেয়ে যাচ্ছে। ছাত্র আন্দোলন রাজনৈতিক হানাহানি সহিংস কমর্সূচি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। জনগণ তাদের কমর্যজ্ঞ চালিয়ে দিনযাপন করতে বাধা পাচ্ছে না। নিদ্বির্ধায় অসংকোচে জনগণের পথচলা নিবির্ঘœ হয়েছে। নিদির্ষ্ট শ্রেণি ও পেশার মানুষ ছাড়া অন্য জনগণ প্রশাসন ও প্রলিশের হয়রানির শিকার হচ্ছে না। দোকান মাকের্ট প্রতিষ্ঠানে একসময় সন্ত্রাসী চঁাদাবাজদের ভয়ে ব্যবসা করতে পারত না। এখন সে ধরনের পরিবেশ খুব কমই পাওয়া যাবে। ব্যবসার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদের বক্তব্য তারা ভালোভাবে ব্যবসায়িক কাযর্ক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইচ্ছেমতো স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় মাসের পর মাস অবরোধ রেখে শিক্ষা কাযর্ক্রম বন্ধ রেখে শিক্ষাজীবন ধ্বংস করার কমর্সূচি এখন আর কেউ করতে পারে না। রাজনীতির নামে ধ্বংসাত্মক কমর্সূচি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আছে। সরকারি-বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন তাদের নিজস্ব নিয়মনীতিতে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সন্ত্রাসী চঁাদাবাজ মাদক বেচাবিক্রি প্রায় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। সরকারের কঠোর পদক্ষেপ এবং মনোবলের কারণে এসব সম্ভব হচ্ছে। একাদশ জাতীয় নিবার্চন নিকটেই চলে আসছে। ভোট নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবতর্ন হয়। এ পরিবতর্ন যেন দুনীির্তকে এগিয়ে না আনতে পারে। অব্যাহত উন্নয়নের শৃঙ্খলা ধরে রাখতে হবে। উন্নয়নে অথর্ দুনীির্তর মাধ্যমে যাতে অন্যের পকেটে ঢুকতে না পারে সে দায়িত্ব কঠিনভাবে পালন করতে হবে জনগণকে। যুগ যুগ ধরে যারা দুনীির্তর মাধ্যমে পকেট ভতির্ করেছে, আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে এ জাতীয় প্রাথীের্দর বয়কট করতে হবে। তাদের সম্পকের্ সজাগ থাকতে হবে রাজনৈতিক দল এবং জনগণকে। আগামী জাতীয় নিবার্চনে যেসব দল অংশগ্রহণ করবে তারা যেন সৎ যোগ্য আদশর্বান দেশপ্রেমিক লোককে মনোনয়ন দেয়। অথর্ আর কালো টাকার দাপঠে যেন চোরাকারবারি মাদক পাচারকারি দুনীির্তগ্রস্ত কেউ যেন প্রাথীর্ হতে না পারে। সে বিষয়ে রাজনৈতিক দল নিবার্চন কমিশনকে কঠোর হতে হবে। অব্যাহত উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে হলে অবশ্যই গতিশীল দায়িত্বশীল দেশপ্রেমিক সরকার দরকার। যাদের পক্ষে উন্নয়ন এবং দুনীির্ত নিয়ন্ত্রণ সম্ভব তাদেরই ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠা করা জনগণের দায়িত্ব। কোনো ধরনের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র আর চক্রান্ত যেন দেশের উন্নয়নের গতিকে থামিয়ে দিতে না পারে সে দায়িত্ব জনগণকে সঠিকভাবে পালন করতে হবে। উন্নয়ন দে বিরোধী সব চক্রান্ত ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে একাদশ জাতীয় নিবার্চনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে জাতিকে সফল হতে হবে। এ সফলতার মাধ্যমে আগামী দিনের জাতীয় সমস্যা কোটি কোটি শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠী যাতে কমর্সংস্থান পায় সে চিন্তা এখন থেকে করতে হবে। প্রতিবছর সব বাজেটে অধিক হারে কমর্সংস্থান তৈরি করতে হবে। ইতোমধ্যেই সারা পৃথিবীতে শ্রম রপ্তানির পথ ছোট হয়ে আসছে। হু হু করে পৃথিবীব্যাপী বেকার কমর্সংস্থান সংকুচিত হয়ে আসছে। এসব চিন্তা পরিকল্পনায় এনে আগামী নিবাির্চত সরকারকে কমর্সংস্থানের অধিক গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। শ্রমশক্তি বিদেশে রপ্তানি না করে নিজ দেশেই আত্মমযার্দার সঙ্গে শিক্ষিত যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলেই দেশ আর কারও মুখাপেক্ষী হবে না। স্বাধীন বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে বিশ্বকে দেখাবে। অতএব, একাদশ জাতীয় নিবার্চন দেশের স্বাধীনতার সাবের্ভৗমত্ব ও জনগণের জন্য অতীব গুরুত্বপূণর্ একটি নিবার্চন। অতীতের যে কোনো নিবার্চনের চেয়ে এ নিবার্চন অধিক গুরুত্ববহন করে। তাই দেশ ও জনগণ সরকারের স্বাথের্ই দুনীির্তবাজ কালো টাকার মালিক অসৎ শ্রেণির লোক ও দলকে বয়কট করার শপথ এখন থেকেই গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। দুনীির্তর শক্তি দুবর্ল হবে এবং মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। এ দায়িত্ব সম্মিলিতভাবে দেশপ্রেমিক সব শ্রেণি ও পেশার মানুষকে পালন করতে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই নিবার্চন ও উন্নয়ন জাতির জন্য সফলতা বয়ে আনবে। লেখক : কলাম লেখক
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে