logo
শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ২৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণ

হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণ
মো. মাহবুবুর রহমান সাজিদ

বর্তমান আধুনিক যুগে হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণ! এটা যেমন অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য, তেমনি কারো কারো কাছে এটা কল্পনারও বাইরে। আর সেই অবিশ্বাস্য বিষয়টিকে সম্ভব করে দেখালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোভার স্কাউট গ্রম্নপের দুজন দুঃসাহসী গার্ল ইন রোভার লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রাবিয়া আক্তার, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আঁখি আরা জামান আনন্দী এবং সমতট মুক্ত স্কাউট গ্রম্নপের ত্বোহা। তারা ৬ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে যাত্রা শুরু করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের যাত্রা শুরু হয় ৭ অক্টোবর নরসিংদী থেকে। তাদের গন্তব্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, চায়ের রাজ্য মৌলভীবাজার জেলা। হেঁটে ১৫০ কিলোমিটারের যাত্রাপথে তারা জনসচেনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সঁ্যাশে (বিশেষ উত্তরীয়) 'বাল্যবিবাহ রোধ করি' 'ইভটিজিং প্রতিরোধ করি' 'নারী নির্যাতন বন্ধ করি' লেখা স্স্নোগান বহন করেন। কৌতূহলী অনেকেই জানতে চান তারা কেন এমনটা করছেন। তাদের উদ্দেশ্যই বা কী? তারা জানান রোভারিংয়ের সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড 'প্রেসিডেন্ট রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড' প্রাপ্তির লক্ষ্যে সেবাস্তরে রোভারদের পায়ে হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার বা নৌকাযোগে ৩০০ কিলোমিটার কিংবা সাইকেলযোগে ৫০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে একটি প্রোগ্রাম সম্পন্ন করতে হয়- যা স্কাউটিংয়ের্ যাম্বলিং নামে পরিচিত। আমরা সেই প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ১৫০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রম্নপের ৫২ বছরের ইতিহাসে ছেলেদের একাধিক দল র?্যাম্বলিং করলেও গার্ল ইন রোভার দলের এটাই প্রথম। তাই তাদের উচ্ছ্বাসটাও ছিল দেখার মতো।

স্কাউটিংয়ের মূলমন্ত্র সেবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের মাঝে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা প্রচার করেন তারা। আপনাদের ভ্রমণ কেমন হলো জানতে চাইলে আনন্দী বলেন, নরসিংদী, ভৈরব, মাধবপুর, শায়েস্তাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। এটা আমাদের জীবনের সেরা একটি অভিজ্ঞতা। ভবিষ্যতে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। দলনেতা রাবিয়া আক্তার বলেন, আমাদের এই অভিযান সমাজের জন্য এক নতুন বার্তা। মেয়েরাও যে ছেলেদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়, সুযোগ পেলে মেয়েরাও করতে পারে বিশ্বজয়। আমরা সেটাই করে দেখাতে চেয়েছি। ১১ অক্টোবর দুপুরে মৌলভীবাজার শহরে পৌঁছালে শেষ হয় তাদের পরিভ্রমণ। তারা সবশেষে শাহ্‌ সৈয়দ মোস্তফা কলেজ রোভার স্কাউট গ্রম্নপের সম্পাদকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পরিভ্রমণের ইতি ঘটান। আর এভাবেই শেষ হয় তাদের পায়ে হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পথ পরিভ্রমণ।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে