logo
শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৫

  মাহবুব আলম   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

জাতীয় বিতর্ক উৎসব 'তফাত হোক শিরদাঁড়ায়'

জাতীয় বিতর্ক উৎসব 'তফাত হোক শিরদাঁড়ায়'
বিতর্ক মানুষকে যুক্তিবাদী হিসেবে গড়ে তোলে। যুক্তিতে মিলে অজ্ঞতার বেড়াজাল থেকে মুক্তি। যুক্তি দেখায় শিরদাঁড়া করে থাকার পথ। তাইতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় বিতর্ক সংগঠন জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন (জেইউডিও) 'ইভ্যালি-জেইউডিও জাতীয় বিতর্ক উৎসব-২০২০' এর আয়োজন করে। 'তফাৎ হোক শিরদাঁড়ায়' এই স্স্নোগানে আয়োজিত উৎসবে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ৩২টি দল অংশগ্রহণ করে। গত ১৫ ফেব্রম্নয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দ্বীন মুক্তমঞ্চে চূড়ান্ত পর্বের বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্কের বিষয় ছিল 'এই সংসদ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি সমর্থন করে'। এর পক্ষে ছিল ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি ও বিপক্ষে ছিল খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি। ফাইনালে সরকারি ও বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি যুক্তিতর্কে ঘণ্টাখানেক সংসদীয় অধিবেশন চলে। এই বিতর্ক দেখতে মুক্তমঞ্চে ছিল অনেক ৯দর্শক। যাদের মধ্যে অনেকেই শনিবারের বন্ধ কাটাতে, পাখির কিচিরমিচির শুনতে, প্রাকৃতির সান্নিধ্যে একটু সময় কাটাতে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন। কিন্তু মুক্তমঞ্চে জমকালো বিতর্ক অনুষ্ঠান দেখে সবাই বসে পড়লেন। আরও বেশি আগ্রহ হলো যখন দেখলেন তাদেরই প্রতিদিনের একটি আলোচনার বিষয় নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। তখন বিতর্ক শুনে বিষয়টির ভালো ও খারাপ দিক সম্পর্কে জেনে নিলেন দর্শকরা। আর দুই বিতর্কিত দলের যুক্তি ও পাল্টা যুক্তিতে মুগ্ধ হয়ে দর্শকদের করতালিতে এই সংসদ অধিবেশনটি বেশ জমে উঠেছিল। অবশেষে যুক্তির লড়াইয়ে খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটিকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি। এই দলের সদস্য ছিলেন- আরিফুল হাসান পার্থ, ওমর রাদ চৌধুরী, শাহরিয়ার আহমেদ।

অন্যদিকে কলেজ পর্যায়ে ২২টি দল এই বিতর্ক উৎসবে অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্য থেকে চূড়ান্তপর্বে শহিদ বীর উত্তম লেফটেন্যান্ট আনোয়ার গার্লস কলেজকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা কমার্স কলেজ। আর স্কুল পর্যায়ে অংশ নেয় ৩০টি দল। তার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয় আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রানার আপ হয় একই স্কুলের অন্য একটি দল।

এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় ওমর রাদ চৌধুরী ডিবেটর অব দ্য ফাইনাল এবং ডিবেটর অব দ্য টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হন শাহরিয়ার আহমেদ। আর পাবলিক স্পিকিংয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন জাবির রোকেয়া আশা, দ্বিতীয় জিলস্নাল হোসাইন সৌরভ ও আদমজি স্কুল ডিবেটিং ক্লাবের আবরার ফাইয়াজ তৃতীয় স্থান অধিকার করে। অন্যদিকে বারোয়ারী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জাবির হাসান মাহমুদ সম্রাট প্রথম, তাসফিয়া আফরিন ফারিয়া দ্বিতীয় ও রোকেয়া আশা তৃতীয় স্থান অধিকার করে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক আলমগীর কবিরসহ সংগঠনটির সাবেক নেতারা। পরে একটি আঞ্চলিক বিতর্কের মধ্য দিয়ে এ বিতর্ক উৎসবের পর্দা নামে। এই বিতর্কে কোলকাতা, ঢাকা, যশোর, চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী ও বরিশালের পক্ষ থেকে একজন করে প্রতিনিধি অংশ নেয়। বিতর্কের বিষয় ছিল- ভালোবাসায় আমরাই সেরা। দেশের সবচেয় বড় এই বিতর্ক উৎসব আয়োজন সম্পর্কে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশনের সভাপতি ও উৎসবের আহ্বায়ক তাজরীন ইসলাম তন্বী বলেন, 'জেইউডিও'র সদস্যদের আপ্রাণ চেষ্টা ছিল একটি চমৎকার মানসম্মত ও পরিচ্ছন্ন আয়োজন উপহার দেয়ার। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে এরকম বড় একটি আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করায় আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করলাম আমরা। যেটি দেশের বিতর্ক অঙ্গনেই একটি বিরল দৃষ্টান্ত। এই আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধন্যবাদ জানাই।'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে