logo
শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

ছোটগল্প

ভদ্র বিড়াল

আব্দুর রাজ্জাক

ভদ্র বিড়াল
আমি নয়ন, আমি তৃতীয় শ্রেনিতে পড়ছি! ছোট্ট এক বাড়িতে আমি আর মা ও বাবা মিলে বাস করি! প্রতিদিন সকাল, দুপুর, রাতে যখনি সবাই মিলে খেতে বসি, তখন একটি বিড়াল পায়ের কাছে এসে বারবার মিউমিউ করে ডাকে। যখন মাকে বলি লাঠি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য, তখন বিড়ালটি দৌড়ে মায়ের পায়ের কাছে গিয়ে মিউমিউ বলে আর সামনের দুটি পা লম্বা করে দিয়ে সালাম জানায়! আমি তাকে দেখে অবাক হয়ে চেয়ে থাকি, কিছুই বলতে পারি না! যখন থালা থেকে একমুটো ভাত তার মুখের সামনে দেয়, তখন সে ভাতগুলোর দিকে একটু চেয়ে থাকার পর আবারও আমার মুখের দিকে তাকিয়ে মিউমিউ করে! যখন আবার তাকে চলে যেতে বলি, তখন সে আমার পায়ের কাছে এসে তার লেজ দিয়ে আমার পায়ে বাড়ি দেয়, আর মিউমিউ করে চিৎকার করে!

আজও ঠিক তেমনি সবাই মিলে খেতে বসেছি! এমনি সময় বিড়ালটি এসে খুব জোরে জোরে চিৎকার করছে! আমি তখন মাকে বললাম-

-মা মা এই বিড়ালটিকে তুমি একটু শাক আর একটু রান্না করা আলু দাও দেখি!

মা তখন আমার কথা শুনে বিড়ালটিকে কিছু শাক এবং কিছু আলু মুখের সামনে দিল! বিড়ালটি আবারও সেগুলো না খেয়ে আমার দিকে চেয়ে আর আমার চেয়ারের চারপাশে ঘুরে ঘুরে মিউমিউ করছে! তখন বাবা তার থালা থেকে মাছের একটা বড় কাঁটা তার মুখের কাছে ছুড়ে দিল! বিড়ালটি তখন শক্ত মাছের কাঁটা এক নিমিষেই খেয়ে ফেলল! আমি তখন আমার থালা থেকে কিছু মাংসের টুকরো তার কাছে ছুড়ে দিলাম! পাঁচ মিনিট পর দেখি মাংস একটুও নেই সেখানে পড়ে; কিন্তু সেই শাক, আলু ও ভাত যেখানে মা এবং আমি দিয়েছিলাম খেতে সেখানেই সবকিছু পড়ে রয়েছে! মা তখন আমার দিকে মুখ করে হেঁসে হেঁসে বলছে-

-দেখেছো নয়ন বিড়ালটি কতই ভদ্র!

মায়ের এই কথায় আমিও হাসতে শুরু করলাম! এভাবেই খাওয়া শেষ হয়ে গেল, বিড়ালটিও চলে গেল! রাতে যখন আবার খেতে বসলাম! বিড়ালটি তখন আবারও এলো, আমার দিকে মুখ করে মিউমিউ আওয়াজে খাবার চাইল! আমি তখন যেগুলো খাচ্ছিলাম বিড়ালকেও তা একটু একটু করে দিলাম কিন্তু বিড়ালটি একটুও সেই খাবারগুলো খেলো না! বিকালের মতো রাতেও আমার চারপাশে ঘুরছে আর লেজ দিয়ে আমার পায়ে ধাক্কা দিচ্ছে! সবার খাবার খাওয়া শেষ হলো! আমি যখন চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালাম তখন বিড়ালটি আমার পায়ের কাছে এসে দাঁড়িয়ে আমার মুখের দিকে চেয়ে রইল! আমি যখন অন্য পাশ দিয়ে যেতে চাচ্ছি বিড়ালটিও তখন সেখানে দাঁড়িয়ে আমাকে যেতে বাধা দিচ্ছে! মা-বাবা তখন চেয়ে চেয়ে বিড়ালের কান্ড দেখছে! আমি তখন বিড়ালের দিকে চেয়ে বললাম-

-তোমাকে এতগুলো খাবার দিলাম; কিন্তু তুমি একটুও খেলে না! এখন আমি ঘরে যাবো সেটাও যেতে দিচ্ছ না তুমি, কেন বলো তো? বিড়ালটি চেয়ে চেয়ে আবারও মিউমিউ করছে! তখন মা পাতিল থেকে থালা ভরে মাংস নিয়ে বিড়ালটির মুখে দিল! তখন বিড়ালটি আমার যাওয়ার রাস্তা ছেড়ে দিয়ে মাংস খেতে শুরু করল! তখন মা আবারও হেঁসে হেঁসে বলল-

-দেখেছো নয়ন, বিড়ালটি কত ভদ্র, ভালো কিছু ছাড়া সে খেতেই চায় না! আমরা শাক-সবজি, আলু, ডিম এগুলোই বেশি খাই; কিন্তু ওরা এগুলো খায় না! ওরা সবসময় ভালো ভালো খাবার খায়! তখন মায়ের কথা শুনে বুঝলাম! হঁ্যা সত্যি বিড়ালটি আসলেই ভদ্র! ভালো খাবার ছাড়া সে খেতেই চায় না!
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে