logo
  • Fri, 21 Sep, 2018

  যাযাদি হেলথ ডেস্ক   ২৫ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০  

এক অনন্য চকিৎিসা

এক অনন্য চকিৎিসা
হাটর্ এমন একটি অঙ্গ যা অবিরাম, সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে নিয়মিত স্পন্দিত হয়, যাতে শরীরের সব দূষিত রক্ত হাটর্ হয়ে ফুসফুসের সঞ্চালিত হয় এবং ফুসফুস থেকে বিশুদ্ধ রক্ত হাটের্র মাধ্যমে পুরো শরীরে সঞ্চালিত হয়। এ ছন্দপতন হলেই রক্ত সঞ্চালনের ব্যাঘাত ঘটে। স্পন্দনের মাত্রা মিনিটে ১০০-এর বেশিও হতে পারে আবার ৬০-এর কমও হতে পারে। স্বাভাবিক মাত্রা ৭৫ থেকে ৮৫ প্রতি মিনিটে। ঘুমে কম থাকে, পরিশ্রমে বা ব্যায়ামে বাড়ে। কখনো কখনো এর মাত্রা অসুখে ৩০ থেকে ২৫-এ নেমে আসে। তখন রোগীর মাথা ঝিমঝিম করে, চোখে অন্ধকার দেখে, মূছার্ যায়, অজ্ঞান হয়ে পড়ে, মুখ থেকে ফেনা বের হয়, খিঁচুনি হতে পারে, মেঝেতে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাতও পেতে পারে কমর্রত অবস্থায়। ঘুমন্ত অবস্থায় অ্যাটাক হয়ে থাকে। যাকে ডাক্তারি ভাষায় ঝঃড়শবং অফধসং ঝুহফৎড়সব বলে। এর চিকিৎসা অত্যন্ত সহজ, কিন্তু তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি খরভব ঝঁঢ়ঢ়ড়ৎঃ দিয়ে হাসপাতালে পেঁৗছতে হবে। সেখানে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের চিকিৎসায় প্রথমে ঞবসঢ়ড়ৎধৎু চধপব সধশবৎ ও পরে প্রয়োজনে চবৎসধহবহঃ চধপব সধশবৎ সংযোজন করা যায়। মানবদেহের হৃৎপিÐের স্পন্দনের নিদির্ষ্ট তাল বজায় রাখতে হৃৎপিÐের ভেতরেই ব্যাটারি আছে, যাকে চধপব সধশবৎ বলে। যখন হৃৎপিÐের চধপব সধশবৎ কমর্ক্ষমতা হারায় তখন কৃত্রিম ব্যাটারি বা অৎঃরভরপরধষ চধপব সধশবৎ লাগাতে হয়। চধপব সধশবৎগুলো ব্যাটারি জাতীয়Ñ ঞবসঢ়ড়ৎধৎু চধপব সধশবৎ ড়হব ইধহফ জধফরড়-এর মতো আর চধৎসধহবহঃ চধপব সধশবৎগুলো আগের দিনের চড়পশবঃ ঘড়ির মতো। অস্থায়ী ব্যাটারি সংযোজনে পায়ের রক্তনালির ভেতর দিয়ে তার ঢুকিয়ে বাইরে ছোট রেডিওর মতো ব্যাটারি লাগানো হয়। যখন স্থায়ী ব্যাটারি লাগানো হয় তখন অস্থায়ী ব্যাটারি খুলে দেয়া হয়-রোগী সহজে চলাচল করতে পারে, রোগীকে খড়পধষ অহধবংঃযবংরধ দিয়ে বুকের ডান বা বাম পাশে চামড়ার নিচে এ স্থায়ী ব্যাটারি স্থাপন করা হয়। ১৫ থেকে ২০ বছর রোগী এ ব্যাটারি নিয়ে ভালোভাবে জীবনযাপন করবেন। তারপর নতুন ব্যাটারি আবার সংযোজন করা যায়। রোগী এরপর থেকে গধমহধঃরপ ঋরবষফ এ যাবে না, বুকের কাছে কোনো গধমহবঃ বা চুম্বক স্পশর্ করবে না, গড়নরষব ংবঃ বুক পকেটে রাখবে না, আকাশে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকবে না, বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র সাবধানে নাড়াচাড়া করবে। এ চিকিৎসা জীবন বঁাচানোর জন্য। পরে স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য অত্যন্ত সহায়ক, এ অসুখ বৃদ্ধবয়সে বেশি হয় (৬০ থেকে ৭০ বছর রয়সে)। আজকাল ৪০-৫০ বছর রয়সের করোনারি হাটর্ অ্যাটাক হয়ে এ রোগ হতে পারে। জন্মগত কারণে এ রোগ আরও অল্প বয়সে হয়। হাটের্র অপারেশনের জটিলতা এবং ওষুধের কারণে কমপ্লিট হাটর্ বøক হতে পারে। আমাদের দেশে ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরেই এর চিকিৎসা চালু আছে। জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আলহেলাল কাডির্য়াক সেন্টার, ল্যাব এইড কাডির্য়াক সেন্টার, ইব্রাহিম কাডির্য়াক সেন্টার, শিকদার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইউরো বাংলা কাডির্য়াক সেন্টার, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, খাজা ইউনুস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইউনাইটেড হাসপাতাল ও অ্যাপোলো হাসপাতালে এ চিকিৎসা সুবিধা আছে। অদূর ভবিষ্যতে সুদূর দিনাজপুরে জিয়া হাটর্ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও এ জরুরি চিকিৎসার সুযোগ নিতে পারবে রোগীরা। চধপব সধশবৎ-এর রোগীদের কাডর্ সঙ্গে রাখতে হবে। বিমানবন্দরে মেটালিক ডিটেক্টরে চেক করার সময় চধপব গধশবৎ লাগানো বলতে হবে। দঁাত তোলার বা যে কোনো অপারেশনের আগে ডাক্তারকে অবশ্যই জানাতে হবে যে রোগীর চধপব গধশবৎ লাগানো আছে। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা থেমে নেইÑ আজকাল আরও নতুন নতুন চধপব গধশবৎ আবিষ্কার হচ্ছে এবং সংযোজনও আমাদের দেশেও শুরু হয়েছেÑ কোনোটা অতিরিক্ত স্পন্দন হলে কমিয়ে দেয় হাটির্বটÑ আবার কোনোটা অনিয়মিত স্পন্দনকে করে নিয়মিত, সুস্থ অবস্থায় বেঁচে থাকা মানুষের অদম্য আকাক্সক্ষাকে বিজ্ঞান সফল করে তুলবে এ আশা নিয়ে শেষ করছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে