logo
  • Thu, 15 Nov, 2018

  অনলাইন ডেস্ক    ২১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০  

পশু জবাইয়ে আইন মানুন

  আমাদের দেশে যেখানে-সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই হয়। পশুর মাংসের মাধ্যমে অ্যানথ্রাক্স, জলাতঙ্ক, য²াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়াতে পারে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় পশু জবাই ও পশুর মাংস বিলিবণ্টনে শৃঙ্খলা আনতে ২০১১ সালে প্রণীত হয় ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন’। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে এই আইন মানা বাধ্যতামূলক।  বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন মো. রায়হান ওয়াজেদ চৌধুরী

পশু জবাইয়ে আইন মানুন
নানা আয়োজন এবং প্রয়োজনে সুস্বাদু খাবার হিসেবে মাংস সংগ্রহ করতে বছরজুড়ে পশু জবাই হয়ে থাকে। এসব পশু জবাইয়ের প্রক্রিয়া  নিয়ন্ত্রণ-মানসম্মত মাংসপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পকের্ ২০১১ সালে প্রণীত হয় ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন’। এ আইনের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে স্বাস্থ্য, পশুস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষা করা। আইনে বলা হয়েছে, জবাইখানার বাইরে পশু জবাই করা যাবে না, জবাইয়ের পরিবেশ হতে হবে মানসম্মত, সঠিক বজর্্যব্যবস্থাপনা থাকতে হবে, পশু জবাইয়ে নিয়োজিত কমীের্দর সংক্রামক রোগ থাকা যাবে না, আইন লঙ্ঘনকারী/ অপরাধী অনূধ্বর্ এক বছর বিনাশ্রম কারাদÐ অথবা ন্যূনতম ৫ হাজার এবং অনূধ্বর্ ২৫ হাজার টাকা আথির্ক দÐ অথবা উভয় দÐে দÐিত হবেন ইত্যাদি।

আইনে জবাইখানার বাইরে পশু জবাই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিক্রির জন্য সব পশু জবাই করতে হবে কেবল পশুর নিদির্ষ্ট জবাইখানায় অথার্ৎ জবাইপূবর্ পশু পরীক্ষা, পশু জবাই এবং জবাই পরবতীর্ কারকাস পরীক্ষার জন্য সরকার কতৃর্ক অনুমোদিত কোনো ভবন বা স্থানে। তবে বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান বা উৎসবে জবাইখানার বাইরে পশু জবাই করা যাবে। যেমন ঈদুল আজহা, ঈদুল ফিতর বা অন্য কোনো ধমীর্য়, সামাজিক অনুষ্ঠানে, সরকার কতৃর্ক সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা ঘোষিত অন্য কোনো উৎসব বা অনুষ্ঠান এবং পারিবারিক চাহিদার ভিত্তিতে পারিবারিক ভোজনের উদ্দেশ্যে জবাইখানার বাইরে পশু জবাই করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে শতর্ হচ্ছে এরকম স্থানে ও উপায়ে পশু জবাই করতে হবে যেখানে পানি ও পানির উৎস, বায়ু বা পরিবেশের অন্য কোনো উপাদান দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না এবং একই সঙ্গে বজর্্য অপসারণ বা ফেলতে হবে নিধাির্রত উপায় এবং স্থানে।

বাণিজ্যিকভাবে পশুর মাংস বিক্রি করার উদ্দেশ্যে জবাইখানা, মাংস বিক্রি স্থাপনা এবং মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপন এবং এ জন্য সরকারের কাছ থেকে বিশেষ লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা বিধিবদ্ধ সংস্থা লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়া বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে জবাইখানা বা মাংস বিক্রয় স্থাপনা এবং মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপন করতে পারবে না। জবাইখানা, মাংস বিক্রয় স্থাপনা এবং মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপন করার জন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা মহাপরিচালক বা তার কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ভেটেরিনারি কমর্কতার্র কাছে নিধাির্রত পদ্ধতিতে ও ফরমে আবেদন করতে পারবেন। ইস্যুকৃত লাইসেন্সের মেয়াদ হবে লাইসেন্স ইস্যুর তারিখ থেকে ১ (এক) বছর। লাইসেন্সধারী লাইসেন্সে উল্লিখিত কোনো শতর্ ভঙ্গ করলে বা এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের জন্য দÐিত হলে মহাপরিচালক বা তার কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ভেটেরিনারি কমর্কতার্ ওই লাইসেন্স স্থগিত বা রহিত করতে পারিবে।

আইন অনুযায়ী, পশু জবাই, মাংস প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কমীর্ সংক্রামক অথবা ছেঁায়াচে রোগমুক্ত কিনা, তা উপযুক্ত চিকিৎসক কতৃর্ক প্রত্যায়িত হতে হবে এবং উপযুক্ত চিকিৎসক কতৃর্ক প্রদত্ত সনদপত্র জবাইখানা, মাংস বিক্রয় স্থাপনা, মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানার মালিক, ব্যবস্থাপক বা অন্য কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সংরক্ষণ করবেন এবং প্রয়োজনে ভেটেরিনারি কমর্কতার্ বা ভেটেরিনারিয়ানকে প্রদশর্ন করতে বাধ্য থাকবেন। ‘উপযুক্ত চিকিৎসক’ বলতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্ব স্ব অধিক্ষেত্রে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কমর্কতার্ বা মেডিকেল অফিসার এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন মেডিকেল অফিসার।

আইনের বিশেষ বিধি অনুসারে জবাইখানার পরিবেশ ও মান  নিধার্রণ এবং পশু,  মাংস ও মাংসজাত পণ্য পরিবহন ও বিপণন সরকার নিধাির্রত বিধি মোতাবেক করতে বলা হয়েছে। যদি প্রতীয়মান হয় যে, পশু, মাংস বা মাংসজাত পণ্য পরিবহনের সময় বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে, তবে তিনি বিধি অনুযায়ী উক্ত পশু, মাংস ও মাংসজাত পণ্য বাজেয়াপ্ত, অপসারণ বা ধ্বংস করতে অথবা অন্য কোনো পদ্ধতিতে তা নিষ্পত্তি বা বিলি-বন্দোবস্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে মহাপরিচালক অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ভেটেরিনারি কমর্কতার্।

পশু বা মাংস বা মাংসজাত দ্রব্যাদি আটক ও অপসারণ করার ক্ষমতাও দেয়া হয়েছে এই আইনে। বলা হয়েছে, মহাপরিচালক বা তার কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ভেটেরিনারি কমর্কতার্ বা ভেটেরিনারিয়ান তাদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে সময় সময়, প্রয়োজনীয় সহায়তা জবাইখানা, মাংস বিক্রয় স্থাপনা ও পরিবেশন স্থাপনা, মাংস প্রক্রিয়াকরণ কারখানা, অন্য কোনো স্থান বা যানবাহনে প্রবেশ করতে পারবেন। যদি কোনো ভেটেরিনারি কমর্কতার্ বা ভেটেরিনারিয়ান তার আওতাধীন এলাকা পরিদশর্নকালে এই মমের্ সন্তুষ্ট হন যে, এই আইন বা বিধি ভঙ্গ করে পশু জবাই, জবাইকৃত পশু অথবা পশুর মাংস পরিবহন অথবা মাংস বা মাংসজাত পণ্য বিক্রয় করা বা পরিবেশন করা হয়েছে, তাহলে তিনি ওই পশু অথবা মাংস বা মাংসজাত পণ্য অথবা যানবাহন আটক করতে পারবেন অথবা আটক করার নিদের্শ দিতে বা বিধি অনুযায়ী অপসারণ করতে বা করানোর নিদের্শ প্রদান করতে পারবেন। এই আইন অথবা বিধির সঙ্গে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে, এরকম কাযর্ক্রম ও অবস্থা পরিলক্ষিত হলে এই আইন বা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

যদি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা এ আইন বা তার অধীন প্রণীত বিধির কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, তাহলে ওই লঙ্ঘন ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে, যার বিচার মোবাইল কোটর্ আইন, ২০০৯ অনুসারে করা যাবে। যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনে প্রণীত বিধির কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন বা তদনুযায়ী দায়িত্ব সম্পাদনে অথবা আদেশ অথবা নিদের্শ পালনে ব্যথর্ হন, তাহলে অনূধ্বর্ ১ (এক) বছর বিনাশ্রম কারাদÐ অথবা অন্যূন ৫ হাজার এবং অনূধ্বর্ ২৫ হাজার টাকা পযর্ন্ত অথর্দÐ অথবা উভয় দÐে দÐনীয় হবেন। দ্বিতীয়ত ২৪(২) উপধারা অনুযায়ী,  যদি একই ব্যক্তি পুনরায় এ আইন বা বিধির কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন বা তদনুযায়ী দায়িত্ব সম্পাদনে বা আদেশ বা নিদের্শ পালনে ব্যথর্ হন, তাহলে তিনি অনুরূপ লঙ্ঘন বা ব্যথর্তার দায়ে অনূধ্বর্-২ (দুই) বছরের বিনাশ্রম কারাদÐ বা অন্যূন ১০ (দশ) হাজার ও অনূধ্বর্ ৫০ হাজার টাকা পযর্ন্ত অথর্দÐ অথবা উভয় দÐে দÐনীয় হবেন। নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেটের রায়ের বিরুদ্ধে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আপিল করা যাবে। সেই রায়েও সংক্ষুব্ধ হলে দায়রা জজের কাজে আপিল করার সুযোগ আছে।

নানা পুষ্টি ফসফরাস, সেলেনিয়াম, ভিটামিন বি, জিঙ্ক, আয়রন ও প্রোটিন রয়েছে পশুর গোশতে। সরকার আইন করলেও অনেকে এ আইন সম্পকের্ অবগত নন কিংবা জানলেও মেনে চলেন না। যার কারণে পরিবেশ বিপযর্য় ঘটে। বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত হয় অন্যান্য জীবিত পশু-পাখি এবং মানুষ তথা প্রাণিজগৎ। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। সাস্থ্যসম্মতভাবে পশু জবাই কিংবা মাংসের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই আইন মেনে চলতে হবে এবং আইন কাযর্করে ভ‚মিকা রাখতে হবে। তবেই সুস্থ পরিবেশে মানসম্মত খাবার গ্রহণ এবং রোগমুক্ত সুন্দর জীবনযাপন করা সম্ভব হবে।

 

লেখক : শিক্ষানবিস আইনজীবী,

চট্টগ্রাম জজ কোটর্;  ষষ.নৎধরযধহ@মসধরষ.পড়স
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে