logo
বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই, ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

  আলমগীর খোরশেদ   ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০  

ভালোবাসা ও নারী

ভালোবাসা ও নারী
তখন সন্ধ্যা বেলা। আমার সাত বছরের রাজকন্যা অথৈ টিভিতে মটু-পাতলু দেখায় ব্যস্ত। বলস্নাম...

: অথৈ মা, আব্বুকে খবর দেখতে দাও।

: নো, নেভার, দিবো না, দেখছ না, আমি কার্টুন দেখছি।

বিকেলে বই মেলায় গেছিলাম, অঞঘ নিউজে সাক্ষাৎকার নিল। এবার দুটো বই প্রকাশিত হয়েছে। একটা গল্পগ্রন্থ- হৃদয়ের রক্তক্ষরণ, অন্যটা উপন্যাস- দূরের নীল প্রজাপতি। অথৈকে সকালে কিন্ডারজয় কিনে দেবো, এই শর্তে টিভির রিমোট হাতে নিয়ে চ্যানেল চেঞ্জ করলাম। পহেলা ফাগুন, বসন্ত উৎসবের আনন্দে মাতাল টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বইমেলা ও বিভিন্ন পার্কগুলো। লাখ লাখ লোকে লোকারণ্য। টিনএজ থেকে শুরু করে বাবুর মায়েরা পর্যন্ত বসন্ত উৎসবে ব্যস্ত। পরনে বাসন্তী রঙের শাড়ি, হাতে, খোঁপায় ফুলের মালা, মাথায় ফুলের তৈরি টুপি। মেচিং করে কাচের চুড়ি, ঠোঁট দুটো লাল লিপস্টিক ও পা আলতায় রাঙানো। কারও কারও গালে... 'বসন্ত উৎসব'... লিখে রেখেছে। ছেলেরা পরেছে হলুদ পাঞ্জাবি। ওরা প্রিয় মানুষটির হাত ধরে হাঁটছে, অকারণে হেসে উঠছে, সেলফি তুলছে। জগতের সবটুকু সুখ ওদের চোখে, হাসিতে, হাঁটায়, চলায়। বাসন্তী, সবুজ, লাল... একাকার হয়ে গেছে পরিবেশ। বয়স যতই হোক, নেমে এসে পনেরো তে দাঁড়িয়ে আছে যেন।

ভ্যালান্টাইন ডে নিয়ে টিভি রিপোর্টার ব্রিফ দিচ্ছে, অথৈ কাছে আমার কোল ঘেঁষে বসেছিল, বলে উঠল-

: আব্বু, ভ্যালেটেন ডে কি?

: এসব ছোটদের জানতে হয় না, যাও খেল গিয়ে।- ওর মা বলে উঠল।

: না আমি আব্বুর সঙ্গে টিভি দেখব।

: যাও বলছি... দাঁড়াও তোমাকে ডল হাউসটা নামিয়ে দিই, খেল।

অথৈ অসহায়ের মতো আমার সাপোর্ট পেতে তাকিয়ে থাকে। বলি...

: থাক না। কেন জোর করো?

: একদম প্রশ্রয় দিও না।

ডল হাউস নিয়ে মন খারাপ করে আমার রাজকন্যা পাশের রুমে চলে যায়। মনটা খারাপ হয়ে যায়, আহারে বেচারি। ইদানীং খুব প্রশ্ন করা শিখেছে। আর জেন্ডার নিয়ে খুব কৌতূহল। পাখি, ফড়িং যাই দেখে, কোনটা মেয়ে, কোনটা ছেলে- এ নিয়ে প্রশ্ন করবেই।

মনের ডায়াফ্রামে সনোমিটারের মতো কম্পন শুরু হয় আমার। ভালোবাসা- বিষয়টা নিয়ে মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলো উজ্জীবিত হয়ে নানান যুক্তি এসে ভিড় করে চিন্তার দরজায়। দিনক্ষণ ঠিক করে, ঘটা করে সিডিউল বানিয়ে, নিয়মতান্ত্রিক ভালোবাসা কি হয় কখনো? ভালোবাসা তো বহতা নদী, যত বাধা আসুক, সমুদ্রকে ভালোবাসা, বিলীন হয়ে যাওয়া তার টার্গেট। জীবনে বেঁচে থাকার জন্য যেমন খাবার প্রয়োজন, তেমনি মনকে বাঁচাতে দরকার আবেগ, মনের টান, আর মন খুলে দ্বিধাহীন ভালোবাসা। আবেগই মানুষকে চালিত করে, বেঁচে থাকার পথ বলে দেয়। যার আবেগ বেশি, সে মায়াবী- মায়াবতী হয়। লেখক, কবিদের আবেগ, সাধারণের চেয়ে সব সময় ১ ডিগ্রি বেশি থাকে বলেই তারা লিখতে পারে। আবেগ থেকে ভাবনা আসে, আর এই ভাবনাকে অক্ষর দিয়ে সাজিয়ে সাদা কাগজে যা আঁচড় দিয়ে যায়, তা হয়ে যায় কারও মনের কথা, জীবনের কথা। জীবনের প্রতিচ্ছবিই তো সাহিত্য। ফুলে ভরা এই বসন্তে শিমুল, পলাশ, টগর- সাজে লাল আগুনের হল্কায়। দিনে হালকা গরম, রাতে পাতলা কাঁথার শীত, দূরে কৃষ্ণচূড়া গাছের পাতার আড়ালে লুকিয়ে থেকে অস্থির হয়ে কোকিল ডাকে তার প্রিয়াকে। আমের মুকুল, কাঞ্চন ফুল, সবকিছু বলে দেয় বসন্ত এসে গেছে। রাত ভোর হলেই ১৪ ফেব্রম্নয়ারি, ভালোবাসা দিবস।

ভালোবাসা কি?- ভালোবাসা একটি মানবিক অনুভূতির নাম। কোনো কিছুর উপর আনন্দময় ভাববোধ হলো ভালোবাসা। বেঁচে থাকার রসদ, যদি না থাকে, জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। ভালোলাগার অপর নাম ভালোবাসা। এ নিয়েও বোদ্ধামহলে তর্ক। ভালো যে কাউকেই লাগতে পারে, কিন্তু সেটা ওই লাগা পর্যন্তই, লাগা থেকে বের হয়ে ভালোবাসা পর্যন্ত নাও গড়াতে পারে। এখন প্রেমিকের আর আকুতি কাজ করে না, একটু কথা, একটু দেখার জন্য। এখন ইন্টারনেট, ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমু, টুইটার, ইনস্টগ্রামে চ্যাটিং করে বিকাশ ঘটে রিলেশনের। সাত সাগর পাড়ি দিয়ে ওপারে থাকা মানুষটিকে দেখার, কথা বলার সেই ব্যাকুলতা, আকুতি এখন হারিয়ে গেছে। নিমিষেই প্রযুক্তির আশীর্বাদে যোগাযোগ ঘটে, কথা, দেখাও যায়। এখন কেউ নির্ঘুম রাত পার করে না, আকাশের রুপালি চাঁদ, জোনাকি মেয়েদের সাক্ষী রেখে, চোখের জল ফেলে, জলের ফোঁটা পড়ে চিঠির লেখা অস্পষ্ট হয় না, গোলাপের পাপড়ি চিঠির ভাঁজে ঢুকিয়ে, পাউডার মিশিয়ে, লাল লিপস্টিকে ঠোঁট লাল করে, চিঠির সম্বোধনে দেয়া ঠোঁটের ছাপ আর দেখা যায় না। আধুনিকতা, ডিজিটাল লাইফ, যান্ত্রিকতা এখন কাউকে দেবদাস হতে দেয় না। ভালোবাসার মানুষটাকে হারিয়ে চন্দ্রাবতীও হয় না কেউ। ওয়েটিং লিস্টে থাকা আরেকজন মানুষের পিছু নেয়।

একটা মানুষ- সে হোক নর বা নারী, জীবন চলায় কত পারসেন্ট ভালোবাসাইবা পায়? জন্মের পর মা, শৈশবে মা-বাবা, যৌবনে বা পরিণত বয়সে মনের বা ভালোলাগার মানুষ। বিয়ের পর সারাদিনের ক্লান্তি অবসন্ন দেহে মানুষটা পাশে ঘুমিয়ে পড়ে। সে তখন কূলের বউ, পুরুষের একার না। দেবর, ভাসুর, ননদ, শ্বশুর-শাশুড়ি, জা কত কিছু মানিতে চলতে হয়।

সারাদিন পর রাতে একটু কাছে পাওয়া, তাও অন্ধকারে ফিস ফিস করে জীবনের কতটুকুই বা চাওয়া-পাওয়া হয়? তারপর বছর গড়ালেই দুজনের মাঝখানে আর একজন শোয়। তাকে নিয়েই ব্যস্ত হয়ে যায় মানুষটি। মনের অজান্তেই একটা গ্যাপ এসে যায়। তখন ইচ্ছে করলেই কাছে পাওয়া হয় না, নির্দিষ্ট পরিবেশ, সময় মেইনটেন করতে হয়। ঘুমিয়ে যাওয়া মানুষটাকে আর জাগানো হয় না। পাশ ফিরে শুয়ে একাকী জেগে হারিয়ে যেতে হয় স্মৃতির অথৈ সাগরে।

ভালোবাসা সে তো চিরকালের। এটা তো কোনো তারিখ মানে না। মনের গহিন কোণে যে মানুষটি একবার ঢুকে যায়, আমৃতু্য শিকড় ছড়িয়ে ঢুকে থাকে চিন্তায়, চেতনায়, মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলোতে, আত্মায়। মন ও দেহ মিলে আঁকড়ে ধরে রাখে মনের মানুষটিকে। জীবন চলায় ব্যস্ততম পথে ভুলে যেতে পারে মন, কিন্তু দেহ ভুলতে পারে না। প্রতিটি অঙ্গ স্পর্শের অনুভবকে ধরে রাখে স্মৃতি জাগানিয়া হয়ে। ভালোবাসার কোনো সংজ্ঞা হয় না। বাবা-মা-ভাইবোনকে ভালোবাসা, সন্তান, মনের মানুষ, বন্ধুকে ভালোবাসা, সব জায়গায় এটা ভেরিয়েশন করে। ভালোবাসার বড় শর্ত হলো সেক্রিফাইস, মন, মনন, মায়াময়, কেয়ারিং, বিপরীত মানুষটির জন্য একটা এক্সট্রা ফিলিংস কাজ করা। যাপিতজীবনের যান্ত্রিক সভ্যতা আমাদের রোবট বানিয়ে দিলেও সুযোগ পেলে নিজ থেকে কাছের মানুষটাকে একটু সময় দেয়া, হাসিমুখে আই লাভ ইউ বলতে না পারলেও টিভি দেখা বা কোথাও যাওয়ার সময় হাতটা টেনে নিয়ে নিজের হাতের মুঠোয় রাখা, অফিসে যাওয়ার পথে ওই মানুষটার চোখকে আয়না বানিয়ে মাথায় চিরুনি বুলানো যায়। চোখে চোখ রেখে বুঝিয়ে দেয়া যায় বিপরীত মানুষটাকে, তুমি একা নও, আমি ছিলাম, আছি, থাকবো। দুজন একে অন্যকে রেসপেক্ট, মূল্যায়ন একটা বিরাট ফ্যাক্টর যাপিতজীবনে। দুজনের মধ্যে মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং, ছাড় দেয়া মনোভাব সুখী হওয়ার একটা বড় শর্ত। যে কোনো ভালোবাসার সম্পর্কে ইগো, প্রেস্টিজ ধরে রাখা সুসম্পর্কের অন্তরায়। ভালোবাসার মানুষটার সঙ্গে ছোট হওয়ার কিছু নেই বা বড় ভাবারও কোনো অবকাশ নেই। বিয়ের পর সঙ্গী/সঙ্গিনীকে ভালোবাসি বলা হয়ে ওঠে না।

যাপিতজীবনের চাহিদাগুলো সামনে চোখ রাঙায়। এটা নাই, ওটা নেই, এই আনো, সেই আনো, শুনতে শুনতে ভালোলাগার মানুষটি আর প্রিয়তর থাকে না। যদি ফিনান্সিয়াল সলভেন্সি না থাকে, নুন আনতে পান্থা ফুরায়, তেমন পরিবেশে ভালোবাসাকে জানালা দিয়ে পালিয়ে যেতে বাধা দিতে হবে দুজনকেই। বর্তমান পরিস্থিতিকে মেনে নেয়ার মানসিকতা থাকলেও দুঃসময়ে সঙ্গীকে সাপোর্ট করা সুখী হওয়ার আরেকটি কৌশল।

বর-বধূর সম্পর্কটা হলো পুকুরভরা জল। যাতে ইচ্ছমতো সাঁতার কাটা। আর মনের মানুষটি হলো বৃষ্টির ফোঁটা, শরীর ভিজে একাকার তবুও তাকে ধরে রাখা যায় না। বর-বধূর সম্পর্কটা হলো বৈদু্যতিক বাতি, আঁধারের সাথী হয়ে পথ দেখাবে। আর মনের মানুষটি হলো জোসনা চাঁদের আলো। যা অনুভব করা যায়, স্থায়ীভাবে ধারণ করা যায় না। ভালোলাগার মানুষটি হলো দুরন্ত কিশোরের অতি যত্নে গুছিয়ে রাখা ঘুড়ি, নাটাই, কিংবা বিবাহিত নারীর ট্রাঙ্ক বা আলমিরাতে লুকিয়ে রাখা বিয়ের শাড়ি। যা বছর গড়ালেই খুলে দেখা, আর স্মৃতি রোমন্থন করা। সম্পর্ক ভেদে ভালোবাসার গভীরতা নির্ভর করে। কেবল একতরফা আই লাভ ইউ বললেই সম্পর্ক হয়ে যায় না। প্রয়োজন ও সময় মানুষকে পথ দেখায়। মানুষ তার প্রয়োজন-চাহিদার কাছে অসহায়।

মানুষ কখনো তার শিকড় থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। তার আচরণ, ব্যবহার, কথায় বেরিয়ে আসে তার কালচার, বংশ, ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড। যে ছিল স্বপ্ন, আশা, কোনো কারণে যদি তার সঙ্গে মিলন না হয়, বুকের ভিতর ধরে রাখতে হয় আমৃতু্য। মন না চাইলেও সংসার করে যেতে হয়, চাপিয়ে দেয়া সম্পর্কের বোঝা কাঁধে নিয়ে। বছর গড়ায়, এক ছাদের নিচে এক বিছানায়। বেবি হয় যথারীতি। তবুও কোনো এক নির্জন দুপুর, ঘুমহীন এপাশ ওপাশ রাত, কারেন্ট চলে যাওয়া অন্ধকার রাতে অচেনা নিজেকে আরও অসহায় মনে হয়। বর্তমান মানুষটির সঙ্গে কোনো মান-অভিমান হলে সামনে এসে দাঁড়ায় অতীতের স্মৃতিময় সেই মানুষটি। অবচেতন মন সহসায় প্রশ্নের সম্মুখীন হয়, এর চেয়ে ওই কি বেশি ভালো হতো, যাপিত জীবনে? ইচ্ছে করে জানতে, কেমন আছে সে? বেবি কয়টা, ওর মানুষটা আদর করে তো ওকে? ও সুখী তো? কিন্তু বাস্তবতা সামনে এসে চোখ রাঙিয়ে ধমক দেয়। এ হয় না। এমনটি এখনো সমাজ মেনে নেয়নি। কেবল স্মৃতির জানালা খুলে যায়, চাপা একটা কষ্ট বুকের ভিতর দলা পাকিয়ে উপরে উঠে আসে, ঢোক গিলতে কষ্ট হয়। লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস বুকের ভিতর থেকে বুঁস করে বেরিয়ে আসে।

ভালোবাসা- আমার কাছে পাখির বাসা বলে মনে হয়। বালোবাসা পাখির বাসা। প্রকৃতিতে পাখিদের তার সঙ্গীটির সঙ্গে এত মিল, ভালোবাসা, তা আর কোনো জীবের নেই। প্রবল আকর্ষণ, মায়া, ভালোবাসা নিয়ে ওরা গাছের ডালে পাশাপাশি গা ঘেষে বসে থাকে। ঠোঁট দিয়ে একটি অন্যটিকে শরীর খুঁটে দেয়, আদর করে। ওরা একে অন্যের চোখের আড়াল হলেই চেঁচামেচি শুরু করে দেয়। ডিম পাড়ার সময় হতেই বাসা বানায় দুজনেই খড়কুটো দিয়ে। মেয়ে পাখি ডিম পাড়ে, তা দেয় ডিমে পালা করে। কিছুদিন পর পাখির বাবু বের হয়ে আসে ডিম থেকে। বাবুটা বড় হয়, পাখনা গজায়। উড়তে শিখলেই বাসা ছেড়ে চলে যায় পাখিরা। গাছের ডালে কিংবা কোটরে একরাশ শূন্যতা নিয়ে পড়ে থাকে বাসাটি। যেখানে ভালোবাসা, সেখানেই মিলনের সুর। বিধাতা তার অস্তিত্বকে ঢেলে দিয়েছেন একজন নারীর মধ্যে। নারীতেই সৃষ্টি। নারী বা মা-ই সব। মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত। ঈশ্বর তার সৃষ্টিকে, এই ব্রহ্মান্ডকে বেষ্টন করে আছেন। পবিত্রতম ঈশ্বর নারীকেই ক্ষমতা দিয়েছেন, তার সৃষ্টিকে কন্টিনিউ করতে।

: কি হলো, এতক্ষণ ধরে ডাকছি, শোনো না?- অথৈয়ের মা খিঁচিয়ে ওঠে।

: কি, বলো।

: সারাক্ষণ তো ফেসবুকেই বুঁদ হয়ে থাকো, আমার কথা শোনবা কেমনে?

: ফালতু কথা বলো না। লেখালেখি আজকাল ফেসবুকেই করে সবাই।

আমার রাজকন্যা কই?

: রাত কয়টা বাজে দেখছো? মেয়েটা না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।

: এত বকাঝকা করো কেন তুমি মেয়েটাকে। এসব ঠিক না।

: টেবিলে ভাত বাড়া, খাও, আমার ঘুম ধরছে। গেলাম আমি।

অথৈয়ের মা ঘুমাতে চলে যায় পাশের রুমে। বিছানায় মেয়েটার কাছে গেলাম। ঘুমিয়ে আছে। দূর তারাদের দেশে হারিয়ে যাওয়া, আমার মা- যেন আমার মেয়ের রূপ নিয়ে এসেছে সংসারে। আমার মায়ের সব বৈশিষ্ট্য পেয়েছে অথৈ। ইদানীং খুব বায়না ধরে সে। মা বকা দেয়, তাই সব বায়না আমার কাছে। যতটুকু সাধ্যে কুলায়, দিই, ওর মন ভাঙতে দিই না। অথৈ আমার আত্মা। আমার ভালোবাসা...
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে