logo
  • Tue, 25 Sep, 2018

  অনলাইন ডেস্ক    ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

আবেগময় সময়ে...

সম্পকের্র সময় একে অপরের অনেক গোপন কথাই নিজেদের মধ্যে শেয়ার করা স্বাভাবিক। ফলে দু’জনের ফেসবুক, ই-মেইলের গোপন পাসওয়াডর্ও একে অপরের জানা থাকে। সম্পকের্র সমাপ্তির পর প্রিয় মানুষটির এসব যোগাযোগ মাধ্যমে আগ্রহের বশবতীর্ হয়েও ঢুকতে যাবেন না। তা হবে অনধিকার চচার্। এতে পুরনো স্মৃতিও জেগে উঠবে...

আবেগময় সময়ে...
আবেগময় সময়ে ভুল করার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই তরুণদের সতকর্ থাকতে হবে মডেল : প্রিয়াঙ্কা জামান, ছবি : এসডি ক্লিক
ছবি ঘোষ

আমরা কথায় কথায় বলিÑ প্রেম মানে না, জাত-ক‚ল মান, ধমর্-বণর্ ও বয়সের ফঁারাক। কিন্তু শতকরা কতজন তাদের প্রেমে সফল হয়েছে, আর কতজন ব্যথর্ সে হিসাব কারো কাছে আছে কী? যদিও বলা হচ্ছে বয়স প্রেমের জন্য কোনো ফ্যাক্টর না, তারপরও কৈশোর পেরুনোর সময়, তারুণ্যের আবেগময় দিনগুলোতেই সাধারণত প্রেমে পড়ার গড় হার সবচেয়ে বেশি। তার মানে যে অন্য বয়সে প্রেম মানা, কিংবা কেউ প্রেমে পড়ে না তেমনটিও নয়!

গবেষণায় দেখা গেছে, ধমর্-বণর্ নিবিের্শষে যেকোনো বয়সে প্রেমে সফল হওয়ার জন্য নারী কিংবা পুরুষের ভেতরে কতগুলো কমন বিষয় থাকা উচিত। কিংবা এভাবে বলা যায়, কিছু বিষয়ে সচেতন হলে প্রেমে সাফল্য মেলে!

ক. যদিও শারীরিক সৌন্দযের্র প্রতি মানুষের খুব বেশি হাত নেই, প্রকৃতিই কারো শরীরের রঙ কালো, কালো ফসার্ করে পাঠান। কিন্তু তারপরও সচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে সৌন্দযর্ বৃদ্ধি করা সম্ভব। আর এ কথা তো ঠিক সুন্দরের পূজারী সবাই।

খ. প্রতিদিন নিয়মিত গোসল করা, সাবান ও প্রসাধনী ব্যবহারের প্রতিও দৃষ্টি দিতে হবে। যে পোশাকই ব্যবহার করুন, তা যেন রুচিসম্মত ও পরিষ্কার হয়। সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

গ. সকালে ও রাতে দঁাত পরিষ্কার করলে মুখে দুগর্ন্ধ হয় না। এ ক্ষেত্রে কাপর্ণ্য করা যাবে না। তারপরও যদি মুখে কোনো ধরনের খারাপ গন্ধ হয় তা হলে, নিয়মিত মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করতে হবে। এতেও প্রতিকার না মিললে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

ঘ. চুল-দাড়িতে মাজির্ত রুচির পরিচয় দিতে হবে। নিয়মিত চুল-দাড়ি কাটানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বড় চুল রাখার প্রবণতা পরিহার করা ভালো। আদৌ সম্ভব না হলে বড় চুল রাখলে তাতে শ্যাম্পু-তেলের পরিমিত ব্যবহার, চুল বেঁধে রাখা কিংবা যেভাবে আচড়ালে চেহারার জৌলুস ফুটে উঠে তা নিশ্চিত করতে হবে।

ঙ. কথায় বলা হয়Ñ খাওয়া নিজের রুচিতে আর পরা (পোশাক পরিধান) অন্যের রুচিতে। অথার্ৎ বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন আপনার পোশাকের বিরূপ মন্তব্য করছে কিনা সেটা খেয়াল রাখতে হবে। তারা যদি ভালো বলে, তাহলে যার প্রেমে পড়তে যাচ্ছেন, কিংবা যাকে প্রেমের প্রস্তাব দেবেন ভাবছেন, তাই ধরেই নেয়া যায়, সেও অন্তত পোশাকের তারিফ করবেন।

চ. পরিমিত অলঙ্কার/প্রয়োজনীয় সামগ্রী ব্যবহার করুন। ঘড়ি, চশমা, চুড়ি, লিপস্টিক, টিপ ইত্যাদি যেন চিত্তাকষর্ক অথচ খাপ ছাড়া না হয় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিন।

ছ. এবার আপনি যাকে পছন্দ করেন, তার কাছে যান, কথা বলুন। বন্ধুত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। বাকিটা আর বলে দেয়ার প্রয়োজন আছে কি? দেখুন আপনি প্রপোজ করার আগে ভাগ্য ভালো হলে সেও আপনাকে ভালোবাসার প্রস্তাব দিয়ে বসতে পারে!

জীবনে প্রেম এলেই যে তা ভেঙে যাবে নাÑ এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারেন না। বিভিন্ন কারণে সম্পকের্ জটিলতা দেখা দিতেই পারে। যার চ‚ড়ান্ত পরিণতি বিচ্ছেদ। অবশ্য সম্পকের্র এই অনিবাযর্তায় ভেঙে পড়েন অনেকে। নিজেকে সামলাতে না পারায় অনেকের জীবনে ছন্দপতনও ঘটে। তবে কিছুটা সময় লাগলেও ঘুরে দঁাড়ানো অবশ্যই সম্ভব। এ সময় কিছু জিনিস মাথায় রাখলেই নিজেকে স্বাভাবিক করে নেয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। আমরা জেনে রাখতে পারি তেমন কিছু উপায়।

১. সম্পকের্র সমাপ্তিতে প্রিয়জনকে ভুলে যেতে কিছুটা সময় লাগে। মনে প্রাণে দিনের অনেকটা অংশ যাকে নিয়ে কেটেছে এতদিন, তাকে ভুলে থাকা সত্যিই কঠিন। তবে মনের ইচ্ছাশক্তির জোর অনেক। কাজেই সেই প্রিয় মানুষটিকে সম্পূণর্ ভুলে থাকার চেষ্টা করুন। তার সঙ্গে যোগাযোগের সব রাস্তা নিজে থেকেই বন্ধ করুন। ফোনে তো বটেই, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ওই মানুষটির কাছ থেকে দূরে থাকুন। কাছের মানুষরা স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি টেনে আনতে চান। প্রয়োজনে তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখুন। মোট কথা যেভাবে প্রিয় সেই মানুষটিকে ভুলে থাকা যায় সে চেষ্টাই করুন। তাতে কষ্ট অনেকটা কমে যাবে।

২. সম্পকের্র সমাপ্তির পর মনের মধ্যে এক বিশাল শূন্যতাবোধ কাজ করে। জীবনের রঙ যেন হারিয়ে সাদা-কালোয় পরিণত হয়। এই শূন্যতাবোধ থেকে বিষন্নতাও আপনাকে ঘিরে ধরতে পারে। মানসিক এই অবসাদ দূর করার চেষ্টা করুন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। পুরনো স্মৃতিচারণ করুন। আপনার কষ্টের কথা শেয়ার করুন ঘনিষ্ঠ কারো সঙ্গে। তাদের সঙ্গে ঘুরতে যান। আনন্দের সঙ্গে সময়টুকু কাটালে দেখবেন কষ্ট অনেকটা দূর হয়েছে।

৩. সম্পকের্র সময় একে অপরের অনেক গোপন কথাই নিজেদের মধ্যে শেয়ার করা স্বাভাবিক। ফলে দু’জনের ফেসবুক, ই-মেইলের গোপন পাসওয়াডর্ও একে অপরের জানা থাকে। সম্পকের্র সমাপ্তির পর প্রিয় মানুষটির এসব যোগাযোগ মাধ্যমে আগ্রহের বশবতীর্ হয়েও ঢুকতে যাবেন না। তা হবে অনধিকার চচার্। এতে পুরনো স্মৃতিও জেগে উঠবে।

৪. কাজে মন দিন। অবসর সময় চেষ্টা করুন কোনো না কোনো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখার। কোনো কাজ মন দিয়ে করলে কষ্টের স্মৃতিগুলো অনেকটাই ভুলে থাকা যায়। প্রয়োজনে যে কাজে আপনি বেশি মন দিতে পারবেন সেটাই করুন। এজন্য যে অফিসের কঠিন কাজেই আপনাকে ডুবে থাকতে হবে তা নয়। সিনেমা দেখা, বই পড়া কিংবা খেলাধুলার মাধ্যমেও নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারেন।

৫. পৃথিবীটা গোল...! সম্পকর্ ভেঙে যাওয়ার পর কোনো একদিন সেই প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা হতেই পারে। এতে অঁাতকে উঠবেন না যেন। মুখোমুখি হলে এড়িয়ে যাওয়াও ঠিক নয়। দেখা যদি হয়েই যায় তাহলে স্বাভাবিকভাবেই কথা বলুন। কোনোভাবেই পুরনো স্মৃতিচারণ করবেন না। একে অপরকে দোষারোপ করতে গিয়ে বাদানুবাদেও জড়াবেন না।

৬. অনেকেই বিষন্নতায় নিমজ্জিত হয়ে নাওয়া খাওয়া ভুলে যান। এটি অবশ্যই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। মনের অশান্তির দায় কেন শরীরকে দেবেন? এ সময় তাই শরীরের প্রতি বেশি যতœবান হোন। হালকা ব্যায়াম করুন। নিয়ম মেনে স্বাস্থ্যকর খাবার খান। দেখবেন মানসিক অবসাদ কাটাতে অনেক কাজে দেবে এই অভ্যাস।

৮. আত্মবিশ্বাস বজায় রাখুন। সম্পকর্ ভেঙে যাওয়া মানেই জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে যা হয়েছে স্বীকার করে নিন। তবে নিজেকে দোষ না দিয়ে জীবনের ভুলগুলো সম্পকের্ পরবতীের্ত সতকর্ থাকুন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে