logo
বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

  সুমি ইসলাম   ২৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০  

খঁুজে নিতে হবে সঠিক পথ

খঁুজে নিতে হবে সঠিক পথ
তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথ খুঁজে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে ছবি : ইন্টারনেট
সফলকাম হতে গেলে সঠিক পথের দিশা পাওয়া বা পাওয়ার আগে তার সন্ধান করা অতীব জরুরি। না হলে উল্টো পথে, উল্টো রথে কাক্সিক্ষত স্থানের পরিবতের্ ভিন্ন স্থানে পৌঁছে গেলেও তাতে অবাক হওয়ার মতো কিছু আছে কি? নিশ্চয়ই না। তরুণ মনে আশার সঞ্চারকারী কোনো খবর নেই। কিন্তু হতাশার বীজমন্ত্র উদ্ধত। কে ভালো আর কে খারাপ তা নিধার্রণে ভতির্ পরীক্ষা নামক এক ভয়ঙ্কর দানবীয় দৈত্যকে এত এত ক্ষমতাবান করা হয়েছে যে তা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাপক বিতকের্র সৃষ্টি হয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়া ছেলেমেয়েদের নিয়ে রীতিমতো টানাহেঁচড়া শুরু হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভতির্ পরীক্ষায় কেন তারা টিকতে পারছে নাÑ সেটাকে সামনে এনে তাদের কৃতিত্বকেই খাটো করা হচ্ছে। এ প্রশ্নটি কিন্তু কখনো করা হচ্ছে না যে কেন এমন ঘটনা ঘটছে? আর তাই হয়তো ভতির্ পরীক্ষার প্রকৃত গলদটি আমাদের চোখে অধরাই থেকে যাচ্ছে। তাতে লাভবান হচ্ছে কারা?

আজ পৃথিবীর দিকে দিকে প্রতিযোগিতা নামক বল্গাহীন ঘোড়ার দৌরাত্ম্য। তার পেছনে শ্বাসরুদ্ধ দৌড়ে শ্রান্ত, ক্লান্ত হয়ে পড়ছে তারুণ্য। অথচ তারুণ্যের অমিত সম্ভাবনার কথা সবাই একবাক্যে স্বীকার করে। কিন্তু সে তারুণ্যের অফুরন্ত সম্ভাবনাকে গলা টিপে মারতে সমাজ ও সমাজপতিরা খড়গহস্ত। সচেতন বা অবচেতনভাবেই তা করা হচ্ছে। অথচ তা নিয়ে ভাবার মতো গুণীজনের সংখ্যা কিন্তু খুব বেশি নয়। একদিকে তারুণ্যের অমিত সম্ভাবনার গালভরা বুলি আওড়ানো হচ্ছে কিন্তু রাজনীতি, অথর্নীতি, শিক্ষা বা সমাজ পরিবতের্নর ধারায় তাদের যুক্ত না করে কীভাবে দূরে সরিয়ে রাখা যায় সে ব্যাপারে অপতৎপরতা কিন্ত থেমে নেই।

প্রতিযোগিতা নামক অসুস্থ, অধিকাংশ সময়ই ভ্রান্ত মাকাল ফল নামক বস্তুটি হাজির করে তাদের যোগ্যতা নিধার্রণ করা হচ্ছে। আর তাতে টিকতে না পেরে অমিত সম্ভাবনার যে তারুণ্য সে নিমজ্জিত হচ্ছে হতাশায়। অমিত সম্ভাবনার কথা কি তাহলে পানের পিকের মতো ব্যাপার যখন খুশি ইচ্ছা ফেলে দেয়া যায়? বা ইচ্ছা করলেই গিলে ফেলা যায়? দিকে দিকে আয়োজন দেখে যদি কারো তাই মনে হয় তাহলে কি তাকে দোষ দেয়া যায়? অন্তত আমাদের দেশে তারুণ্যকে কাজে না লাগিয়ে অনেক সময়ই তাকে ধ্বংস করার মহাআয়োজন কখনো সরবে, কখনো নীরবে বা সঙ্গোপনেÑ সবসময়ই চলে আসছে।

এজন্যই জেনে-বুঝে হোক বা আর না জেনে-বুঝেই হোক যত দোষ নন্দ ঘোষের মতো ব্যথর্তার দায়ভার শুধু ভতির্চ্ছু ছেলেমেয়েদের ওপরই চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী তাই যুক্তিসঙ্গতভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভতির্ পরীক্ষার পদ্ধতিগত ধরন নিয়ে, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রæটিপূণর্ ভতির্ পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন তুলেছেন। উদাহরণ হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভতির্ পরীক্ষায় মাত্র দুজন ছাত্রছাত্রীর পাস করার তথ্য পত্রিকান্তরে জেনে প্রত্যেকেই অবাক হয়েছেন। আশাহত হয়েছেন। কিন্তু শেষ পযর্ন্ত দেখা গেল ছিট সংখ্যা পূরণের জন্য কথিত অকৃতকাযর্ ছাত্রছাত্রীদের মাঝ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ ভতির্র সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সঙ্গতকারণেই প্রশ্ন জাগে, তাহলে এমন আজগুবি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের যৌক্তিকতা কী? আর কেনই বা তা প্রতি বছর নেয়া হচ্ছে?

এটা কি কেউ ভেবে দেখেছেন, যে ছেলেমেয়েরা জেনেছে যে সে ভতির্ পরীক্ষায় ফেল করেও বিশেষ বিবেচনায় ওই বিভাগে ভতির্র সুযোগ পেয়েছে তারা মনে মনে কতটা আত্মপ্রবঞ্চনার শিকার হলো? মানসিকভাবে তারা একই বিভাগে পাস করে ভতির্ হওয়া অন্য দুজনের চেয়ে যে কতটা পিছিয়ে পড়ল তা কি কেউ ধতের্ব্য এনেছেন? যে পরীক্ষা পদ্ধতি পরীক্ষা নেয়ার পরে ছাত্রছাত্রীদের ফেলের তকমা দিয়ে আত্মপ্রবঞ্চিত করে এবং পরে শুধু সিট পূরণের নিমিত্তে ভতির্র সুযোগ করে দেয় তাহলে সে পরীক্ষা আয়োজনের হেতু কী? হেতু কি এটাই যে তাদের সবার কাছে অযথা হেয় করা!

আবার এদিকে হঠাৎ করেই দ্বিতীয়বার পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করে দেয়ায় অনেকেই হতাশ হয়েছেন। দ্বিতীয়বার পরীক্ষা যদি দেয়ার সুযোগ নেই তাহলে তা তো একটা পূবর্ ঘোষণা দিয়ে ছেলেমেয়েদের শেষবারের মতো সুযোগ দিয়ে কি বন্ধ করা উচিত ছিল না? নাকি যখন ইচ্ছা যেমন ইচ্ছা তেমন করে সিদ্ধান্ত নিলেই চলে? এটা কি তারুণ্যের সম্ভাবনাকে প্রণোদনা দেয়া নাকি অনিবাযর্ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া সে প্রশ্ন যদি কেউ তোলে তা কি অন্যায্য হবে?

এদিকে রাজনীতিতে নীতিহীনতার রমরমা ব্যবসা চলছে। সামনের দিনগুলোয় যে তরুণ দেশের নেতৃত্ব দেবে তাদের নৈতিকতায় পচন ধরানো হয়েছে। ওপরের পদলেহনকারী বড় ভাইয়ের আস্থাভাজন কিন্তু সংগঠনের জন্য অহিতকর এমন ছেলেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে বসানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য ছাত্র সংগঠনকে ব্যক্তিবিশেষের কব্জায় নিয়ে যেমন ইচ্ছা তেমন খুশি পরিচালনার অপসুযোগ সৃষ্টি করা আর সংগঠনটিকে ভঁাড় ও সংদের গোয়ালঘর বানানো। আর অন্যদিকে এমন কিছু তরুণ নেতৃত্ব আছে যাদের আত্মবিশ্বাস, যোগ্যতা ও দক্ষতায় ঘাটতি আছে তারা ওপরমহলের আশীবার্দপুষ্ট হয়ে নেতৃত্বে বসতে চায়। ফলে এই যে তৈলবাজির সংস্কৃতিতে স্বেচ্ছায় যে তারুণ্য জড়িয়ে যাচ্ছে বা হীন উদ্দেশে জড়ানো হচ্ছে সেখান থেকে তরুণ নেতৃতকে বের হয়ে আসতে হবে। না হলে তারুণ্যের সম্ভাবনা ও সক্ষমতার ওপরে সবার যে অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস তা ধরে রাখা বস্তুত কঠিনই হবে। যেহেতু একমাত্র স্বীয় আত্মসমালোচনা ও আত্মোপলব্ধি-ই পারে লেজুড়বৃত্তি থেকে তরুণদের বের করে আনতে সেহেতু সে ব্যাপারে তরুণ সম্প্রদায় ইতিবাচক হোক তাই সবাই প্রত্যাশা করে।

আমরা সবাই চাই শিক্ষা ও রাজনীতির অঙ্গন নীতিবান, আদশর্বান তরুণদের পদচারণায় মুখরিত হোক এবং তাদের সংগ্রাম, অজর্ন ও ত্যাগের বিনিময়ে একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বাস্তবে ধরা দিক। আর সে লক্ষ্যে তরুণদের জন্য সহযোগিতামূলক, পৃষ্ঠপোষকতাকারী সিদ্ধান্ত সরকারি-বেসরকারি-স্বায়ত্তশাসিত সব প্রতিষ্ঠান- তা রাজনৈতিক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট যাই হোক না কেন তা সক্রিয়ভাবে গ্রহণ এবং তার বাস্তবায়নে মনোনিবেশ করুকÑ সে আশা আমরা করতেই পারি।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে