logo
বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

  ছবি ঘোষ   ১২ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

কিছু বিষয় মেনে চলুন

কিছু বিষয় মেনে চলুন
ছবি : ইন্টারনেট
আমাদের শরীরের ভিতরে একটি ঘড়ি আছে, যাতে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে শুতে যাওয়া পযর্ন্ত সময় নথিভুক্ত রয়েছে। অথার্ৎ শরীরকে কখন কোন কাজটা করতে হবে, তা মূলত এই বায়োলজিক্যাল ক্লকই নিদের্শ দিয়ে থাকে। ওই নিদের্শনা মেনে না চলার কারণে প্রতিবছর বাড়ছে অকাল মৃত্যুহার।

সম্প্রতি বায়োলিজক্যাল ক্লকের ওপর গবেষণা চালিয়ে তিন মাকির্ন গবেষক নোবেল প্রাইজে ভ‚ষিত হয়েছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, বায়োলজিক্যাল ক্লককে মন মতো চালালে মারাত্মক বিপদ হয়! এ ক্ষেত্রে যে যে ঘটনাগুলো ঘটার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়, সেগুলো হলোÑ

১. ক্যান্সার রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত রিপোটের্ই একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে দিনের পর দিন রাত জাগলে শরীরের অন্দরে ক্ষয় এত বেড়ে যায় যে সেই ফঁাক গলে ক্যান্সার সেল দেহের অন্দরে বাসা বঁাধার সুযোগ পেয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই এবার থেকে বেশি টাকা ইনকামের লোভে নাইট শিফট করার আগে একবার ভাববেন প্লিজ!

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়

গবেষণায় দেখা গেছে রাত জেগে কাজ করলে কটির্জল হরমোনের মতো স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ মারাত্মক বেড়ে যায়। ফলে সারা রাত কাজ করার ক্ষমতা জন্মালেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে কমে যায়। ফলে নানাবিধ রোগ ঘাড়ে চেপে বসতে সময়ই লাগে না। প্রসঙ্গত, স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি পেলে মানসিক চাপও বাড়তে শুরু করে, যা শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক।

৩. ওজন বাড়তে থাকে

দিনের পর দিন রাত জেগে থাকলে খাবার ঠিকমতো হজম হতে পারে না। ফলে একদিকে যেমন গ্যাস-অম্বলের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়, তেমনি ওজনও বাড়তে শুরু করে। আর যেমনটা আপনাদের সবারই জানা আছে যে ওজন বাড়লে ধীরে ধীরে সুগার, প্রেসার এবং কোলেস্টেরলের মতো মারণ রোগ এসে শরীরে বাসা বঁাধে। ফলে আয়ু চোখে পড়ার মতো কমে যায়।

৪. মা হতে সমস্যা হতে পারে

শরীরের নিজস্ব ছন্দ বিগড়ে গেলে দেহের অন্দরে এমন কিছু নেতিবাচক পরিবতর্ন হতে থাকে যে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে মা হওয়ার ক্ষেত্রে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যেসব মেয়েরা নিয়মিত নাইট শিফট করেন তাদের মিসক্যারেজ এবং প্রিটামর্ ডেলিভারি হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে কম ওজনের বাচ্চা জন্ম নেয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই মা হওয়ার পরিকল্পনা করলে ভুলেও রাত জেগে কাজ করবেন না যেন!

৫. চোট-আঘাত লাগার প্রবণতা বেড়ে যায়

সারাদিন যতই ঘুমোন না কেন, রাতে ঘুম আসতে বাধ্য। এমন পরিস্থিতিতে মনোযোগ যেমন হ্রাস পায়, তেমনি শরীরের সচলতাও কমতে শুরু করে। ফলে অফিসে চোট-আঘাত লাগার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

৬. ব্রেন পাওয়ার কমে যায়

রাতের বেলা মস্তিষ্কের আরাম নেয়ার সময়। তাই তো এই সময় দিনের পর দিন কাজ করলে ধীরে ধীরে ব্রেন পাওয়ার কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ডিপ্রেশন, হাইপোলার ডিজঅডার্র, ¯েøা কগনিটিভ ফাংশন, স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়াসহ আরও সব সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে