logo
শুক্রবার ২৩ আগস্ট, ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

  আফরিন জামান   ০৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০  

মাদক থেকে দূরে

মাদক থেকে দূরে
তরুণদেরকে মাদক বিষয়ে সচেতন হতে হবে ছবি : ইন্টারনেট
সিসা একজন মানুষের জন্য যতটুকু ক্ষতিকর তার চেয়ে বেশি ক্ষতিকর ওইসব লাউঞ্জে গিয়ে খাওয়াটা। কেননা লাউঞ্জগুলোয় ইদানীং সিসার ভেতরে মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। আর উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীদের জন্য খুবই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে সিসার অন্তরালে এ মাদক। অধিকাংশ লাউঞ্জে সিসার উপাদানের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে ইয়াবার গুঁড়া, হেরোইন ও বিভিন্ন যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটসহ নেশাজাতীয় অনেক ট্যাবলেটের গুঁড়া। এছাড়া গাঁজার বিশেষ রাসায়নিক অংশ মিশিয়ে এর উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে। খুব সহজেই একজন মানুষ এ নেশায় ডুবে যাচ্ছে। নেশার চেয়ে আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে লাউঞ্জগুলোর পরিবেশ। লাউঞ্জগুলোয় যারা যাচ্ছেন তাদের অধিকাংশই তরুণ-তরুণী। আর বেশিরভাগ তরুণ-তরুণীই সেখানে অশালীন কাজে লিপ্ত হচ্ছে। ৫০০ টাকায় ক্রয় করে পাইপে একবার মুখ লাগিয়ে দীর্ঘক্ষণ বুঁদ হয়ে থাকা যায়। আর নেশার তালে চলে প্রেমিক-প্রেমিকাদের অশালীন কাজ। বেশিরভাগ লাউঞ্জেই দেখা যায় ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে পরিবেশ। আর এখানে-ওখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অশালীন কাজ করছে তরুণ-তরুণীরা। সিসার অন্তরালে যে মাদক রয়েছে তার কারণেই এমনটি হচ্ছে। আর একটা বিষয় তরুণ-তরুণীদের মধ্যে কাজ করে, আর তা হলো নিশ্চিতভাবে অশালীন কাজ করতে পারা। মোট কথা একটা নিরাপদ অশালীন কাজের জায়গায় পরিণত হয়েছে লাউঞ্জগুলো। আর এসব লাউঞ্জের বেশিরভাগই ধনী পরিবারের সন্তান। তবে ইদানীং মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেমেয়েরাও যাচ্ছে। কেননা দিন দিন সহজলভ্য হয়ে উঠছে সিসা।

সচেতনতার সময় এসেছে। প্রতিটি পরিবার সচেতন হওয়া উচিত। আমরা সভ্যতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাব। কিন্তু এ এগিয়ে যাওয়া মানে মাদক সেবন করা নয়, যৌনাচার করা নয়। যদি আধুনিকতার দোহাই দিয়ে সিসাকে গ্রহণ করা হয় কিংবা লাউঞ্জগুলোর অশালীন পরিবেশকে সাবলীলভাবে মেনে নেয়া হয় তাহলে শুধু তরুণ সমাজই ধ্বংস হবে না বরং একটা সভ্যতার গতিপথও পরিবর্তন হবে। আর এ পরিবর্তন কোনো ভালো কিছু বয়ে আনতে পারবে না।

আমাদের দেশেই বিভিন্ন জায়গায় এ সিসার জন্য ফ্লেভার পাওয়া যায়। এসব ফ্লেভারের মূল্যও অনেক বেশি। এক প্যাকেট ফ্লেভার (তামাক) কিনে বেশ কয়েকবার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আমাদের দেশে বিশেষ করে ঢাকা শহরে বেশকিছু জায়গায় এসব সিসা পাওয়া যায়। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে ওঠা লাউঞ্জগুলোয় সিসা খুবই সহজলভ্য। রাজধানীর উত্তরা, গুলশান, ধানমন্ডি, বেইলি রোডসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ২০০ লাউঞ্জ রয়েছে। একটি সিসায় মোট চারটি অংশ থাকে। যথা- বেজ, পাইপ, বওল আর মাউথপিস। বওলটাকে অ্যালুমিনিয়ামের কভার দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় আর সেই ফয়েলের মধ্যে কয়লা রাখা হয়। এর মধ্যে তামাক পুড়ে যায় আর কয়লা পুড়ে কার্বন মনো অক্সাইড হয়, যা মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসে চরম ক্ষতি করে এমনকি মৃতু্যও ঘটতে পারে। রয়টার্সের এক সংবাদ অনুযায়ী একটা পূর্ণ সেশনের সিসা গ্রহণ এক প্যাকেট সিগারেট সেবনের মতোই মারাত্মক। আবার যারা সিগারেট থেকে সিসাকে কম ক্ষতিকর বলে ভাবেন তাদের জানা উচিত যে সিগারেটের চেয়ে সিসায় নিকোটিনের পরিমাণ বেশি থাকে। সিগারেটে যেখানে ১-৩% নিকোটিন থাকে, সেখানে সিসায় ব্যবহৃত তামাকে ২-৪% নিকোটিন থাকে। (সূত্র: ড. কেনেথ, আমেরিকা একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্সের প্রেসিডেন্ট)। ২০০৫ সালের ঔড়ঁৎহধষ ড়ভ চবৎরড়হঃড়ষড়মু-এর সূত্র মতে, একবার পূর্ণভাবে সিসা গ্রহণ করা ৬০টি সিগারেট গ্রহণ করার সমান।

সিসা বিষয়টি একশ্রেণির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফ্যাশন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অথচ এটির রয়েছে নানা ধরনের কুফল। তরুণ সমাজের জন্য এ ক্ষতিকর সিসার বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে অভিযান হয় ঠিকই, তবে কিছু সময় পার হলে আবার শুরু হয় এই সিসা বিক্রি। বনানী, গুলশান, ধানমন্ডিতে অনুসন্ধান চালিয়ে এই চিত্রই পরিলক্ষিত হয়েছে।জমিদারি আমলে জমিদারদের আভিজাত্য প্রকাশের জন্য তারা হুক্কা নামক এক ধরনের পাইপ টানত। কিংবা বিভিন্ন সম্রাট তাদের শৌখিনতায় এ হুক্কা সেবন করত। মুখে পাইপ নিয়ে টেনে মুখের ভেতর থেকে ধোঁয়া ছাড়ত। ধারণা করা হয়, এ উপমহাদেশে প্রথম মোঘল সম্রাট আকবরের পারস্য কবিরাজ আবুল ফতেহ জিলানী হুক্কার ডিজাইন উদ্ভাবন করেন। তামাক পোড়ানো ধোঁয়া পানিতে পিউরিফাই এবং ঠান্ডা করে সেবন করা শুরু হয় তখন। দেশ ও অঞ্চলভেদে হুক্কা বিভিন্ন নামে পরিচিত। আরবীয়রা এটাকে ঘধৎমরষবয বলে থাকে। এছাড়াও ঘধৎমববষধ, অৎমরষবয, অৎমরষবব ইত্যাদি নামেও বলা হয়। উপমহাদেশে এটি হুক্কা নামে পরিচিত। তবে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি ছিলুম বা কলকে নামে পরিচিত। আবার কোথাও গড়গড়া বা গুড়গুড়ি নামেও পরিচিত। তবে ঘধৎমরষবয শব্দটি পারসিয়ান শব্দ ঘধৎমযরষব থেকে উৎপত্তি। ধারণা করা হয়, এটা সংস্কৃত শব্দ 'নারিকিলা'র পরিবর্তিত রূপ। অনেকে ধারণা করে থাকেন এর নামের উৎপত্তি আমাদের দেশীয় নারিকেলের হুক্কা থেকেই। উপমহাদেশের কথা বাদ দিলে ইউরোপ আমেরিকায় এটি ঝযরংযধ নামে পরিচিত। বর্তমানে সারা বিশ্বে এ সিসার জনপ্রিয়তা অনেক। ঝযরংযধ শব্দের অর্থ তামাক। অনেকে বলে থাকেন ঝযরংযব মানে কাচ। হুক্কার নিচে পানির জারটা কাচের তৈরি হয়, তাই হয়তো এটা ভাবা। গ্রাম-বাংলায় নারকেলের খোল দিয়ে হুক্কা তৈরি করা হতো। কাঠের নলের ওপর তামাক রাখার একটি কলকে থাকত। কিন্তু বিদেশি হুক্কার সঙ্গে এ হুক্কার গঠনপ্রণালির পার্থক্য রয়েছে। তবে গঠনে পার্থক্য থাকলেও কাজ একই। সিসার গঠনে সবার ওপরে থাকে মাটি বা মার্বেলের তৈরি কলকে যার ভেতরে থাকে তামাক এবং জলন্ত কয়লা। নিচে কাচের তৈরি পানির জার। মাঝের অংশে থাকে স্টিলের পাইপ। নিচের অংশে ধোঁয়া টানার পাইপ এবং অন্যদিকে একটি নির্গমন ভাল্ব সংযুক্ত। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে যে হুক্কার ব্যবহার হতো তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে আবার নতুন রূপে ফিরে এসেছে। এক সময় এটা দিয়ে শুধু তামাক কিংবা গাঁজা খাওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে এটি নতুনরূপে আবির্ভাব হয়েছে। অন্যান্য উন্নত বিশ্বে যে রকম জনপ্রিয়তা বাংলাদেশেও তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। তবে সমস্যা হচ্ছে এটি আর সেই পুরনো হুক্কা নয়, শুধু গঠনটাই আগের মতো রয়ে গেছে আর পরিবর্তন এসেছে এর দ্রব্যসামগ্রীতে। এখন আর শুধু তামাক ব্যবহার হয় না। এর সঙ্গে মেশানো হয় নানা ধরনের ফ্লেভার।

বিভিন্ন ফলের নির্যাসই সিসার মূল উপাদান। আপেল, আঙ্গুর, আনারস, কলা, পেঁপে থেকে শুরু করে নানা ফলের নির্যাসে তৈরি সিসার উপাদান। এসব উপাদান শুকনো আকারে থাকে। বাংলাদেশে মূলত দুবাই থেকে এ উপাদান আসে। এসব ফলের শুকনো নির্যাস কলকেতে ভরা হয়।

\হসিসার গঠনে সবার ওপরে থাকে মাটি বা মার্বেলের তৈরি কলকে যার ভেতরে থাকে তামাক এবং জলন্ত কয়লা। নিচে কাচের তৈরি পানির জার। মাঝের অংশে থাকে স্টিলের পাইপ। নিচের অংশে ধোঁয়া টানার পাইপ এবং অন্যদিকে একটি নির্গমন ভাল্ব সংযুক্ত। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে যে হুক্কার ব্যবহার হতো তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে আবার নতুন রূপে ফিরে এসেছে। এক সময় এটা দিয়ে শুধু তামাক কিংবা গাঁজা খাওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে এটি নতুনরূপে আবির্ভাব হয়েছে। অন্যান্য উন্নত বিশ্বে যে রকম জনপ্রিয়তা বাংলাদেশেও তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। তবে সমস্যা হচ্ছে এটি আর সেই পুরনো হুক্কা নয়, শুধু গঠনটাই আগের মতো রয়ে গেছে আর পরিবর্তন এসেছে এর দ্রব্যসামগ্রীতে। এখন আর শুধু তামাক ব্যবহার হয় না। এর সঙ্গে মেশানো হয় নানা ধরনের ফ্লেভার।

বিভিন্ন ফলের নির্যাসই সিসার মূল উপাদান। আপেল, আঙ্গুর, আনারস, কলা, পেঁপে থেকে শুরু করে নানা ফলের নির্যাসে তৈরি সিসার উপাদান। এসব উপাদান শুকনো আকারে থাকে। বাংলাদেশে মূলত দুবাই থেকে এ উপাদান আসে। এসব ফলের শুকনো নির্যাস কলকেতে ভরা হয়।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে