logo
শুক্রবার ২৩ আগস্ট, ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

  শামীমা জান্নাত   ০৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০  

চুলের নানারকম যত্ন

চুলের নানারকম যত্ন
চুলের যত্নে ভুলের মূল্য অনেক। চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া, চুলে ভেঙে যাওয়া, খুশকি সমস্যা, চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়া, মাথার স্ক্যাল্পে সমস্যাসহ নানাভাবে ভুলের মূল্য দিতে হবে।

এ ছাড়া সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, চুল পড়ে টাক হয়ে যাওয়া লাগতে পারে। তাই চুলের যত্ন নিতে ভুল করা যাবে না। শরীরের ত্বকের মতো চুলেও প্রয়োজন বিশেষ যত্ন। আর এ ক্ষেত্রে চুলের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন মধু। জেনে নিন, চুলে মধু ব্যবহারের বিভিন্ন কারণ। চুলে আর্দ্রতা বজায় থাকবে। মধুতে রয়েছে প্রাকৃতিক হুমেকটেন্ট, অর্থাৎ এটি বাতাস থেকে আর্দ্রতা নিয়ে আপনার চুলে এবং ত্বকে তা ধরে রাখে। মধুর হুমেকটেন্ট উপাদান চুল ভেঙে যাওয়া রোধে সাহায্য করে, রুক্ষতা দূর করে চুল সুস্থ ও মজবুত করে।

চুলের গ্রন্থিকোষ শক্তিশালী করবে। চুলের গ্রন্থিকোষ শক্তিশালী করতেও মধু কাজ করে। ফলে মাথার চুল উঠে যাওয়া রোধ হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ চুলের অধিকারী হওয়া যায়।

মধুতে গস্নুকোজ অক্সিডেস এনজাইম রয়েছে। একটু বেশি সময় ধরে চুলে মধু দিয়ে রাখলে এই এনজাইম ধীরে ধীরে হাইড্রোজেন পারক্সাইড নিঃসরণ করে, যা চুলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির মাস্ক হিসেবে- ৩ টেবিল চামচ মধুর সঙ্গে ২ টেবিল চামচ পানি মিশিয়ে ভেজা চুলে লাগিয়ে ১ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন।

মধুতে শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্টের খোঁজ পাওয়া গেছে। এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমূহ চুলের ক্ষতি রোধ করে এবং মাথার স্ক্যাপ সুস্থ রাখে।

চুলে শ্যাম্পু করার পর দুই কাপ কুসুম গরম পানিতে দুই টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে চুলে ম্যাসাজ করুন। এটি রোদে পোড়া চুলের অনুজ্জ্বলতা দূর করে চাকচিক্যভাব ফিরিয়ে দেবে।

আপনি জেনে খুশি হবেন, মধু অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল (ব্যাকটেরিয়ারোধী) গুণসম্পন্ন। এটি মাথার স্ক্যাল্পে ইনফেকশন প্রতিরোধে কাজ করে এবং চর্মরোগ, খুশকি ও সোরিয়াসিস সমস্যার মোকাবেলা করে।

মধু চুলের গ্রন্থিকোষ শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রন্থিকোষ থেকে সব ধরনের অবিশুদ্ধতা পরিষ্কার করে দেয়। এটা কেন খুবই বড় একটি উপকারিতা? কারণ হচ্ছে, গ্রন্থিকোষের অবিশুদ্ধতায় চুল পড়তে শুরু করে।

চুলের বৃদ্ধি জোরদার করতে কাজ করে মধু এবং সুপ্ত গ্রন্থিকোষ বৃদ্ধির জন্যও কার্যকর। তাই আপনার চুলের ঘনত্ব পাতলা হয়ে থাকে, ঘন চুল পেতে মধু ব্যবহার করুন।

শ্যাম্পু ব্যবহার নিয়ে নানা ধরনের মতবাদ শোনা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের ভিডিও প্রকাশ করে বলা হয়, কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল। আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে দেখতে এক সময় ওই কথাগুলোকে বিশ্বাস করতে শুরু করি।

শ্যাম্পু ব্যবহার নিয়ে প্রচলিত কিছু তথ্য, যেগুলো আপনার আদৌ বিশ্বাস করা উচিত নয়। এসব তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা কয়েকজন কসমেটিক বিশেষজ্ঞ।

ভুল তথ্য : ড্রাই শ্যাম্পু চুল পড়ার কারণ হতে পারে

সঠিক তথ্য : ইন্টারনেটের মাধ্যমে বলা হয় ড্রাই বা শুষ্ক শ্যাম্পু চুলের গ্রন্থিকোষ উঠিয়ে ফেলে ফলে চুল পড়ে যায়। ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যালাজোর কাইসার পারমানেনটির ডারমাটোলোজিস্ট পারাদি মিরমিরানি বলেন, ড্রাই শ্যাম্পুতে তেল শুষে নেয়ার জন্য পাউডার, স্ট্রাস এবং ট্যাল্ক ব্যবহার করা হয় এবং এর মধ্যে কোনো উপাদান সরাসরি চুলের গ্রন্থিকোষে প্রভাব ফেলে না। কসমেটিক কেমিস্ট জোসেফ বলেন, ড্রাই শ্যাম্পু চুলের গোড়ায় ব্যবহার না করে বরং চুলের আগায় ব্যবহার করা ভালো।

ভুল তথ্য : শ্যাম্পুতে 'পিএইচ-ভারসাম্যপূর্ণ' রয়েছে কিনা তা দেখে কিনতে হবে

সঠিক তথ্য : শ্যাম্পুতে পিএইচের সুষম উপাদান থাকাটা খুবই দরকার। তবে প্রতি সাতজনের মধ্যে পাঁচজনের কাছে তা ক্ষতিকর বলে মনে হয়নি। কসমেটিক কেমিস্টর্ যান্ডি বলেন, চুলে পিএইচ ১০ মাত্রা থেকে বেশি হয়ে গেলে তখন চুলের ফাইবার ভাঙতে শুরু করে এবং চুলের অস্বাভাবিক ক্ষতি হয়। চুলের কালারিং এবং পারমিং পদ্ধতিতে উচ্চ মাত্রা পিএইচ ব্যবহার করা হয় কিন্তু শ্যাম্পুতে ৪০ দশকের পর থেকে আর ব্যবহার করা হয় না।

ভুল তথ্য : যা চামড়ার জন্য ভালো তা চুলের জন্যও ভালো

সঠিক তথ্য : ভিটামিন, হাইলুরোনিক অ্যাসিড- চামড়ার যত্নে ব্যবহার করা হয়, এগুলো শ্যাম্পুতে আছে এটা শুনতে বেশ ভালো লাগে কিন্তু এর কোনো প্রমাণ নেই যে এগুলো চুলের জন্য ভালো- বলেনর্ যান্ডি। জোসেফ বলেন, সর্বোপরি আপনি আলতোভাবে আপনার চুল ধুয়ে ফেলেন শ্যাম্পু করার পর। এবং তারপর আর কোনো সক্রিয় উপাদান আপনার চুলে অবশিষ্ট থাকে না। চুলের যত্ন নেয়ার জন্য বরং সব উপাদান ধুয়ে ড্রেনে চলে যায়।

ভুল তথ্য : শ্যাম্পু না করা আরও স্বাস্থ্যকর

সঠিক তথ্য : শ্যাম্পু চুল থেকে বের হওয়া স্বাভাবিক তেলকে ধুয়ে দেয়। এই তেলগুলো চুলে ময়েশ্চারাইজার জোগায় এবং চুল স্মুথ করে তোলে। তাই বলে এই তেলগুলো দিনের বেলা থাকা ঠিক না। তা না হলে এতে বাইরের ধুলাবালি জমতে থাকে। এবং এই ধুলাবালি মাথায় নিয়ে যদি আপনি বেশকিছু দিন থাকেন তাহলে নানা ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে, বলেন জোসেফ। তাই প্রতিদিন চুল ধুয়ে ফেলা ভালো আর শ্যাম্পু সপ্তাহে একবারই যথেষ্ট।

ভুল তথ্য : কালার করা চুলের জন্য সালফেট ফ্রি শ্যাম্পু ভালো

সঠিক তথ্য : জোসেফ বলেন, আপনি যদি আপনার চুলে রং করান তাহলে বলা হয়ে থাকে যে, আপনাকে সালফেটবিহীন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে বলা হবে। কিন্তু আমি নিজে সালফেট দিয়ে অনেক চুলের রং পরীক্ষা করেছি এবং আমি এতে চুলে ক্ষতি করার মতো কোনো পরিবর্তন দেখতে পাইনি।

চুল থেকে রং ফেইড হয়ে যাওয়ার মূল কারণ চুল ভেজানো। শ্যাম্পুতে সালফেট না থাকলেও আপনি যখনি চুল ভেজান সঙ্গে সঙ্গে আপনার চুল থেকে বেশ কিছু রং ফেইড হয়ে যেতে থাকে। এর জন্য সালফেট দায়ী নয়।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে