logo
শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

  সুমন্ত গুপ্ত   ১৪ মার্চ ২০২০, ০০:০০  

নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রযাত্রায় বঙ্গবন্ধু

নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীর সামাজিক অধিকার, সম্মানের ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু প্রথম থেকেই অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। বঙ্গবন্ধু নারী ক্ষমতায়নের যে ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন তার উপরই দাঁড়িয়েছে বর্তমান বিশ্বের 'রোল মডেল' সৌধ। বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী শীর্ষস্থান দখল করে আছে সগর্বে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রযাত্রায় বঙ্গবন্ধু
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ নাম মুখে নিলেই শ্রদ্ধায় অবনমিত হয় প্রতিটি বাঙালির হৃদয়। আমাদের পরম ভালোবাসার, পরম শ্রদ্ধার মানুষ তিনি। শত বছরের শোষণ, বঞ্চনা, নির্যাতন নিপীড়নের হাত থেকে বাঙালিকে মুক্ত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। বিশ্ব মানচিত্রে উপহার দিয়েছেন স্বাধীন সার্বভৌম নতুন জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ছিলেন আপসহীন। তিনি শুধু বাঙালির নেতা নন, বিশ্ববাসীর কাছেও একজন মহান ব্যক্তিত্ব। বিশ্ব নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ছিলেন বিস্মিত, মুগ্ধ। ফিদেল ক্যাস্ট্রো বঙ্গবন্ধুকে হিমালয়ের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন 'আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের মতো তেজি এবং গতিশীল নেতা আগামী বিশ বছরের মধ্যে এশিয়া মহাদেশে আর পাওয়া যাবে না।' বঙ্গবন্ধুর জীবনচরিত আজও বিশ্ববাসীর কাছে অনুকরণীয়, অনুসরণীয়। তার প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি সিদ্ধান্তে ছিল বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা, মেধা, মহানুভবতা এবং প্রজ্ঞার ছাপ। বঙ্গবন্ধুর সব ভাষণ, কর্মকান্ড, শাসনপ্রণালি, মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদদের খেতাবপ্রদান ও জীবনচরিত বিশ্লেষণে সুস্পষ্ট হয়, তিনি সারাজীবন বৈষম্যমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গড়তে সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু তার সমাজ সংস্কার বিশেষ করে নারী অধিকার রক্ষায় তার বিশাল ভূমিকা খুব একটা আলোচিত নয়। নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীর সামাজিক অধিকার, সম্মানের ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু প্রথম থেকেই অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, 'নারীদেরও পুরুষদের মতো সমান অধিকার এবং তা রাজনীতির ক্ষেত্রেও। আওয়ামী লীগ যেমন অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে তেমনি নর-নারীর সমান অধিকারেও বিশ্বাস করে। আওয়ামী লীগেও নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলা দরকার।' নিজের এই বক্তব্যের প্রতিফলন বঙ্গবন্ধু ঘটিয়েছিলেন দলের ভেতরে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায়। তার রাজনীতির সঙ্গে প্রথম থেকেই কিছু নারী নেতৃত্বের নামও আমরা জানতে পারি। যেমন- বদরুন্নেছা, আমেনা বেগম, জোহরা তাজউদ্দীন, বেগম নূরজাহান মুরশিদ প্রমুখ।

বাংলাদেশের নারীকে শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২-এর সংবিধানে যে বিধান রেখে গেছেন, এরই ধারাবাহিকতায় সরকারের জাতীয় উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়নের সব সূচকেই নারীর অবদান রয়েছে। ক্রিকেট, ফুটবল থেকে শুরু করে নানা খেলাধুলায় সরকারের উৎসাহ ও প্রণোদনা নিয়ে নারীরা অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছেন

নারী আন্দোলনের অগ্রদূত মহীয়সী বেগম রোকেয়া বলেছিলেন, 'তোমাদের কন্যাদের শিক্ষা দিয়া ছাড়িয়া দাও, তাহারা নিজেরাই নিজেদের অন্নের সংস্থান করুক।' বাংলাদেশের নারীরা যুগ যুগ ধরে শোষিত ও অবহেলিত হয়ে আসছে। পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থায় ধর্মীয় গোঁড়ামি, সামাজিক কুসংস্কার, কূপমন্ডূকতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যের বেড়াজালে তাকে সর্বদা রাখা হয়েছে অবদমিত। তার মেধা শ্রমশক্তিকে শুধু সাংসারিক কাজেই ব্যয় করা হয়েছে। সমাজ ও দেশ গঠনের কাজে তাকে কখনো সম্পৃক্ত করা হয়নি। তার এ আহ্বানে নারীর অধিকার অর্জনের পন্থা সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এ দেশের নারী জাগরণে সাড়া পড়েছিল সাধারণত শিক্ষাগ্রহণকে কেন্দ্র করে। এ ছাড়া ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে নারী তার অধিকার আদায়ে সচেতন হয়ে ওঠে। পাকিস্তান আমলে ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভু্যত্থান ও স্বাধিকার আন্দোলনে নারীর অংশগ্রহণ ছিল উলেস্নখযোগ্য। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ দীর্ঘ প্রত্যাশিত স্বাধীনতা লাভ করে। এ স্বাধীনতা যুদ্ধে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অসামান্য অবদান রাখে। যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়াও বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান এবং স্বামী ও সন্তানকে মুক্তিযুদ্ধে পাঠিয়ে আমাদের মায়েরা এক বিশাল দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের নিদর্শন রেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে আমাদের দুই লক্ষাধিক মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই জঘন্য অপরাধ কখনই ভোলার নয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে নারী আত্মনির্ভরশীল ও সচেতন হয়ে ওঠে। শিক্ষাগ্রহণ ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশায় নারীসমাজের মধ্যে বিপুল সাড়া জাগে। গ্রামের নিরক্ষর নারীসমাজও কাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য আগ্রহ দেখায়।

জাতীয় উৎপাদনে নারীর অংশগ্রহণ আবশ্যক হয়ে ওঠে। নারী উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নারী সংগঠনগুলোও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। ফলে নিজেদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তারা সচেতন হয়ে ওঠে। এতে দেশে নারী উন্নয়নে এক বিরাট সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। বর্তমান সরকার দেশের বৃহত্তর নারীসমাজের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটিয়ে তাদের পশ্চাৎপদ অবস্থা থেকে তুলে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

নারীদের সামাজিক সম্মান নিশ্চিতে গৃহীত পদক্ষেপ

বাংলার নারীদের সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম নারী সংগঠন মহিলা সংস্থার ভিত্তি রচনা করেন। শিশু ও কিশোরীদের আত্মমর্যাদা বোধ প্রতিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও নৈতিকতার শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তান গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশনকে ঢেলে সাজান এবং পুনর্গঠিত করেন। নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা পরিলক্ষিত হয়। সংবিধানের ২৭ ধারায় উলেস্নখ আছে, 'সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান ও আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।' ২৮১ ধারায় রয়েছে, 'কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ ভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবে না।' ২৮২ ধারায় আছে, 'রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষ সমান অধিকার লাভ করিবেন।' ২৮৩ ধারায় আছে, 'কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ নারী-পুরুষ ভেদে বা বিশ্রামের কারণে জনসাধারণের কোনো বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোনো নাগরিককে কোনোরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না।' ২৮৪ ধারায় উলেস্নখ আছে, 'নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের কোনো অনগ্রসর অংশের প্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হতে এই অনুচ্ছেদের কোনো কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।' ৬৫(৩) ধারায় নারীর জন্য জাতীয় সংসদে আসন সংরক্ষিত হয়েছে এবং ধারার অধীনে স্থানীয় শাসনসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোয় নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। সত্তর দশকের প্রথমভাগ থেকেই তৎকালীন সরকার নারী উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৭৫ সালে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্ব নারী সম্মেলনে বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। ফলে দেশের বাইরে নারী উন্নয়নের যে আন্দোলন চলছিল তার মূলস্রোতধারায় বাংলাদেশ যুক্ত হয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু প্রথম থেকেই নারীর ক্ষমতায়নের দিকে নজর দিয়েছিলেন। যে কারণে প্রথম জাতীয় সংসদেই নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন রাখা হয়। সে সময় নারী আন্দোলন এতটা শক্তিশালী ছিল না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির সঙ্গে প্রথম থেকেই কিছু নারী নেতৃত্বের নাম লক্ষণীয়। যেমন- বদরুন্নেছা, আমেনা বেগম, জোহরা তাজউদ্দীন প্রমুখ। বঙ্গবন্ধুর সময়ে যারা তার সঙ্গে কাজ করেছেন। দলের ভেতরে তাদের অগ্রণী ভূমিকা ছিল। অধিকাংশ নারী নেতৃত্ব বাম দল দ্বারা পরিচালিত হলেও পরে তারা আওয়ামী লীগের মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে যৌতুকপ্রথা উচ্ছেদের পদক্ষেপ নেন। তিনি বাংলার যুবকদের আহ্বান জানান তারা যেন কোনো যৌতুক না নিয়ে একটি বেলিফুলের মালা নিয়ে বধূবরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে তখন বহু তরুণ যৌতুকের দাবি ত্যাগ করে বেলিফুলের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। নারীদের উন্নতি ও অধিকার রক্ষার জন্য যেমন বহুবিবাহ রোধ, আধুনিক শিক্ষার ব্যবস্থা, মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, প্রজনন স্বাস্থ্য, সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার এবং নারীর প্রতি সহিংসতা রোধসহ আরও অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ঘাতকের হাতে অকালে জীবন দিতে হওয়ায় তার এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অনেকটাই পিছিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডে দেশ ও জাতির যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় নারীর ক্ষমতায়ন, নারী উন্নয়নে রেখেছেন অসামান্য অবদান।

পরিশেষে

বঙ্গবন্ধু নারী ক্ষমতায়নের যে ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন তার উপরই দাঁড়িয়েছে বর্তমান বিশ্বের 'রোল মডেল' সৌধ। এই সময়ে শুধু সংসদেই নয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী শীর্ষস্থান দখল করে আছে সগর্বে। জাতীয় রাজনীতির পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছেন নারী। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার চলতি মেয়াদের শাসনামলে নারীর ক্ষমতায়ন নতুন মাত্রা পায়। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে সফলতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশ ২০১৫ সালে গুরুত্বপূর্ণ 'উইমেন ইন পার্লামেন্টস গেস্নাবাল ফোরাম অ্যাওয়ার্ড' লাভ করে। ইউএন উইমেন ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে 'পস্ন্যানেট ফিফটি ফিফটি চ্যাম্পিয়ন' সম্মানে ভূষিত করে এবং গেস্নাবাল পার্টনারশিপ ফোরাম নারী ক্ষমতায়নে ব্যাপক অবদান রাখার জন্য তাকে 'এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড' প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে এবং নারীর যথাযথ মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। তিনি যতবার ক্ষমতায় এসেছেন নারীর ক্ষমতায়নে নতুন নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়িয়েছেন। পরের বার কেবিনেট এবং স্পিকার হিসেবে নারীর যোগ্যতার প্রমাণ তুলে ধরলেন। দেশের প্রথম নারী সিটি মেয়র বঙ্গবন্ধুকন্যার হাত ধরেই। সরকারের বাস্তস্তুখী কর্মসূচির ফলে বাংলাদেশ জেন্ডার গ্যাপ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য সব দেশের তুলনায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। আর বৈশ্বিক হিসেবে, গেস্নাবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট, ২০১৬ অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৪টি দেশের মধ্যে ৭২তম। এই অবস্থান গত ২০০৬ সালে ছিল ১১৫টি দেশের মধ্যে ৯১তম। ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় সরকার দেশকে ২০২১ সাল নাগাদ একটি মধ্য আয়ের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার পথমানচিত্র অংকনের প্রয়াস পেয়েছে। তন্মধ্যে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উদ্যোগ, মাতৃত্ব ও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি, নারীর প্রতি সহিংসতা দমন, বাল্যবিবাহ নিরোধ ইত্যাদি। এ ছাড়া নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে