logo
বৃহস্পতিবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

  অনলাইন ডেস্ক    ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

প্রকৃতির স্বগর্

বিছানাকান্দি পান্থমাইয়ের

সিলেটে ঘুরতে আসার প্ল্যান করছেন? কোথায় কোথায় ঘুরবেন, তার একটা খসড়া তৈরি করছেন। আপনাকে তখনই মাথায় নিতে হবে প্রকৃতির স্বগর্ বিছানাকান্দি ও পান্থমাইয়ের কথা। পযর্টন সম্প্রসারণের এ সময়ে আলোচিত নামগুলোর অন্যতম সিলেটের এ দুটি স্থান। একই রুটে যাতায়াতের কারণে দিনের দিন শেষ করতে হবে এ দুটি স্পট। কাছাকাছি নৌকা ভ্রমণের সুযোগে বিছানাকান্দি যাওয়ার আগে পান্থমাই ঝরনা দেখে আসাটা বেশ বুদ্ধিমানের কাজ। সব মিলিয়ে এ দুটি জায়গায় একদিনে ভ্রমণ করতে পারবেন সহজেই। লিখেছেন ফয়জুল্লাহ ওয়াসিফ

বিছানাকান্দি পান্থমাইয়ের
পান্থমাই : বিছানাকান্দি যাওয়ার আগেই আপনি যাবেন পান্থমাই ঝরনায়। পান্থমাই ঝরনা ভারতে হলেও এর সৌন্দযর্ পুরোটাই বাংলাদেশ থেকে দেখা যায়। ভারতীয়দের এ সৌন্দযর্ দেখতে হলে ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসতে হবে। ওখানে গেলে আপনার মনে হবে, যাক বাবা, পান্থমাই জলপ্রপাত তোমাকে ছুঁতে না পারলেও তোমার অসম্ভব সৌন্দযর্ দেখে আমি অভিভ‚ত। আমাদের দেশের ঝরনাগুলো মূলত উপর থেকে নিচের দিকে প্রবাহিত হলেও এ ঝরনার বিশেষ বৈশিষ্ট্য এটা পাহাড়ি ঢল বেয়ে পাথরের মধ্য দিয়ে সজোরে প্রবাহিত হয়, যা আপনাকে এক উদ্দাম নৃত্য দেখাবে। বেশ গজর্ন করতে থাকবে। আর টানতে থাকবে আপনার মন। কিন্তু একে ছুঁয়ে দেখার মতো সাধ্য আপনার নেই। তবে গড়িয়ে পড়া পানিতে গা ভিজিয়ে কিছুটা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে পারেন। এখানেই সাথর্কতা। সবুজে ঘেরা গ্রামের মধ্যে এই আমাদের এক অহংকার বলতেই পারেন। পান্থমাই গ্রামের চারপাশটা খুব চমৎকার প্রকৃতি দিয়ে ঘেরা। যেন সৌন্দযের্র আধার। রয়েছে বড় একটি খেলার মাঠ। বলা হয়ে থাকে, পান্থমাই বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর গ্রামগুলোর একটা। আপনার কাছেও গ্রামটা অসম্ভব সুন্দর লাগবে। মেঘালয় পাহাড়ের বুকে হেলান দিয়ে থাকা পান্থমাই গ্রাম বষার্র রূপ আর সৌন্দযের্ অনন্যসাধারণ। এ ঝরনার পানি পুরোটাই প্রবাহিত হয় বাংলাদেশে। এর থেকে গড়িয়ে যাওয়া পানিতেই তৈরি হয়েছে ছোট নদী। স্থানীয়রা এটাকে ছড়া বলে থাকে। আর পান্থমাই জলপ্রপাত এ দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন বলেই এটাকে ফাটা ছড়া বা ঝরনা নামে চেনে।

বিছানাকান্দি : পান্থমাই ভ্রমণ শেষে আপনার এবারের গন্তব্য বিছানাকান্দি। প্রকৃতির রাজকন্যা বিছানাকান্দির দিকে নৌকা যতই এগোতে থাকবে, ততই চারপাশের সৌন্দযর্টা যেন উপচে পড়বে আপনার ওপর। মুগ্ধতা ততটাই বেড়ে যাবে। এ মুহূতর্গুলো পুরো ভ্রমণটাকে আরও স্মরণীয় করে রাখবে। একটু দূরের দুই পাশে মেঘে ঢাকা মেঘালয় পাহাড় যেন স্বাগত জানাবে আপনাকে। অবাক বিস্ময়ে বিছানাকান্দির রূপ দেখতে দেখতে এগোতে থাকবেন মূল স্পটের দিকে। গিয়ে এবার জলকেলিতে মেতে ওঠার পালা।

বিছানাকান্দিতে রয়েছে ছোট-বড় অগণিত পাথরের সমারোহ। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অজস্র পাথর, দেখে যেন মনে হয় পুরো এলাকাটাই পাথরের বিছানা। পিয়াইন নদীর অগণিত পাথরের মধ্যে আপনাকে হঁাটতে হবে সাবধানে পা ফেলে। একটু অসাবধানতার ফলে যে কোনো সময় দুঘর্টনা ঘটে যেতে পারে। পানির গভীরতা কম হলেও পাথরের মধ্যে আপনার ভ্রমণকে করবে আরও রোমাঞ্চিত। একটু পরপর বিজিবি সদস্যদের সতকর্বাণী আপনাকে এনে দেবে আরও থ্রিলার। জলপাথরের প্রাকৃতিক সৌন্দযের্র মধ্যে নিজের একটা ছবি হলেও ফ্রেমবন্দি করে রাখতে ব্যস্ত হবেন। ওপরে নীল আকাশ ঠিকরে পড়েছে জলে। জল হয়েছে নীলাভ। ডানে-বঁায়ে সামনে মেঘালয়ের উঁচু পাহাড়। পাহাড়ে হেলান দিয়ে সাদা মেঘ। মাঝে ঝরনার বষর্ণধারা। দৃষ্টির শেষ সীমানা পযর্ন্ত শুধু পাথর আর পাহাড়। এ দৃশ্য দেখে নিজেকে সামলানো যে বড় কঠিন! দীঘর্ সময় জলপাথরের বিছানায় শুয়ে-বসে গোসল করার পর একসময় বুঝতে পারবেন, এবার ফিরতে হবে। তখন কেবল মন খারাপের পালা। যখন ফিরে আসবেন, তখন পেছন থেকে সীমান্তের দিগন্ত ছেঁায়া মেঘালয় পাহাড় হাতছানি দিয়ে ডাকবে আর বলবে, আরও কিছুক্ষণ থেকে যাও। সময় পেলে ঘুরে আসতে পারেন এই পযর্টন স্পট থেকে। এখানকার নয়নাভিরাম প্রকৃতি আপনাকে নিরাশ করবে না ।

যাতায়াত, থাকা-খাওয়া : রাজধানী ঢাকাসহ দেশের যে কোনো জেলা থেকে সবর্প্রথম আপনাকে আসতে হবে সিলেট শহরে। বিছানাকান্দি যেতে হলে সবর্প্রথম আপনাকে নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট যেতে হবে। সেখানে বিমানবন্দর রোড দিয়ে সিএনজিযোগে ধরতে হবে বিছানাকান্দি আর পান্থমাইয়ের পথ। হিাদারপার থেকে নৌকাযোগে বিছানাকান্দি ও পান্থমাই একসঙ্গে ঘুরতে ভাড়া গুনতে হবে ১ হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা। দুটি স্পটে একসঙ্গে গেলেই ভালো হয়। নৌকা ভাড়া ঠিক করার সময় আপনাকে একটু চালাকির পরিচয় দিতে হবে। তা না হলে অতিরিক্ত ভাড়া চেয়ে বসতে পারে। সচরাচর সিএনজিচালিত অটোরিকশা বিছানাকান্দি যাওয়ার অন্যতম বাহন হলেও নিজস্ব ছোট বাহনগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। রাস্তা কিছুটা খারাপ থাকায় সাবধানে যেতে হবে। বিছানাকান্দি যেতে হয় সিলেটের আম্বরখানা পয়েন্ট হয়ে এয়ারপোটর্ রোড দিয়ে যেতে হবে। অথবা সারিঘাট হয়ে সিলেট-জাফলং সড়ক ধরেও যেতে পারেন হাদারপার বাজার পযর্ন্ত।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে