logo
শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

গোছানো থাক শীতের অনুষঙ্গ

এখন সকালের দিকে যে রোদ আছে তা লেপ, কম্বলের মতো ভারী জিনিস রোদে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। তাই অনেক দিন ধরে তুলে রাখা লেপ, কম্বল, কাঁথাগুলোর এখনই সময় কড়া রোদে দেয়ার।

গোছানো থাক শীতের অনুষঙ্গ
চলছে অগ্রহায়ণ। অল্প অল্প করে হলেও এরই মধ্যে বেশ কিছুটা পাল্টে গেছে প্রকৃতির ধরন। শেষ রাত ও ভোরের হিম হিম ঠান্ডা বাতাস জানিয়ে দিচ্ছে পৌষ, মাঘের আগমনী বার্তা। আরও দিন পনেরোর মধ্যে কমে যাবে সূর্যের তেজ আর বেড়ে যাবে কুয়াশার দৌরাত্ম্য। তাই সময় হাতে থাকতে থাকতে সেরে নিন আসন্ন শীতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ। যেগুলো অগ্রিম করে রাখতে পারলে কমে যাবে আপনার ও আপনার পরিবারের অনেকটা কষ্ট।

গুছিয়ে রাখুন লেপ-কম্বল-কাঁথা: এখন সকালের দিকে যে রোদ আছে তা লেপ, কম্বলের মতো ভারী জিনিস রোদে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। তাই অনেক দিন ধরে তুলে রাখা লেপ, কম্বল, কাঁথাগুলোর এখনই সময় কড়া রোদে দেয়ার। লেপ, কাঁথা, কম্বল যথেষ্ট পরিমাণে না থাকলে কিনে নিতে হবে এখনই। লেপ রোদে দেয়ার পর এলোমেলো ভাঁজে না রেখে অবশ্যই রোল করে ভাঁজ রাখতে হবে। এ ছাড়া কম্বলের কভার, লেপের কভার এগুলো ধুয়ে রোদে শুকিয়ে তারপর ব্যবহার করতে হবে। কম্বল রোদে দেয়ার সময় আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস মাথায় রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে ঝাড়ার সময় এর লোমগুলো যেন উঠে না যায়, সেজন্য নরম ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া ছেঁড়া বা পোকায় কাটা লেপ বা কম্বলজাতীয় কিছু থাকলে সেগুলো সারিয়ে রোদে দেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।

গোছানো থাক শীতের পোশাক: সোয়েটার, শাল, চাদর, জ্যাকেট ইত্যাদি পোশাক ভালো করে ধুয়ে অবশ্যই কড়া রোদে শুকিয়ে রাখতে হবে। রোদ থেকে তোলার পর ভালোভাবে ঝেড়ে রাখতে হবে শীত পোশাকগুলো। সোয়েটার, শাল, চাদর এগুলো পুরনো হয়ে গেলে প্রয়োজনে এখনই কিনে নিতে পারেন। ভোরে কিংবা সকালে ঘর থেকে বেরোনোর সময় সুতির পাতলা হালকা ফ্যাশনেবল শালগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো কেনা না থাকলে এখনই কিনে নিতে হবে। শুধু তাই নয়- যেখানে এ পোশাকগুলো রাখা হবে সেখানে এয়ার ফ্রেশনার, ন্যাপথলিন এগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পোকার সংক্রমণ হবে না। আবার পোশাকগুলো থেকে সুন্দর ঘ্রাণ আসবে। অনেক দিন ধরে তুলে রাখা শাল ব্যবহার না করলে হলদেটে দাগ পড়ে যায়। এমন হলে শালটি ড্রাইওয়াশ করিয়ে নিতে হবে। উল বা ফ্লানেলের যে কোনো কাপড় ব্যবহারের আগে ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। এ ছাড়া বাচ্চাদের পোশাকের ব্যাপারেও এখন থেকেই সতর্ক হতে হবে। কানটুপি, হাত মোজা, পায়ের মোজা এখনই কিনে রাখুন। হঠাৎ করেই শীত নেমে গেলে তারা যাতে কষ্ট না পায়।

ছেলেদের কোট, বেস্নজার ব্যবহারের আগে ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করে রোদে শুকাতে হবে। রোদ থেকে আনার পর এগুলো হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। মাফলার, কানটুপি, হাত মোজা, পায়ের মোজা সব সময় হাতের নাগালেই রাখতে হবে। আগের বছর কেনা থাকলেও দেখে নিন সেগুলো ছিঁড়ে বা ফুটো হয়ে গেছে কিনা। তাহলে নতুন কিনে নিতে হবে।

প্রস্তুত থাকুক ঘরের কোণও: শীতের সময় ঠান্ডার মাত্রাটা পরিমাপ করা আসলেই কঠিন। আজ হালকা শীত তো কাল শৈত্যপ্রবাহ! যেহেতু ঘরের মেঝে এ সময় বরাবরই ঠান্ডা থাকে, তাই মেঝেতে ব্যবহার করতে পারেন কার্পেট, শতরঞ্জি কিংবা ফ্লোর ম্যাট। এ ছাড়া এ সময়টাতে ঘরের জানালায় ব্যবহার করতে পারেন ভারী জানালার পর্দা। খুব ভালো করে দেখে নিন ঘরের জানালার কোনো শার্সি কিংবা কাচ ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে কিনা? নষ্ট হয়ে থাকলে তা এখনই সারিয়ে নিতে হবে। শীতে ব্যবহার্য সামগ্রী; যেমন ওয়াটার হিটার, গিজার, ইলেকট্রিক শাওয়ার, রুম হিটার- এগুলো ঠিক আছে কিনা এখন থেকেই সেদিকে খেয়াল করতে হবে। আর সব সময় যে জিনিসটা মাথায় রাখতে হবে তা হলো পর্যাপ্ত আলো-বাতাস। শীতে উষ্ণতা পেতে ঘরে পর্যাপ্ত রোদ আসার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে ঘর যেমন পরিচ্ছন্ন থাকবে তেমন পরিবারের সবার ঠান্ডাজনিত অসুখ-বিসুখও কম হবে।

শীতে পারিবারিক স্বাস্থ্য: শীতে বড়দের তেমন একটা অসুখ হতে দেখা না গেলেও একটু অসচেনতায় শিশুদের হতে পারে মারাত্মক ঠান্ডাজনিত সমস্যা। তাই হাতের কাছে কফ সিরাপ, সর্দি ও জ্বরের ওষুধের মতো ফাস্টএইড সঙ্গে রাখুন। এই সিজনে বাচ্চাদের জন্য হামদর্দ ও চমনপ্রাশ নিয়মিত সেবন সর্দির প্রকোপ কমাতে ও শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে এগিয়ে রাখতে সহায়তা করে। এ ছাড়া বড়দেরও ত্বক ফাটা পায়ের গোড়ালি ফাটার মতো কমন ঝামেলা প্রায়ই পোহাতে হয়। তাই গোসলের পর অলিভঅয়েল, ভেসলিন ইত্যাদির ব্যবহার শুরু করতে পারেন এখন থেকেই। হাতের কাছে না থাকলে এখনো কিনে রাখুন। বিশেষ করে চাকরিজীবীরা যারা দিনের অনেকটা সময় কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তারা ২৪ আওয়ার ময়েশ্চারাইজার যুক্ত লোশন ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে দিনের অনেকটা সময় থাকা যাবে প্রাণবন্ত আর ঝলমলে।

শুধু যে গ্রীষ্মকালেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হয় এ ধারণা ভুল। শীতেও ত্বককে সূর্যের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সানস্ক্রিন ব্যবহার দরকার। শীতকালে এসপিএফ ১৫-৩০ সম্পন্ন সানস্ক্রিন ত্বকের জন্য বেশ উপযোগী।

শীতে আমরা ত্বককে যত কম সম্ভব পানির সংস্পর্শে আনার চেষ্টা করি। কিন্তু শীতকালে যদি আপনি মুখে পানির ঝাপটা দেন তাহলে ত্বকটা আর শুষ্ক থাকবে না। এতে ত্বকে আর্দ্রতা বজায় থাকবে। শীতে গোসলের সময় অনেকেই গরম পানি ব্যবহার করেন। কিন্তু এটা মাথায় রাখতে হবে, অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক। এতে ত্বকের ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ফলিকলই ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

এ ছাড়া গোসলের পর এবং মুখ ধোয়ার পর তা শুকানোর অপেক্ষা না করাই ভালো। ভেজা অবস্থাতেই ময়েশ্চারাইজার বা লোশন ব্যবহার করতে হবে। এতে ত্বকের আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় বজায় থাকবে।

শীতের প্রস্তুতি আগাম নিয়ে রাখলে আপনাকে কোনো বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হবে না। বাসাবাড়ি কিংবা অফিস, সবখানেই আপনি থাকবেন নির্ঝঞ্ঝাট। উপভোগ করতে পারবেন শীতের সোনাঝরা রোদ্দুর। তাই আসন্ন শীতের অগ্রিম প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন আর পুরো শীতকালটাজুড়েই আপনি থাকুন প্রাণবন্ত আর উৎসবমুখর।

\হরঙ বেরঙ ডেস্ক
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে