logo
শুক্রবার ২৬ এপ্রিল, ২০১৯, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬

  মো: আলামিন   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

মহাজাগতিক বিস্ফোরণের গবেষণায় বিজ্ঞানীরা

মহাকাশ অভিযানের সময় যাতে খরচ, পরিশ্রম ও ওজন কমানো যায়, তার জন্য সেখানকার উপাদান কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা তৈরি করে নিতে পারলে ভালো। এ ধরনের উদ্যোগের ফলে অদূর ভবিষ্যতে মহাকাশ যাত্রায় সুফল পাবেন নভোচারীরা। তাদের মতে পৃথিবী থেকে জ্বালানি, পানিসহ অন্যান্য উপকরণ বয়ে নেয়া মানে অতিরিক্ত ভার বহন করা। এসব উপাদানের বদলে যদি বাড়তি কম্পিউটার কিংবা অন্যান্য গবেষণার উপাদান পাঠানো সম্ভব হয়, তবে মহাকাশ মিশন বেশি কাযর্কর হতে পারে।

মহাজাগতিক বিস্ফোরণের গবেষণায় বিজ্ঞানীরা
মহাকাশে এবার গ্যাস স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষকরা। পরিকল্পনা সফল হলে নভোযানে আর অতিরিক্ত জ্বালানি বহন করার প্রয়োজন পড়বে না। মহাকাশ অভিযানে বা চঁাদ ভ্রমণের পথে অতিরিক্ত জ্বালানি এখান থেকেই সংগ্রহ করা যাবে। তখন জ্বালানির পরিবতের্ প্রয়োজনীয় গবেষণা যন্ত্রপাতি বহন করতে পারবে নভোযান। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

সম্প্রতি এমআইটির গবেষকরা সাশ্রয়ী গ্যাস স্টেশন তৈরির দুটি নকশা করেছেন। গবেষকরা জানিয়েছেন, মহাকাশের ল্যাগরেঞ্জ অঞ্চলে এ ডিপো স্থাপন করা যেতে পারে। কারণ এ অঞ্চলটিতে মহাকষর্ ভারসাম্য বিদ্যমান।

গবেষকরা জানিয়েছেন, মহাকাশ অভিযানের সময় যাতে খরচ, পরিশ্রম ও ওজন কমানো যায়, তার জন্য সেখানকার উপাদান কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা তৈরি করে নিতে পারলে ভালো। এ ধরনের উদ্যোগের ফলে অদূর ভবিষ্যতে মহাকাশ যাত্রায় সুফল পাবেন নভোচারীরা। তাদের মতে পৃথিবী থেকে জ্বালানি, পানিসহ অন্যান্য উপকরণ বয়ে নেয়া মানে অতিরিক্ত ভার বহন করা। এসব উপাদানের বদলে যদি বাড়তি কম্পিউটার কিংবা অন্যান্য গবেষণার উপাদান পাঠানো সম্ভব হয়, তবে মহাকাশ মিশন বেশি কাযর্কর হতে পারে।

চিন্তার কারণÑ ময়লার মধ্যে স্ক্রু, বল্টু থেকে শুরু করে রয়েছে রকেটের ভেঙে যাওয়া বড় বড় টুকরা?বিজ্ঞানীদের হিসাবে সংখ্যাটা হবে প্রায় তিন লাখ?আর কক্ষপথে সেগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে দ্রæতগতিতে?ফলে মহাকাশে থেকে স্যাটেলাইটগুলোর সঙ্গে ওই জঞ্জালগুলোর যে কোনো সময় সংঘষর্ বাধার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা আর সে কারণেই যত দ্রæত সম্ভব আবজর্না পরিষ্কারের দাবি উঠেছে।?

গবেষকদের মতে, পৃথিবী, চঁাদ ও সূযের্র যে অঞ্চলে মহাকষর্ টানের ভারসাম্য রয়েছে সে অঞ্চলে এ জ্বালানি ডিপো তৈরি করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে আরও একটা সুবিধার সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। গ্যাস স্টেশনটি তৈরি করা গেলে এবং সফলভাবে স্থাপন করা গেলে মহাকাশযানগুলোকে আর অপ্রয়োজনে আন্তজাির্তক মহাকাশ স্টেশনে যাওয়ার ঝক্কি পোহাতে হবে না। তারা চাইলে গ্যাস স্টেশন হয়েই নিজ গন্তব্যে চলে যেতে পারবে।

জামার্ন বিজ্ঞানীরা মহাকাশের ময়লা সরাতে লেজার রশ্মিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন?একই বিষয়ে গবেষণা করছেন অস্ট্রেলিয়ার একদল বিজ্ঞানীও।?

অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভাসিির্টর ‘রিসাচর্ স্কুল অব অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের পরিচালক ম্যাথু কোলেস মনে করছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে লেজার রশ্মি দিয়ে মহাকাশের আবজর্না পরিষ্কার সম্ভব হতে পারে?

তিনি বলেন, ‘এটা সম্ভব হওয়া গুরুত্বপূণর্, কেননা তা না হলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই ময়লার সঙ্গে স্যাটেলাইটের সংঘষর্ লাগার ঘটনা ঘটা শুরু হবে’।

ইতিমধ্যে মাকির্ন মহাকাশ সংস্থা নাসার সঙ্গে চুক্তি করেছে অস্ট্রেলিয়ার আওতায় ‘মাউন্ট স্ট্রমলো অবজারভেটরি’-তে ইনফ্রা-রেড লেজার সংবলিত টেলিস্কোপ দিয়ে আবজর্নার অবস্থান নিধার্রণের কাজ চলছে?

এ ছাড়া বিজ্ঞানী দল অস্ট্রেলিয়া সরকার থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগ থেকে আরও ৪০ মিলিয়ন ডলার পাচ্ছে?এ অথর্ দিয়ে লেজারের ক্ষমতা বাড়ানোর গবেষণা করা হবে, যেন সেই লেজার দিয়ে মহাকাশের আবজর্না শনাক্ত করে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলা যায়।?

কিন্তু জঞ্জাল সরাতে গিয়ে এ লেজার কি স্যাটেলাইটকে আক্রমণ করে ফেলতে পারে না? এমন আশঙ্কার উত্তরে কোলেস বলেন, ‘চালু স্যাটেলাইটে আঘাত করার কোনো ঝুঁকি নেই আমরা ময়লাকে নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে পারি’।

নাসার কেপলার মিশন জানিয়েছে, তারা আরো ৭১৫টি নতুন গ্রহের সন্ধান পেয়েছে। আর এ গ্রহগুলো আমাদের সূযের্র মতো ৩০৫টি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। অথার্ৎ আমাদের সূযের্ক কেন্দ্র করে যেমন অনেক গ্রহ ঘুরছে ঠিক একইভাবে এ নক্ষত্রগুলোকে কেন্দ্র করেও ঘুরছে একাধিক গ্রহ। এ গ্রহগুলো শতকরা ৯৫ ভাগ গ্রহই নেপচুনের চেয়ে আকারে ছোট। নেপচুনের আকৃতি পৃথিবীর প্রায় চারগুণ। নতুন এ গ্রহগুলোর আবিষ্কারের ফলে পৃথিবীর সঙ্গে দৃশ্যত মিল আছে এরকম জানা গ্রহের সংখ্যা আরো বেড়ে গেল। ঘঅঝঅ’ং ঝপরবহপব গরংংরড়হ উরৎবপঃড়ৎধঃব.

ওয়াশিংটন ডিসির জন গ্রæন্সফিল্ড বলেন, ‘কেপলার ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কমীর্ দলের নিরলস পরিশ্রমের ফলে অল্প সময়েই আমরা গ্রহদের অনুসন্ধান সংক্রান্ত বিষয়ে চমৎকার ফল পেয়েছি।’ আর এর ফলে মানুষের এ মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ পদচারণা কেমন হবে তারই ধারণা পাওয়া যাবে। আর সে লক্ষ্যেই তৈরির অপেক্ষায় রয়েছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। এটার কাজ হবে এই ‘নতুন বিশ্বগুলো’কে নিয়ে গবেষণা করা।

আজ থেকে ২০ বছর আগে সৌরজগতের বাইরে প্রথম গ্রহটি আবিষ্কৃৃত হয়েছিল। এত মহাজাগতিক বস্তুর মধ্যে গ্রহগুলোকে আলাদাভাবে নিণর্য় করা ছিল বেশ সময়সাপেক্ষ। তবে এখন বিজ্ঞানীদের কাছে রয়েছে, একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রযুক্তি, যার ফলে নতুন গ্রহগুলো নিণর্য় করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। ক্যালিফোনির্য়ায় অবস্থিত নাসার অসবং জবংবধৎপয ঈবহঃবৎ এর গ্রহবিজ্ঞানী জ্যাক লিসাওর একটি গবেষণা পরিচালনা করেন, যার ফলে ২০০৯-১১, এ দুই বছরে অনেক গ্রহ ও নক্ষত্র আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে।

কেপলার প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার নক্ষত্র পযের্বক্ষণ করেছে। এর মধ্যে হাজারের মতো নক্ষত্রকে বিবেচনায় আনা হয়। যাদের মধ্যে ৭১৫টি গ্রহ বলে নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এ গ্রহগুলোর মধ্যে অন্তত চারটির আকার পৃথিবীর চেয়েও ২.৫ গুণ বড়। এ আবিষ্কারের ফলে আমাদের সৌরজগতের বাইরে জানা গ্রহের সংখ্যা দঁাড়াল ১৭০০টি।

নাসার ‘ওহঃবৎভধপব জবমরড়হ ওসধমরহম ঝঢ়বপঃৎড়মৎধঢ়য’ (ওজওঝ) মহাশূন্যযানকে উৎক্ষেপণ করা হয় বেশ কিছুদিন আগে। এই মহাশূন্যযানকে সূযের্র কাছ থেকে একটি নিদির্ষ্ট দূরত্বে পরিভ্রমণ করতে পাঠানো হয়েছে। এর মূল কাজ এটা দেখা, কীভাবে বিভিন্ন সৌরপদাথর্ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তরিত হয় ও শক্তি সঞ্চয় করে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে