logo
সোমবার ২২ জুলাই, ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

  অনলাইন ডেস্ক    ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০  

উৎসবে অনলাইনে কেনাকাটা বাড়ছে

দিন দিন গ্রাহকের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে অনলাইন শপগুলোর চাহিদা। দেশে এখন অর্ধশতাধিকেরও বেশি অনলাইন শপ রয়েছে। তবে কোন অনলাইন শপটি বেশি জনপ্রিয় তা নিয়ে একটি জরিপ করেছে মিলওয়ার্ড ব্রাউন। এতে স্থানীয় সব অনলাইন কেনাবেচার ওয়েবসাইটের মধ্যে 'দারাজ ডটকম' সিংহভাগ মানুষের টপ অব মাইন্ডে রয়েছে। এ সাইটটি টানা দুই বছর ধরে শীর্ষে রয়েছে...

উৎসবে অনলাইনে কেনাকাটা বাড়ছে
বৈশাখ ও নানা রকম উৎসবে অনলাইনে কেনাকাটা বেড়ে যায় ছবি : ইন্টারনেট
ছবি ঘোষ

ডিজিটাল যুগে কষ্ট কমিয়ে দিচ্ছে অনলাইন শপিং সাইটগুলো। পিছিয়ে নেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুকও। কম্পিউটারে ব্রাউজ করলেই ঘরে বসে পাওয়া যাচ্ছে নিজের পছন্দমতো পোশাক, গহনা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। অনলাইন শপিং শুনলেই অনেকে মনে করেন, টাকা দিতে হবে ক্রেডিট কার্ডে। তবে সেই সমস্যাও এখন বলতে গেলে নেই। বেশির ভাগ অনলাইন শপই 'ক্যাশ অন ডেলিভারি' সার্ভিস দিয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, অনলাইন সাইটগুলো দ্রম্নত পণ্য ঘরে পৌঁছে দিতে নিয়ে এসেছে 'হোম অন ডেলিভারি', 'ফ্রি ডেলিভারি'। অনেকেই মনে করেন, এ অনলাইন শপগুলোতে ভালোমানের পণ্য পাওয়া মুশকিল। কিন্তু সে দুশ্চিন্তাও এড়িয়েছে অনলাইন সাইটগুলো। এখন এ শপগুলোতে ব্র্যান্ডের পণ্যও পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণেই তরুণদের চাহিদা বাড়ছে অনলাইন শপের প্রতি। স্বল্পসময়ে ঝামেলাহীন বাজারের চাহিদা মেটাতে বেশি ঝুঁকছে একক পরিবারগুলো।

দিন দিন গ্রাহকের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে অনলাইন শপগুলোর চাহিদা। দেশে এখন অর্ধশতাধিকেরও বেশি অনলাইন শপ রয়েছে। তবে কোন অনলাইন শপটি বেশি জনপ্রিয় তা নিয়ে একটি জরিপ করেছে মিলওয়ার্ড ব্রাউন। এতে স্থানীয় সব অনলাইন কেনাবেচার ওয়েবসাইটের মধ্যে 'বিক্রয় ডটকম' সিংহভাগ মানুষের টপ অব মাইন্ডে রয়েছে। এ সাইটটি টানা দুই বছর ধরে শীর্ষে রয়েছে। দেশব্যাপী ১ হাজার ৮ জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ওপর পরিচালিত একটি জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অবশ্য স্বাভাবিকভাবেই এ জরিপ অনুযায়ী বার বার ভিজিট করা ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে ফেসবুক এক ও গুগল দুই নাম্বারে ছিল। উত্তরদাতাদের কাছে স্থানীয় অথবা আন্তর্জাতিক সব শীর্ষ ইন্টারনেট সাইটের মধ্যে বিক্রয় ডটকম তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এর পরই রয়েছে 'এখানেই ডটকম'।

গ্রাহকদের পণ্যের চাহিদার ওপরও ভিত্তি করে খোলা হয়েছে অনলাইন শপ। যেমন শুধু ঘরে বসে যে কোনো পণ্য কেনার জন্য রয়েছে এক ধরেনর সাইট, আছে ব্র্যান্ডেড শপগুলোরও অনলাইন শপিং, কাউকে গিফট দিতে চাইলেও রয়েছে আলাদা কিছু সাইট, একান্ত ব্যক্তিগত কিছু কেনার জন্য রয়েছে ভিন্ন সাইট আবার কারো যদি কেনা ও বেচা দুটোরই ইচ্ছা থাকে, তাহলে ঘুরে আসতে পারেন ক্লাসিফায়েড ওয়েবসাইটগুলোতে।

নতুন পোশাক-আশাক ছাড়া যেন উৎসব অপূর্ণ থেকে যায়। শুধু পোশাকই নয়, উৎসবে ঘর সাজানো থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিও কেনার প্রতি আগ্রহ দেখা যায়। উৎসব সামনে রেখে তাই বিক্রেতাদের মধ্যেও থাকে নানা আয়োজন। অনলাইনে কেনাকাটা বাংলাদেশে যদিও এখনো মূলধারায় মিশতে পারেনি, তবে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলোতে প্রতি বছরই বাড়ছে উৎসবের কেনাকাটার হার। গত বছর আর এবারের ঈদের কেনাকাটার পরিমাণ তুলনা করলেও তা বোঝা যায়। লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে দেড় থেকে দুই গুণ। প্রতি লেনদেনে খরচ করা অর্থের পরিমাণও বাড়ছে। ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও বড় ব্র্যান্ডের ই-শপগুলো তাই এবারের উৎসবগুলো খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

বৈশাখ ও ঈদ সামনে রেখে ফ্যাশন হাউস আড়ংয়ের আয়োজন যেমন বেশি থাকে, তেমন বিক্রিও বেড়ে যায় বেশ। রাজধানীসহ বেশ কিছু জেলা শহরে আড়ংয়ের বেশ বড়সড় বিক্রয় কেন্দ্র চোখে পড়ে। সারা দেশে ফ্যাশন হাউসটির পণ্যের চাহিদা আছে। তাই দেশের মানুষের কাছে আড়ংয়ের পণ্য পৌঁছে দিতে অনলাইনে বিকিকিনির ওপর এবার বিশেষভাবে জোর দেয়া হয়েছে বলে জানান সিনিয়র রিটেইল ম্যানেজার আহমদ মনসুর রউফ। তিনি বলেন, 'ই-কমার্স ওয়েবসাইট বা ই-স্টোরের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে ভালো।

অন্যান্য ই-কমার্স ওয়েবসাইটের সঙ্গে বিক্রয় ডটকমের পার্থক্য, এটি অনলাইন বাজার। যে কেউ চাইলেই অ্যাকাউন্ট খুলে নিজেদের পণ্য বিক্রি করতে পারেন, ক্রেতা তাদের পছন্দ মোতাবেক পণ্য খুঁজে নেন। তাই বিক্রয় ডটকমের নিজস্ব ঈদ আয়োজন নেই, তবে সাম্প্রতিক সময়ে চালু করা 'বিক্রয় মেম্বারশিপ' সেবার মাধ্যমে ১০০-এর বেশি সদস্য তাদের পোশাকসামগ্রী নিজ নিজ বিক্রয় পোর্টালের মাধ্যমে বিক্রি করছেন। মেম্বারশিপ সেবার প্রত্যেকেই ঈদ উপলক্ষে পণ্য কেনাবেচার সময় তাদের পণ্যে বিভিন্ন অফার দিচ্ছেন বলে জানালেন বিক্রয় ডটকমের বিপণন পরিচালক মিশা আলী। তিনি বলেন, 'ঈদে বরাবরই ভিজিটরের পরিমাণ বেড়ে যায়। এবারো তাই। বিশেষ করে পোশাকসামগ্রী ও এর পাশাপাশি ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা বেশি বেড়েছে।'

ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আর ক্রেতার মধ্যে কিছুটা তফাত থাকে। সব ভিজিটর পণ্য কেনেন না। তবে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিলওয়ার্ড ব্রাউনের জরিপে দেখা গেছে, ভিজিটর থেকে ক্রেতায় রূপান্তরের হার বিক্রয় ডটকমে সবচেয়ে বেশি। মিশা আলী বলেন, 'গত ঈদের তুলনায় এবার ভিজিটর বেড়েছে ৩৩ শতাংশ এবং আগ্রহী ক্রেতা বেড়েছে ১০ শতাংশ।'

এ ঈদে সাধারণ মানুষের মধ্যে ই-কমার্স আরো জনপ্রিয় করে তুলতে আজকের ডিলে চলছে নানারকম আয়োজন। বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৩০ হাজার নতুন পণ্য যোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সব মিলিয়ে এখন এতে ১ হাজার ২০০ ক্রেতার ১ লাখ ৩০ হাজার পণ্য আছে। ঈদের সময়টাতে পণ্য কিনে বিকাশে মূল্য পরিশোধ করলে ১৫ শতাংশ অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা গ্রাহক সেবা কেন্দ্র সচল রাখা হয়েছে গ্রাহক কোনো সমস্যার মুখে যেন না পড়েন, তা দেখার জন্য। আজকের ডিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম ফাহিম মাশরুরের মতে, এবার বৈশাখে গত বছরের তুলনায় গ্রাহকদের মাঝে অনেক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আশা করা যায় সামনের দুটি ঈদেও এই আগ্রহ অব্যাহত থাকবে। প্রিয়শপ.কমের একজন বিক্রয়কর্মী বলেন, এ বছর বৈশাখে কেনাকাটা বেশ ভালই হচ্ছে। অথবা.কমের ডিজিটাল মার্কেটিং হেড আজিম হোসেন বলেন, বৈশাখে গ্রাহকের মাঝে যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে তা ঈদেও অব্যাহত থাকবে। একই কথা বলেন, পিকাবো.কম ও ইভ্যালি.কম-এর বিক্রয়কর্মীরা।

সিন্দাবাদ.কম, বাগডুম (িি.িনধমফড়ড়স.পড়স), দারাজ (িি.িফধৎধু.পড়স.নফ), কেইমু (িি.িশধুসঁ.পড়স.নফ), চালডাল (পযধষফধষ.পড়স), ওখানেই (িি.িড়শযধহবর.পড়স), মীনাবাজার (িি.িসববহধনধুধৎ.পড়স.নফ), প্রিয়শপ (িি.িঢ়ৎরুড়ংযড়ঢ়.পড়স) এবং অন্যান্য ই-কমার্স ওয়েবসাইটে ঈদ নিয়ে আছে নানা আয়োজন।'
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে