logo
  • শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

  অনলাইন ডেস্ক    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

আমি আমার মতো

টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রের গুণী অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ। দীঘির্দন ধরে সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দশর্কহৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন তিনি। এখনো অভিনয় নিয়েই তার মূল ব্যস্ততা। পাশাপাশি লেখালেখিও করেন। জীবনের এই পরিণত বয়সে কেমন আছেন তিনি, নাট্যাঙ্গনে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন, অভিনয় জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসুদুর রহমান

আমি আমার মতো
খায়রুল আলম সবুজ
বতর্মান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

অভিনয়, লেখালেখি ও গান এসব নিয়েই ব্যস্ততা। একটা সময়তো প্রচুর আড্ডা দিতাম। এখন আর আগের মতো আড্ডা দেওয়া হয় না। বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা, মহিলা সমিতি ও টিএসটি এলাকায় জমতো আড্ডা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলত আড্ডা। এখন নাটকে কাজ কম করছি। আবার যখন মন চাইবে তখন বাড়িয়ে দেব। আমার অভিনীত আরটিভিতে ‘নোয়াশাল’, দীপ্ত টিভিতে ‘ওরা থাকে ওধারে’ ও দুরন্ত টিভিতে ‘গল্প শেষে ঘুমের দেশে’ নাটকগুলো প্রচার হচ্ছে। এর ফঁাকে লেখালেখি চলছে।

লেখালেখির অভ্যাস কখন থেকে?

লেখালেখির অভ্যাস অনেক আগে থেকেই। নাটক অনুবাদের পাশাপাশি এ পযর্ন্ত ৩৫টি টেলিভিশন নাটক লিখেছি। এর প্রায় সবই বিটিভির জন্য। আমার লেখা প্রথম নাটক ‘স্বপ্ন বাতায়ন’ বিটিভিতে প্রচার হয় ১৯৮৪ সালে। ভাবছি বিটিভিতে প্রচারিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর স্ক্রিপ্ট আবার ঘষা-মাজা করে এই সময়ের দশর্কদের উপযোগী করে কিছু নাটক করব। কারণ এই সময়ের দশর্ক তো সেই নাটকগুলো দেখেনি। তবে এখন হেনরিক ইবসেনের লেখা নাটক অনুবাদ করছি। তাকে আধুনিক বাস্তবতাবাদী নাটকের জনক বলা হয়। এর আগে ১২টি নাটক অনুবাদ করেছি। এটি আমার ১৩ নম্বর অনুবাদ।

মঞ্চ দিয়ে আপনার অভিনয়জীবন শুরু, কিন্তু এখন মঞ্চে নেই কেন?

মঞ্চ নাটকের দল ‘থিয়েটার’-এ কাজ করতাম। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মঞ্চে অভিনয় করি না। সবের্শষ মঞ্চে অভিনয় করেছিলাম প্রখ্যাত নাট্যকার মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের ‘তোতারাম’ নাটকে। এটি মঞ্চায়ন হয়েছিল মহিলা সমিতিতে। তখন শিল্পকলা ছিল না। মঞ্চে কাজ না করার অনেক কারণ আছে। গ্রæপ ভাঙাভাঙি হয়, গ্রæপ ভেঙে নতুন করে দল তৈরী এসব আমার একদম ভালো লাগে না। আমি অন্য কারো মতো নই, আমি আমার মতো। তবে আমি মঞ্চের জন্য লিখি। মঞ্চ আমাকে টানে, মন চাইলে হয়তো কখনো আবার মঞ্চে অভিনয় করা হবে।

বড়পদার্য় অভিনয়ের নতুন

কোনো খবর আছে কী?

চলচ্চিত্রে কাজের প্রস্তাব অনেক আসে। করতে চাই না বলে চলচ্চিত্রে নিয়মিত নই। তবে তানভির মোকাম্মেলের ‘রূপসা নদীর বঁাকে’ নামের ছবিতে অভিনয় করেছি। এ বছরের শেষের দিকে মুক্তি পাবে ছবিটি। এ ছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় আছে গোলাম মোস্তফা শিমুলের ‘মুখ ও মুখোশ’ ছবিটি। চলচ্চিত্রে প্রথম কাজ করেছিলাম খুব সম্ভব তানভীর মোকাম্মেলেরই ছবি ‘নদীর নাম মধুমতী’তে। ওই সময়ে ‘লোবানের ছাড়পত্র’ নামে একটি স্বল্পদৈঘ্যর্ চলচ্চিত্রেও কাজ করেছি। এরপর তো অনেক সিনেমায় কাজ করা হয়েছে। হিসেব করে বলতে পারব না কতটি চলচ্চিত্রে কাজ করেছি।

অভিনয় শুরুর গল্পটা শুনতে চাই ...

আমার বাড়ি বরিশাল। ছোটবেলা থেকেই নাটকে অভিনয়ের আগ্রহ তৈরি হয়। আমরা পাড়ার মঞ্চ নাটকে অভিনয় করতাম। ১২ বছর বয়সে প্রথম মঞ্চে নাটক করি। প্রথম মঞ্চ নাটক ছিল ‘সূযর্মুখী’। টেলিভিশন নাটকে প্রথম অভিনয় করি প্রয়াত আতিকুল হক চৌধুরী পরিচালিত ‘জলের রঙ্গে লেখা’ নাটকে। পরে ধারাবাহিক নাটক ‘ঢাকায় থাকি’তে অভিনয় করি। বিটিভিতে প্রচারিত এই দুটি নাটকই সে সময়ে বেশ সাড়া ফেলেছিল।

আপনার গানের খবর বলুন ...

ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। যখন থেকে অভিনয় শুরু করি তখন থেকে গানও গাইতাম। এখনো গানের রেওয়াজ করি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে প্রতি মাসের পূণির্মা সন্ধ্যায় গানের আয়োজন করা হয়। ভবনের ছাদে মনমুগ্ধকর পরিবেশে প্রতি আসরেই আমি গান করে থাকি। গত ২৬ আগস্টেও সেখানে আমি দুটি গান পরিবেশন করেছি। পুরনো দিনের গানই আমার বেশি পছন্দ। তবে রবীন্দ্রসংগীতও গাওয়া হয়।

বতর্মান নাটক নিয়ে আপনার মন্তব্য ...

আগের মতো এখন আর টেলিভিশন দেখতে ভালো লাগে না। সময় সুযোগও হয় না। তারপরও যা দেখি তাতে ভালো-মন্দ দুটোই মনে হয়। নাটককে শুধু অথর্ উপাজের্নর মাধ্যম মনে না করে শিল্পর বিষয়টিও গুরুত্ব দেয়া দরকার। মনে রাখতে হবেÑ এটি একটি শিল্প। অথের্র জন্য যেন এ শিল্প নষ্ট না হয়। তবে ইদানীং কিছু কিছু ভালো কাজও হচ্ছে। সেগুলো নতুনরাই করছেন।

অভিনয়জীবনে আপনার প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি কী?

আমি আমার মতোন আনন্দে জীবন কাটাই। মন যা চায় তাই করি। অনেকেই এটাকে পাগলামি বলেন। কিন্তু আমি সত্যিই সুখি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অনেক ভালো আছি। চাওয়া-পাওয়ার হিসেব কখনো মিলাইনি। আমার কোনো লোভ-লালসা নেই। নিজের কাছে যখন যেটা ভালো মনে হয়েছে তখন সেটাই করেছি। তাই আমার কোনো হতাশা নেই। কারণ আমি স্বাধীন দেশের স্বাধীন ব্যক্তি, এটাই আমার সফলতা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

মোট চারটি টেলিভিশন নাটক পরিচালনা করেছি। প্যাকেজের আওতায় সেগুলো প্রচার হয়েছে বিটিভিতে। প্রথম ছিল ২০০৩ সালের ‘সময়’। ‘জন্ম জন্মান্তর’, ‘কবি’ অন্যটির নাম এ মুহ‚তের্ মনে নেই। সামনে আরও কিছু নাটক নিমাের্ণর পরিকল্পনা আছে। তবে চলচ্চিত্র নিমাের্ণরও ইচ্ছে আছে। এখন জানি না কি হয়। মৃত্যুর আগ পযর্ন্ত গান, অভিনয়, লেখালেখি ও পরিচালনা নিয়েই থাকতে চাই। এসব রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে। এসব ছাড়া কোনো কিছু ভাবতেও পারি না।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে