logo
বৃহস্পতিবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

  মাসুদুর রহমান   ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০  

মেয়েদের নিয়ে কোনো অভিযোগ শুনতে হয়নি

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণী অভিনেতা আবুল হায়াত। প্রায় পঁাচ দশক ধরে অভিনয় করে চলেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা এবং লেখালেখিও করেন।

মেয়েদের নিয়ে কোনো অভিযোগ শুনতে হয়নি
আবুল হায়াত
অভিনয়ে শুরুটা কীভাবে?

আমার জন্ম ভারতের মুশির্বাদে। বাবা রেলওয়েতে চাকরি করতেন। সেই সুবাধে বাংলাদেশে আসা। শৈশব-কৈশোর কেটেছে চট্টগ্রামে। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি প্রবল ঝেঁাক ছিল। বাবা যথেষ্ট সংস্কৃতিমনা ছিলেন। মাত্র দশ বছর বয়সে ‘টিপু সুলতান’ নাটকে প্রথম মঞ্চে অভিনয় করি। মুক্তিযুদ্ধের আগে ১৯৬৮ সাল থেকেই টেলিভিশনে নাটক করি। প্রথম টেলিভিশন নাটক ‘ইডিপাস’।

বতর্মান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

নাটকের কাজ নিয়েই ব্যস্ত আছি। বিভিন্ন চ্যানেলে ৮-১০টি ধারাবাহিক নাটক প্রচার হচ্ছে। এর মধ্যে এটিএন বাংলায় কচি খন্দকারের ‘সিনেমা হল’, সাখাওয়াত মানিকের ‘মেঘে ঢাকা শহর’, ইমরাউল রাফাতের ‘সিনেমাটিক’ উল্লেখযোগ্য। এর ফঁাকে গল্প পছন্দ হলে খÐ নাটকেও কাজ করি। গেল ঈদেও বেশ কয়েকটি নাটকে কাজ করেছি। সাগর জাহান পরিচালিত ‘কথা রেখেছিলাম’, আবু হায়াত মাহমুদের ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’ ও চয়নিকা চৌধুরীর ‘গল্পটি হতে পারতো ভালোবাসার’ নাটকগুলো দশর্ক পছন্দ করেছেন।

এখনকার নাটকগুলো কেমন হচ্ছে?

নাটকের পরিবেশ এখন কমাশির্য়াল হয়ে গেছে। প্রচুর নাটক নিমার্ণ হলেও ভালো নাটকের সংখ্যা কম। ঈদ কিংবা বিশেষ দিবস ছাড়া চ্যনেল কতৃর্পক্ষ নাটকের প্রতি গুরুত্ব দেন না। মূলত চ্যানেল কতৃর্পক্ষ তাদের ব্যবসায়িক কারণে বিশেষ দিবসের নাটকের প্রতি গুরুত্ব দেন। নাটক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তাদের হাতে, তারা চাইলে ভালো নাটক প্রচার করতে পারেন। কিন্তু তা না করে মানহীন নাটক প্রচার করছে ব্যবসায়িক কারণে। আমার মতে, ভালো নাটক না হওয়ার পেছনে বাজেট স্বল্পতা অনেকটাই দায়ী। কারণ টাকা কম লগ্নি করলে খুব কম সময়ে নাটক নিমার্ণ করতে হয়। দুই দিনে যে করতে হতো, তা বাজেট স্বল্পতার কারণে একদিনে করতে হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নাটকের মান খারাপ হচ্ছে। তার ওপর অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের কারণে দশর্ক নাটক দেখছে না। নানা জটিলতার মাঝেও ভালো নাটক হচ্ছে। কিন্তু গড্ডালিকায় ভেসে যাচ্ছে সে নান্দনিক সৃষ্টিগুলো।

এর সমাধান কি হতে পারে?

এসবের সমাধানে চ্যানেল কতর্পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের উচিত কম বাজেটে নাটকের সংখ্যা না বাড়িয়ে বরং ভাল কাজের গুরুত্ব দেয়া। নাটক নিমাের্ণর ক্ষেত্রে পরিচালককে পূণর্ স্বাধীনতা দেয়া উচিত। নাটকের বাজেট বাড়ানো দরকার।

চলচ্চিত্রেও আপনি অভিনয় করেছেন?

১৯৭২ সালে ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আমার সিনেমায় কাজ শুরু। এরপর ভিন্নধারা ও বাণিজ্যিকধারার অনেক ছবিতে কাজ করেছি। সবের্শষ মুক্তিপায় ‘এক পৃথিবী প্রেম’ ছবিটি। সম্প্রতি তৌকির আহমেদের ‘ফাগুন হাওয়া’ চলচ্চিত্রে কাজ করলাম। ছবিটি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নিমির্ত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক চলচ্চিত্র নিমির্ত হলেও ভাষা আন্দোলন নিয়ে ছবি নিমির্ত হয়নি বললেই চলে। এ ধরনের চলচ্চিত্রে কাজ করতে পেরে ভালো লেগেছে।

আপনি তো কলকাতার চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন ...

হ্যঁা, এ বছরের জানুয়ারিতে কলকাতার একটি স্বল্পদৈঘর্্য চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। ‘গিন্নী’ নামের এই চলচ্চিত্রতে বৃদ্ধ দীপক বাবুর চরিত্রে অভিনয় করেছি। ভীষণ মজার অথচ বাস্তব একটি চরিত্র। কাজটি করে ভালো লেগেছে। এর গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন সম্রাট দাস। এটি বিভিন্ন উৎসবে প্রদশির্ত হয়েছে। কলকাতার ছবিতে এর আগেও প্রস্তাব পেয়েছিলাম। কিন্তু করা হয়নি। নিমার্তার প্রবল ইচ্ছার কারণে কাজটি করতে বাধ্য হয়েছি। অবশ্য এর আগেও কলকাতার তিন-চারটি নাটকে কাজ করেছি।

নতুনরা কেমন করছে বলে মনে হয়?

নতুনদের মধ্যে অনেকের কাজই ভালোলাগে। স্কুলিং ছাড়া যে কেউ অভিনয়ে আসতে পারে, এটা অপরাধ নয়। তবে রাতারাতি তারকা হওয়ার স্বপ্ন না বুনে অভিনয়শিল্পী হওয়ার চেষ্টায় বিভোর থাকতে হবে। সফলতা পেতে দীঘর্ সময় চেষ্টা করতে হয়। অল্প পরিশ্রমে সফলতা স্থায়িত্ব হয় না।

অবসরে কী করেন?

অবসর খুব একটা পাই না। তারপরেও অবসর পেলে বই পড়ি, লিখি। লেখালেখির অভ্যাস অনেক আগে থেকেই। ১৯৯১ সালে আমার প্রথম উপন্যাস ‘আপ্লুত মরু’ প্রকাশিত হয়। এরপর আরও কিছু বই প্রকাশ পেয়েছে। এ ছাড়া অবসরে পরিবারকেও সময় দেই।

এখন কী লিখছেন?

আগামী বইমেলার জন্য একটি গল্পের বই লিখছি। এটি হবে ৩১ নম্বর বই। গেল বই মেলাতেও আমার চারটি বই বাজারে আসে। অনন্যা প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে ‘এসো নীপবনে’, ‘ঢাকামি’ ও জীবন খাতার ফুটনোট’। এ ছাড়া শব্দ শিল্প প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় ‘মিতুর গল্প’। চারটি বইয়েরই প্রচ্ছদ করেছে আমার বড় মেয়ে বিপাশা। আমার বেশির ভাগ বইয়ের প্রচ্ছদ বিপাশা করে। ও চারুকলায় ভতির্ হওয়ার পর আর কাউকে দিয়ে আমার বইয়ের প্রচ্ছদ করাতে হয়নি। তাছাড়া সে আমার লেখার সঙ্গে ছোটবেলা থেকে পরিচিত। আমাকে ব্যক্তিগতভাবেও খুব কাছ থেকে জানে। আর ও আমার বইকে যেভাবে যতœ নিয়ে উপস্থাপন করবে সেটা অন্য কেউ পারবে বলে আমার মনে হয় না। তার করা প্রচ্ছদ বরাবরই আমার পছন্দের।

আপনার দুই মেয়ে বিপাশা ও নাতাশাকে নিয়ে কিছু বলুন?

আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবেই আমার মেয়ে দুটিকে মানুষ করতে পেরেছি। তারা সুশিক্ষায় শিক্ষিত। এ ব্যাপারে আমি সৌভাগ্যবান এটা বলতে পারি। চেয়েছিলাম তাদের সম্পকের্ কেউ যেন কোনো মন্দ বলতে না পারে। ছোটবেলা থেকেই তারা অন্যভাবে বেড়ে উঠেছে। যেভাবে শিক্ষা দিয়েছি সেভাবেই বড় হয়েছে। এখন পযর্ন্ত তাদের নিয়ে কোনো অভিযোগ শুনতে হয়নি। দুজনেই আমাকে খুব ভালোবাসে। দুজনেই অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও শিষ্ঠাচার সম্পকের্ যথেষ্ট অবগত। তাদের জন্য কখনো আমার সম্মান ক্ষুণœ হয়নি বরং উজ্জ্বল হয়েছে। পড়ালেখার পাশাপাশি অভিনয়েও সুনাম আছে বিপাশার। জামাতা তৌকীর আহমেদ ও শাহেদ শরীফ দুজনেই অভিনয় ও পরিচালনা করেন। এখন তারা স্বামী-সন্তান নিয়ে আল্লাহর রহমতে সুখেই আছেন।

তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় অভিনয় ...

তৌকির খুব মেধাবী একটা ছেলে। ব্যক্তি হিসেবেও যথেষ্ট ভালো। একটা সময় টিভি নাটকে ওর খুব জনপ্রিয়তা ছিল। খুব ভালো অভিনয় করত। এখন তো নিমার্ণ নিয়েই ব্যস্ত। ভালো নিদের্শনা দেয়। গুছিয়ে কাজ করে। তৌকীরের নিমার্ণ আন্তজাির্তক পযাের্য়ও প্রশংসিত হচ্ছে। তার পরিচালনায় নাটক ও সিনেমা দুটোতেই আমি অভিনয় করেছি। ২০০৮ সালে তৌকীর পরিচালিত ‘দারুচিনি দ্বীপ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছি। সবের্শষ তো ‘ফাগুন হাওয়ায়’ কাজ করলাম।

আপনার পরিচালনার কী খবর?

প্রথম পরিচালনা করেছিলাম ১৯৯৬ সালে ‘হারজিৎ’ নাটকটি। এতে অভিনয় করেছিলেন বিপাশা, তৌকীর, আলীরাজ প্রমুখ। এরপর অনেক নাটক পরিচালনা করেছি। গত ঈদুল আজহায় রাবেয়া খাতুনের গল্প অবলম্বনে ‘আপোষ’ নামে একটি নাটক পরিচালনা করেছি। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের জন্য একটি নাটক পরিচালনার কথা ভাবছি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পা নিয়ে কিছু বলুন?

ভবিষ্যতেও অভিনয়, পরিচালনা এবং লেখালেখি নিয়ে থাকতে চাই। যা কিছু করি ভালো করে করার চেষ্টা করি। সবার ভালোবাসা নিয়ে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাই।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে