কুমিলস্না বিশ্ববিদ্যালয়স্বপ্ন যেখানে প্রযুক্তিরবিশ্বায়নের ধারণা প্রিয় পৃথিবীর সকল মানুষকে করেছে একই গ্রামভুক্ত। প্রযুক্তি বিশ্বায়নকে করেছে বাস্ত্মবসম্মত। মানুষকে করেছে মানুষের মুখোমুখি। মায়ার বাঁধন ছড়িয়ে দিয়েছে চারপাশে। প্রযুক্তি মানুষের চিন্ত্মার জগৎকে সম্প্রসারিত করেছে...নাহিদ ইকবাল ক্যাফেটেরিয়ার সামনে কুমিলস্না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাবিশ্বায়নের ধারণা প্রিয় পৃথিবীর সকল মানুষদের করেছে একই গ্রামভুক্ত। প্রযুক্তি বিশ্বায়নকে করেছে বাস্ত্মবসম্মত। মানুষকে করেছে মানুষের মুখোমুখি। মায়ার বাঁধন ছড়িয়ে দিয়েছে চারপাশে। প্রযুক্তি মানুষের চিন্ত্মার জগৎকে সম্প্রসারিত করেছে। একুশ শতকে প্রযুক্তিই নিত্যদিনের সঙ্গী। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়া একটি দিন আমরা কল্পনা করতে পারি না। ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেলে থমকে যাবে পুরো বিশ্ব। তথ্য-প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা অন্য যে কোনো কিছুর চেয়ে তরম্নণ প্রজন্মের কাছে বেশি। বর্তমান তরম্নণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির মধ্য দিয়েই বেড়ে উঠছে যাদের স্বপ্নই থাকে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে মানুষের জীবনকে আরো কত গতিশীল ও কল্যাণময় করা যায়। তারা বিশ্বাস করে প্রযুক্তির বিকল্প প্রযুক্তিই।
শালবন বিহারের অদূরে ও অনন্য বৈশিষ্ট নিয়ে কুমিলস্না বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৬ সালে যাত্রা শুরম্ন করে দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে। মূল লক্ষ্য দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি শিল্প সংস্কৃতি, জ্ঞান বিকাশ ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন। প্রকৃতির মনোরম পরিবেশে বেড়ে উঠছে শিক্ষার্থীরা এবং তৈরি হচ্ছে দেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য। প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় ক্যাম্পাস মুখরিত থাকে সবসময়। তরম্নণরাই তারম্নণ্যের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে মেতে ওঠে সৃজনশীল কাজে।
তথ্য-প্রযুক্তির সর্বশেষ খবরাখবর সাধারণ শিক্ষার্থীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া ও আইটি সাসটেইনেবল ডিজিটাল ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের উপহার দিতে কুমিলস্না বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটি ২০১৬ সালে যাত্রা শুরম্ন করে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্ববৃহৎ সংগঠনের মর্যাদা অর্জন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগের প্রযুক্তিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই সংগঠনের বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬০০ জন। সিএসই ও আইসিটি বিভাগের কিছু তরম্নণ স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত্ম পরিশ্রমের বিনিময়ে গড়ে ওঠে সংগঠনটি। সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তির উন্মাদনা তৈরি করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভূমিকা রাখছে ক্যাম্পাসের ইন্টারনেট সেবা বৃদ্ধিসহ প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নে। যাত্রার শুরম্নর পর থেকেই সংগঠনটির মূল-লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় যেসব শিক্ষার্থীদের মাঝে আইটি নিয়ে ধারণা নেই বা কম তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বিশেষ করে সবার জন্য দ্রম্নত গতির ইন্টারনেট সুবিধা, প্রোগ্রামিং কনটেস্ট আয়োজন, সাইবার ক্রাইম ও বেসিক আইটি সেমিনারের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের তথ্য-প্রযুক্তিতে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি যারা ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখবে।
ইতিমধ্যেই আইটি সোসাইটি যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তি জগতের জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর সাথে। গুগল, মাইক্রোসফট, উইকিপিডিয়া, ইউসি ব্রাউজারসহ অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে নিয়মিত সেমিনার করে যাচ্ছে। মাইক্রোসফটের ইমাজিন এক্সেস সুবিধার আওতায় আইটি সোসাইটির সহায়তায় কুমিলস্না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায় ৮০ হাজার টাকা মূল্যের মাইক্রোসফটের জেনুইন সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। বৃহত্তর কুমিলস্না অঞ্চল নিয়ে বাংলাদেশ সায়েন্স সোসাইটির সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে রোবোটিক্স নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করে। এতে অংশগ্রহণ করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কুমিলস্না বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আইটি সোসাইটি নতুন চমক হিসেবে নিয়ে আসে অনলাইন রেডিও, রেডিও কুবি। রেডিওর অনুষ্ঠান উপভোগ করা যায় ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত্ম থেকে। সবকিছু ছাপিয়ে আইটি সোসাইটির লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখা।
সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ফাহমিদ হাসান অনিক বলেন," ২০১৪ সালে ক্যাম্পাসে আসার পর লক্ষ্য করি যারা সিএসই ও আইসিটির বিভাগের শিক্ষার্থী নয় তাদের মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ কম এবং প্রযুক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন। যে বিষয়গুলো সবারই জানা দরকার বিশেষ করে কিভাবে উইনন্ডোজ দিতে হয়, জিমেইল ও ফেইসবুক পাসওয়ার্ড উদ্ধার, মাইক্রোসফট অফিস ও পাওয়ার পয়েন্টের কাজ নিয়ে শিক্ষার্থীরা চিন্ত্মায় থাকে। চিন্ত্মা করলাম কি করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রযুক্তির সুফল ছড়িয়ে দেয়া যায়। তারপর আমরা সিদ্ধান্ত্ম নিলাম আইটি সোসাইটি নামে সংগঠনটি দাঁড় করানোর।"
সভাপতি সৈয়দ মাখদুম উলস্নাহ বলেন, "একবিংশ শতাব্দীতে টেকনোলজি জীবন ছায়ার মতো। এর প্রভাব এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। টেকনোলজি নানাভাবে আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছে। আইটি সচেতনতা বৃদ্ধি, নিজ দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা থেকেই কয়েকজন সমমনা মিলে প্রতিষ্ঠা করি আইটি সোসাইটি। আমরা সাইবার সিকিউরিটি, রোবোটিক্সসহ তথ্য-প্রযুক্তির বিভিন্ন গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করছি। সর্বশেষ রেডিও কুবি আমাদের হাত ধরে যাত্রা শুরম্ন করল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার জন্য কাজ করছি। আইটি সাসটেইনেবল ডিজিটাল ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখবে আইটি সোসাইটি।"
তরম্নণরা যদি স্বপ্ন না দেখে তাহলে দেখবে কে? তরম্নণরাই তো জাতিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণ এখন সময়ের ব্যাপার যেখানে তরম্নণরা নিজ ইচ্ছা থেকে প্রযুক্তির সঙ্গে নিজে সম্পৃক্ত হচ্ছে এবং অন্যদের করছে। তরম্নণদের স্বপ্ন দেখা অব্যাহত থাক।
 
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত দিতে এখানে ক্লিক করুন
অনলাইন জরিপ
অনলাইন জরিপআজকের প্রশ্নজঙ্গিবাদ নিয়ে মন্ত্রীদের প্রচারে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে_ বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনের এই বক্তব্য সমর্থন করেন কি?হ্যাঁনাজরিপের ফলাফল
আজকের ভিউ
পুরোনো সংখ্যা
2015 The Jaijaidin
close