logo
সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ২২ আষাঢ় ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ২৯ জুন ২০২০, ০০:০০  

অবশেষে ধরা খেলেন 'বিশেষজ্ঞ' চিকিৎসক হেকিম মিজান

অবশেষে ধরা খেলেন 'বিশেষজ্ঞ' চিকিৎসক হেকিম মিজান
মো. মিজানুর রহমান
ইউনানি হেকিম হিসেবে চিকিৎসার জন্য রয়েছে সাময়িক সনদ। কিন্তু তাতে কী! তিনি কখনো লিভার বিশেষজ্ঞ, কখনো হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। নামের পাশে আরও যুক্ত পিএইচডি, এমফিলসহ নানা ডিগ্রি। নিজেকে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিয়েই গত ১২ বছর ধরে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বসেই তিনি এই জালিয়াতি করে আসছিলেন।

তবে শেষরক্ষা হয়নি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রোববার দুপুরে হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে মো. মিজানুর রহমান নামে ওই ভুয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে আটক করের্ যাব। পরের্ যাব পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়।

সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালটির অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারভাইজার মো. হাসিনুর রহমানকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে তিন মাস কারাদন্ড দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেনর্ যাব ৩-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।

তিনি বলেন, করোনাকালীন হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন অনিয়মের খবর পাওয়া যায়। এ সুযোগে ভুয়া চিকিৎসকদের অপতৎপরতা নজরদারি করছেন গোয়েন্দা সদস্যরা।

তিনি আরও বলেন, ভুয়া চিকিৎসক থাকাসহ বেশকিছু অভিযোগের ভিত্তিতে দুপুর ১২টায়র্ যাব ৩-এর সহযোগিতায় মতিঝিলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তার টেমপোরারি (সাময়িক) রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। সেটাও শুধু ইউনানি চিকিৎসার ক্ষেত্রে। কিন্তু অ্যালোপ্যাথির চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন মিজানুর রহমান।

ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বলেন, তিনি মূলত ইউনানি চিকিৎসক। তার প্যাডে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি নিজেকে হেকিম নয়, ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি অসংখ্য ভুয়া ডিগ্রি তার প্রেসক্রিপশনে যুক্ত করেছেন। যার কোনো সত্যতা ও ভিত্তি নেই। শুধু প্রতারিত করতেই তিনি ভুয়া ডিগ্রি যুক্ত করেছেন। এতে করে মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও অর্থের তিনি ক্ষতিসাধন করেছেন। এর কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

এ কারণে ভুয়া চিকিৎসক মিজানুর রহমানকে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি এমন ভুয়া চিকিৎসককে বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রচার ও চেম্বারে বসার সুযোগ দেওয়ায় হাসপাতালটির অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারভাইজার মো. হাসিনুর রহমানকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে হাসপাতালটির ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে