logo
  • Fri, 21 Sep, 2018

  ক্রীড়া প্রতিবেদক   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

নেপালের কাছে হেরে বিদায় বাংলাদেশের

নেপালের কাছে হেরে  বিদায় বাংলাদেশের
পুরো ম্যাচে এমন আক্রমণ অনেকবারই শানিয়েছে বাংলাদেশ; কিন্তু কখনো প্রতিপক্ষ নেপালের রক্ষণ দেয়াল বাধা হয়ে দঁাড়িয়েছে কখনোবা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে রনি-সুফিলদের শট। বাংলাদেশও তাই জয়ের হাসি হাসতে পারেনি Ñবাফুফে

নেপালের কাছে ২-০ গোলে হেরে সাফ সুজুকি কাপ থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। ভুটান আর পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই জয়ে ৯ বছর পর আবারও ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’খ্যাত এই আসরের সেমিফাইনালে খেলার যে স্বপ্ন দেখেছিল স্বাগতিকরা, গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেলের অমার্জনীয় ভুল ভেঙে দিয়েছে সেই স্বপ্ন। বাংলাদেশ এখন কেবলই দর্শক।

শুরু আর শেষের দুটো গোল টানা চতুর্থবারের মতো গ্রুপেই থামিয়ে দিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের যাত্রা। অন্যদিকে, বিদায়ের শঙ্কা নিয়ে মাঠে নামা নেপাল ওই দুই গোলের দৌলতে ‘এ’ গ্রুপের সেরা। রানার্সআপ হয়ে শেষ চারে তাদের সঙ্গী দিনের আরেক ম্যাচে ভুটানকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয়া পাকিস্তান। প্রথম দুই ম্যাচে পাওয়া জয়ও বাংলাদেশের স্বপ্ন বাঁচাতে যথেষ্ট হলো না। ঝুলিতে নেপাল আর পাকিস্তানের সমাম ৬ পয়েন্ট থাকলেও কপাল পুড়ল গোলগড়ে পিছিয়ে থাকায়।

কঠিন গ্রুপে সমীকরণের মারপ্যাঁচে পড়তে চায়নি বাংলাদেশকে। চেয়েছিল ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে। বিকালে অনুষ্ঠিত গ্রুপের অপর ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়ে বাংলাদেশের চাওয়াটা হয়ে ওঠে অত্যাবশ্যক। নেপালের কাছে হারলে সমীকরণের মারপ্যাঁচে পরে বিদায় নিতে হবে, বিষয়টা জেনেই লড়াইয়ের ময়দানে নামে স্বাগতিকরা। এটাও জানা ছিল, ড্র করলেও মিলবে শেষ চারের টিকিট, সেটাও গ্রুপসেরা হিসেবে। জেমি ডে’র দল তাই শুরুতে খেলেছে সতর্ক হয়ে। লাভ হয়নি তাতেও।

অন্যদিকে, নেপাল খেলেছে ভয়ডরহীন ফুটবল। আক্রমণই ছিল তাদের মূলমন্ত্র। উপায়ও ছিল না দলটির সামনে। শেষ আশাটুকু বাঁচিয়ে রাখতে জিততেই হতো তাদের। শনিবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে শুরুর দিকে তাই মরিয়া এক নেপালকেই দেখা গেছে। শুরু থেকেই বাংলাদেশের রক্ষণে বারবার হানা দিয়েছে অতিথিরা। তবে নাসিরউদ্দিন-তপু বর্মণদের নিয়ে গড়া স্বাগতিকদের রক্ষণ ছিল জমাট। কিন্তু সর্বনাশ হলো গোলরক্ষক সোহেলের ভুলে। ওভাবে গোলহজম করার শোক সামলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা।

এদিন বাংলাদেশের ম্যাচ দেখতে দর্শক সমাগম হয়েছে আরও বেশি। তারা বাদ্য-বাজনা বাজিয়ে উৎসাহ দিয়ে গেছে প্রিয় দলকে। কিন্তু হঠাৎই গ্যালারিতে নেমে এলো নীরবতা। আগের দুই ম্যাচে গোলদ্বার সুরক্ষিত রাখা সোহেল যে ভুলটা করলেন তা ছিল অমার্জনীয়। গ্যালারি থেকে চেঁচিয়ে উঠে একজন বলেই ফেললেন, ‘গো টু হেল... সোহেল। আর তোমাকে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেখতে চাই না।’ সোহেলের ওপর ক্ষোভ ঢালতে ঢালতে ম্যাচ শেষের আগেই গ্যালারি ছেড়ে বাড়ির পথ ধরলেন অনেকে।

শেষদিকে খেলোয়াড়রাও হয়ে পড়লেন হতোদ্যম। একটা গোল বদলে দিতে পারে দৃশ্যপট, সেই গোল দেখার আশায় শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলেন অনেকেই। শেষের ঝলকে দল ঘুরে দাঁড়াবে, তাদের মধ্যে ছিল এই আত্মবিশ্বাস। সেই আত্মবিশ্বাস রনি-জামালদের মধ্যে দেখা গেল না। তাদের শরীরি ভাষা বলে দিচ্ছিল, আর কিছু করার নেই! ৮৯ মিনিটে বদলি ফরোয়ার্ড নওয়াব শ্রেষ্ঠ যখন নেপালের দ্বিতীয় গোলটা করলেন, সত্যিকার অর্থেই তখন আর কিছু করার ছিল না।

ম্যাচে বাংলাদেশ গোল করার মতো সুযোগ পায়নি, এমন কিন্তু নয়। দ্বাদশ মিনিটে পরপর দুটো কর্নার আদায় করে নেয় স্বাগতিকরা। তা থেকে গোল আদায় করা যায়নি। ২৭ মিনিটে বক্সের সামান্য দূরে পাওয়া ফ্রিকিক থেকে ওয়ালী ফয়সালের নেয়া বাঁকানো শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এর মিনিট পাঁচেক পরই (৩২ মিনিট) সোহেলের সেই শিশুসুলভ ভুল, আসরে প্রথম গোলহজম বাংলাদেশের। প্রায় মাঝ মাঠ থেকে বিমল গাত্রি মাগারের নেয়া ফ্রিকিকে উড়ে আসা বল গ্লাভসবন্দি করতে পারেননি সোহেল। বল তার হাত ফসকে ঢুকে যায় জালে (১-০)।

ওই এক গোলেই পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধে গোল পরিশোধে মরিয়া চেষ্টাই চালিয়েছে জেমি ডে’র শিষ্যরা। তবে নেপালের রক্ষণ ছিল জমাট। কোনোভাবেই তাতে ফাটল ধরাতে পারেনি বাংলাদেশ। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ৬৯ মিনিটে দারুণ এক হেড নিয়েছিলেন সাখাওয়াত রনি। বল জড়ায়নি জালে। মিনিট দশেক পর অনেকটা দূর থেকে এই স্ট্রাইকারের আচমকা জোরালো শটেও বল চলে যায় ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে। 

হতাশা বাড়ে বাংলাদেশ শিবিরে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বেড়েছে আরও। শেষাংশে নেপাল অতিরক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয়ায় গোল তো শোধ করতে পারেইনি বাংলাদেশ, উল্টো ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আরও এক গোল হজম করে স্বাগতিকরা। এবার অবশ্য কিছুই করার ছিল না সোহেলের। বাংলাদেশের দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে দারুণ শটে গোল করেন নবযুগ শ্রেষ্ঠ (২-০)। তাতে শেষ আশাটাও শেষ।



 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উপরে