logo
বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০  

তেলক্ষেত্রে হামলা

সৌদি ও আমিরাতে সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই এ পদক্ষেপ : মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবার ইরানের ন্যাশনাল ব্যাংকের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

গত সপ্তাহে তেলক্ষেত্রে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের দুই ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাড়তি সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, নিরাপত্তা জোরদারে উপসাগরের দেশ দুটিতে বাড়তি সেনা এবং সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হবে। সংবাদসূত্র : বিবিসি, রয়টার্স সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রে হামলার ঘটনায় এখনই ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী নন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতেই সৌদি-আমিরাতে আরও সেনা মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে পেন্টাগন। মার্কিন প্রতিরক্ষমন্ত্রী মার্ক এসপার বলেন, 'সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই দেশ দুটিকে সহায়তার জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।' প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সেনা মোতায়েনের এ ধরন হবে 'প্রতিরক্ষামূলক'। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুটির পক্ষ থেকে তাদের আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এর পরিপ্র্রেক্ষিতেই প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বাড়তি সেনা সদস্য এবং সামিরক সরঞ্জাম মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারসহ সৌদি আরবের দুটি পস্নান্টে ভয়াবহ হামলার পর এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিলো। হামলার পর বৈশ্বিক তেল সরবরাহের পরিমাণ পাঁচ শতাংশের বেশি হ্রাস পায়; বেড়ে যায় তেলের দামও। সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হলেও প্রাথমিকভাবে কত সংখ্যক পাঠানো হবে, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের ভাষ্য মতে, সেনা পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানানোর পর সাংবাদিকরা ইরানে সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়েও এসপারকে প্রশ্ন করেন। এ সময় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, 'আমরা এখন ওই পর্যায়ে নেই।' এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ সতর্ক করে বলেন, 'যুদ্ধে ইরানের অভিপ্রায় নেই, কিন্তু নিজেদের রক্ষায় আমরা বিন্দুমাত্র দ্বিধান্বিত থাকবো না।' এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'ইরানের দখল নেয়া হবে তার দেশের জন্য খুবই সহজ সিদ্ধান্ত।' শুক্রবার হোয়াইট হাউসে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, 'আমাদের রয়েছে দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। আমি আগেও বলেছি, ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা হবে খুবই সহজ একটি সিদ্ধান্ত। এটা হবে খুবই সহজ, সবচেয়ে সহজ বিষয়।' গত ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি বৃহৎ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই হামলার পর সৌদি আরবের তেল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে। ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা এ হামলার দায় স্বীকার করলেও এ ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রের তরফে স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে হামলার নেপথ্যে ইরান জড়িত রয়েছে বলে দাবি করা হয়। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে তেহরান। ইরানের ন্যাশনাল ব্যাংকের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ন্যাশনাল ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, তিনি 'সর্বোচ্চ মাত্রার' এ নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু ট্রাম্প বলেননি। হোয়াইট হাউসও এ ব্যাপারে আর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন বলেন, 'ন্যাশনাল ব্যাংকই তেহরানের তহবিলের সর্বশেষ উৎস। এটি খুবই বড় ব্যাপার, আমরা এখন ইরানের তহবিলের সব উৎসই বন্ধ করলাম।' মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বুধবার এক টুইটে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়ার কথা ঘোষণা করার দুদিনের মাথায় দেশটির ন্যাশনাল ব্যাংকে নিষেধাজ্ঞা আরোপের এ ঘোষণা দিলেন। ওইদিন ট্রাম্প টুইটে লিখেছিলেন, 'আমি মাত্রই অর্থমন্ত্রীকে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বেশ খানিকটা বাড়ানোর নির্দেশ দিলাম। কিন্তু কেন এ নির্দেশ দিয়েছেন, তার কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি। তবে গত শনিবার সৌদি আরবের রাষ্ট্র মালিকানাধীন সবচেয়ে বড় জ্বালানি কোম্পানি আরামকোর দুটি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বারবার ইরানকে দায়ী করে আসার পর দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর নির্দেশের ওই ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে