logo
শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৫

  ক্রীড়া প্রতিবেদক   ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০  

মুকুট ধরে রাখল ফিলিস্তিন

চ্যাম্পিয়ন দল ট্রফির সঙ্গে ৩০ হাজার ডলার আর্থিক পুরস্কার পেয়েছে। রানার্সআপ বুরুন্ডি পেয়েছে ২০ হাজার ডলার। ফিলিস্তিনের সামেহ মারাবা ম্যান অব দ্য ফাইনাল নির্বাচিত হন। সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন একই দলের তওফিক আবু হামাদ। তবে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন বুরুন্ডির জসপিন।

মুকুট ধরে রাখল ফিলিস্তিন

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতার গৌরব অর্জন করেছে ফিলিস্তিন। শনিবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে তারা ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারায় বুরুন্ডিকে। এর আগের আসরটি হয়েছিল ২০১৮ সালে। প্রথমবার অংশ নিয়েই ঐ আসরেও শিরোপা ঘরে তুলেছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। ফিলিস্তিনই একমাত্র দেশ যারা টানা দুইবার বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের শিরোপা জিতেছে। ম্যাচ শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার ফাইনাল ম্যাচটি ছিল এশিয়া আর আফ্রিকার লড়াই। আগের আসরে শিরোপা জেতা ফিলিস্তিন আত্মবিশ্বাসী ছিল তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে। অন্যদিকে অফ্রিকার দল বুরুন্ডিও স্বপ্ন দেখেছিল প্রথম বারের মতো বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতে নতুন ইতিহাস রচনা করতে। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেয় গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা। সেমিফাইনালে শ্রীলংকার বিপক্ষে যে ফিলিস্তিন খেলেছিল ফাইনালে যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন দল। ম্যাচের শুরু থেকেই পরিকল্পিত ফুটবল খেলতে থাকে তারা। ৩ মিনিটেই প্রথম গোল আদায় করে নেয় ফিলিস্তিন। দলীয় অধিনায়ক সামেহ মারাবার যোগ দেয় বলে বা প্রান্ত থেকে মিডফিল্ডার মোহামেদ দারউইশের পাসে ফাইনাল টাচ দেন ফরোয়ার্ড খালেদ সালেম (১-০)। প্রতিপক্ষকে রক্ষণের জালে আটকে রেখে একের পর এক আক্রমণে যেতে থাকে তারা। ১১ মিনিটে মিডফিল্ডার মাহমুদ আবু ওয়ারদার কর্তার থেকে মুসা সালিমের শট ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক। ফিরতি বলে ডিফেন্ডার ইওয়াই ইয়াজানের পাসে জটলা থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান সামেহ মারাবা (২-০)। ২৫ মিনিটে বক্স থেকে ফরোয়ার্ড খালেদ সালেমের শট বা পোস্টে লেগে ফেরত আসে। সেই বলে দারুণ শটে লক্ষ্যভেদ করেন ফরোয়ার্ড লেইথ খারউব (৩-০)। ৩৯ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে বুরুন্ডির ডিফেন্ডার জাবনজিয়া বস্নানচারডের বাড়িয়ে দেয়া বলে বক্স থেকে শট নেন জসপিন। কিন্তু ফিলিস্তিনের শক্ত রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হন। আগের ম্যাচগুলোতে এই দুই ফুটবলারের দারুণ কম্বিনেশনেই বেশ কটি গোল আদায় করে নিয়েছিল আফ্রিকার দলটি। কিন্তু শুক্রবার সতর্ক ফিলিস্তিন ম্যাচের শুরু থেকেই তাদের বোতল বন্দি করে রেখেছে। যে কারণে আক্রমণের তেমন কোনো সুযোগই সৃষ্টি করতে পারছিল না বুরুন্ডি। প্রথমার্ধ পিছিয়ে থেকেই বিশ্রামে যায় তারা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল বদলে খেলতে নামে বুরুন্ডি। সফলতাও এসেছে কিছুক্ষণের মধ্যেই। যদিও ৫২ মিনিটে বুরুন্ডির একটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। বা প্রান্ত থেকে জসপিন সিমিরিমানার পাসে বক্সে বল পেয়ে শট নেন ফরোয়ার্ড গ্যাসঙ্গ বেনজামিন। কিন্তু তার শট খুব সহজেই গ্রিপে নেন ফিলিস্তিনের গোলরক্ষক তৌফিক আবু হামাদ। ৫৮ মিনিটে ব্যবধান কিছুটা কমায় তারা। সিমিরিমানার কর্তারে বল নিয়ে সতীর্থর উদ্দেশ্যে পাস দেন বস্নানচার্ড। বল পেয়ে ছোট বক্স থেকে ডান পায়ের শটে ফিলিস্তিনের জালে বল পাঠান ডিফেন্ডার ডিকুয়ামানা (৩-১)। ফাইনাল ম্যাচের আগে পর্যন্ত একমাত্র গোল হজম না করা দল ছিল ফিলিস্তিন। তাদের সেই গোলপোস্ট অক্ষত রাখার গৌরবটি ধরে রাখতে দেয়নি বুরুন্ডি। ইনজুরি টাইমে জসপিনের ফ্রি কিক সরাসরি গ্রিপ করেন ফিলিস্তিন গোলরক্ষক। শেষ পর্যন্ত বড় জয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে ফিলিস্তিন। চ্যাম্পিয়ন দল ট্রফির সঙ্গে ৩০ হাজার ডলার আর্থিক পুরস্কার পেয়েছে। রানার্সআপ বুরুন্ডি পেয়েছে ২০ হাজার ডলার। ফিলিস্তিনের সামেহ মারাবা ম্যান অব দ্য ফাইনাল নির্বাচিত হন। সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন একই দলের তওফিক আবু হামাদ। তবে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন বুরুন্ডির জসপিন। গত আসরে তাজিকিস্তানকে পেনাল্টি শু্যট আউটে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ফিলিস্তিন। গত ১৫ জানুয়ারি এশিয়া ও আফ্রিকার মোট ৬ দল নিয়ে শুরু হয় জাতীর পিতার নামের এ টুর্নামেন্টটি। যেখানে অংশ নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, ফিলিস্তিন, বরুন্ডি, মরিসাস ও সীশেলস। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবার আয়োজন করা হয়েছে টুর্নামেন্ট। যে আসরে শিরোপা জেতার প্রত্যাশা নিয়েও আগের ৫ আসরের মতোই ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। গত আসরের মতোই এবারও সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে