logo
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০, ২৪ আষাঢ় ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ০৩ জুন ২০২০, ০০:০০  

এখনো প্রাণঘাতী

করোনাভাইরাসের দুর্বল হওয়ার প্রমাণ নেই :ডবিস্নউএইচও

করোনাভাইরাসের দুর্বল হওয়ার প্রমাণ নেই :ডবিস্নউএইচও

নতুন করোনাভাইরাস 'শক্তি হারাচ্ছে' বলে ইতালির এক জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের দাবির পেছনে সহায়ক কোনো প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ এবং একাধিক বিজ্ঞানী। করোনাভাইরাস মহামারিতে ইতালিতে সবচেয়ে বেশি ভোগা উত্তরাঞ্চলের লম্বার্ডির মিলান শহরের সান রাফায়েলে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের প্রধান আলবের্তো জাঙ্গরিলেস্না রোববার ইতালির গণমাধ্যমগুলোতে দাবি করেছিলেন, বাস্তবে শুরুর দিকের সেই করোনাভাইরাস এখন 'ক্লিনিকালি' আর নেই। সংবাদসূত্র : বিবিসি, রয়টার্স তবে ডবিস্নউএইচও-এর এপিডিমিওলজিস্ট মারিয়া ফন কেরকোভে এবং আরও কয়েকজন ভাইরাস ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ সোমবার বলেছেন, জাঙ্গরিলেস্নার মন্তব্যগুলো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত নয়। তারা বলেন, সংক্রমণের ধরনে, অথবা রোগের তীব্রতার দিক থেকে নতুন করোনাভাইরাস উলেস্নখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে; এমনটি বলার মতো কোনো উপাত্ত এখনো মেলেনি। সোমবার ফন কেরকোভে জেনিভায় সাংবাদিকদের বলেন, 'সংক্রমণের সক্ষমতার দিক থেকে এর (ভাইরাস) কোনো পরিবর্তিত হয়নি। তীব্রতার দিক থেকেও এটি বদলায়নি।' ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর পরিবর্তন এবং নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নতুন কিছু নয়। তবে নতুন এই করোনাভাইরাসের শক্তি কমার কোনো লক্ষণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা দেখছেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি কর্মসূচি বিষয়ক প্রধান মাইকেল রায়ান বলেন, 'আমাদের সাবধান থাকতে হবে, এটা এখনো প্রাণঘাতী ভাইরাস। আমাদের এমন ধারণা করা যাবে না, ভাইরাসটি নিজের ইচ্ছায় কম বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিষয়টা এমন কিন্তু নয়।' কোভিড-১৯ মহামারিতে মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন লাখ ৭৮ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ৬৪ লাখের বেশি মানুষ। 'লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন'র সংক্রামক রোগের অধ্যাপক মার্টিন হিবার্ড বলেন, কোভিড-১৯ এর জন্য দায়ী করোনাভাইরাসের জিনগত পরিবর্তনগুলো বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ যে গবেষণাগুলো এ পর্যন্ত হয়েছে, তাতে এমন কিছু পাওয়া যায়নি, যাতে বলা যায় এটি কোনো দিক দিয়ে দুর্বল হয়েছে বা এখন তা 'কম মারাত্মক'। তিনি বলেন, '৩৫ হাজারের বেশি ভাইরাসের জিনোমের উপাত্ত ঘেঁটে এখন পর্যন্ত তীব্রতার পার্থক্যের উলেস্নখযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।' ইতালিতে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুসকোনির ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে সুপরিচিত জাঙ্গরিলেস্না বলছেন, তার সহকর্মী, মাস্‌িসমো ক্লেমেন্তি পরিচালিত একটি গবেষণা তার মন্তব্যকে সমর্থন করে। আগামী সপ্তাহে সেই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, 'আমরা কখনোই বলিনি ভাইরাসটি পরিবর্তিত হয়েছে। আমরা বলেছিলাম, ভাইরাস এবং সংক্রমিতদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া নিশ্চিতভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।' জাঙ্গরিলেস্নার মতে, এটি ভাইরাসের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণে হতে পারে, যা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। অথবা সংক্রমিতদের আলাদা বৈশিষ্ট্যের কারণেও তা হতে পারে। সান রাফায়েলে হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি এবং ভাইরোলজি পরীক্ষাগারের পরিচালক ক্লেমেন্তি তার গবেষণায় মিলানের ওই হাসপাতালের কোভিড-১৯ রোগীদের নমুনা থেকে মার্চ মাসে সংগ্রহ করা ভাইরাসের নমুনার সঙ্গে মে মাসের নমুনার তুলনা করেছেন। জাঙ্গরিলেস্না বলেন, 'ফলাফলটি দ্ব্যর্থহীন ছিল- গত মাসে ভর্তি হওয়া রোগীদের তুলনায় মার্চ মাসে ভর্তি হওয়া রোগীদের ভাইরাল লোডের মধ্যে উলেস্নখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেছে।' কিন্তু গস্নাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের 'সেন্টার ফর ভাইরাস রিসার্চ'র অস্কার ম্যাকলিন বলেন, আগের বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলোর কিছুই ভাইরাসটির দুর্বল হয়ে পড়ার দাবি সমর্থন করে না। আবার জেনেটিক দিক বিচার করেও এটি যুক্তিগ্রাহ্য বলে মনে হচ্ছে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে