logo
মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ০২ জুলাই ২০২০, ০০:০০  

আইন বাতিলের দাবি

উত্তাল হংকং, ব্যাপক ধরপাকড়

আইনটি কার্যকর হওয়ার প্রথমদিনই এ বিক্ষোভ হলো বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার

উত্তাল হংকং, ব্যাপক ধরপাকড়
বিতর্কিত নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে কাঁপছে হংকং। বুধবার আইনটি কার্যকরের প্রথম দিনই চীনের স্বায়ত্তশাসিত এ অঞ্চলটির গণতন্ত্রপন্থিরা রাজপথে নেমে এসে চীনবিরোধী স্স্নোগান দিতে থাকেন। এসময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক বিক্ষোভকারীকে মাটিতে চেপে রেখে অন্যদের দিকে বন্দুক তাক করে রেখেছেন এই পুলিশ সদস্য -রয়টার্স অনলাইন
হংকংয়ে চীনের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন চালুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। বুধবার হংকংয়ে আইনটি কার্যকর হওয়ার প্রথমদিনই এ বিক্ষোভ হল। আইনটির আওতায় এদিন ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। সংবাদসূত্র : রয়টার্স, এএফপি, আল-জাজিরা

ব্রিটিশ শাসন থেকে হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তরের ২৩তম বার্ষিকীতে বুধবার বিক্ষোভকারীরা হংকংয়ের স্বাধীনতা এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার স্স্নোগান দিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভে নামলে পুলিশ তাদের ওপর মরিচের গুঁড়ার স্প্রে এবং ছররা গুলি ছুড়েছে।

মঙ্গলবার চীনের পার্লামেন্ট ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির ১৬২ জন সদস্যের সম্মতিতে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাস হয়েছে। এ আইনের আওতায় হংকংয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ, কর্তৃপক্ষকে অবমাননা, সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করতে বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে আঁতাঁত নিষিদ্ধ করাসহ এ ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান করা হয়েছে।

আইনটির বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে চীনের প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুতর অপরাধের জন্য বিচারে অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে এ আইনে।

অঞ্চলটির গণতন্ত্রপন্থিরা এই আইনকে হংকংয়ের বিশেষ স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ নিয়ে কোনও কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন অঞ্চলটির চীনা মনোনীত প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম।

এর আগে গত মাসে চীনা কর্তৃপক্ষ হংকংয়ে নতুন নিরাপত্তা আইন জারির ঘোষণা দিলে প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে অঞ্চলটির গণতন্ত্রপন্থিরা। ওই ঘোষণার প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসে তারা।

এদিকে, নতুন এ নিরাপত্তা আইন হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসনের জন্য কোনও হুমকি নয় বলে দাবি বেইজিংয়ের। অন্যদিকে, গণতন্ত্রপন্থিদের দাবি, এ আইন অঞ্চলটির বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করে আসা রাজনৈতিক স্বাধীনতার পরিসমাপ্তি ঘটাবে।

চীনের জাতীয় আইনসভায় পাশ হওয়ার আগে হংকংয়ের হাতে গোনা কয়েকজন প্রতিনিধি এ আইনের একটি খসড়া দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। এই বিষয়টি নিয়েই বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সুদূরপ্রসারি এই আইনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবের নিন্দা জানিয়েছেন অনেক হংকংবাসী।

১৯৯৭ সালের ১ জুলাই চীনের কাছে হস্তান্তরের সময় হংকংয়ের জন্য উচ্চ মাত্রার স্বায়ত্তশাসন মঞ্জুর করেছিল বেইজিং, কিন্তু এই আইনের মাধ্যমে তা লংঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা সরকারগুলো। এই নিয়ে তাদের সঙ্গে বেইজিংয়ের বিরোধের আরও একটি ধারা শুরু হল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

হংকং সরকার মঙ্গলবার রাত থেকেই আইনটি কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছিল। আইনের প্রতিবাদে রাস্তায় নামা ৩৫ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারীর কথায়, 'আমার জেলে যাওয়ার ভয় আছে। কিন্তু ন্যায়বিচারের জন্য আজ আমাকে রাস্তায় নামতে হয়েছে।' বুধবার বিক্ষোভের সময় পুলিশ প্রথম এক বার্তায় নতুন আইনের আওতায় অপরাধ সংঘটনের ব্যাপারে বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করেছে।

জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরানোরও চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশ জানায়, তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিক্ষোভ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য ২০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। সেইসঙ্গে নতুন নিরাপত্তা আইনের আওতায়ও আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টুইটারে আহত এক পুলিশ কর্মকর্তার ছবিও পোস্ট করেছে পুলিশ। বলা হচ্ছে, ওই কর্মকর্তা বিক্ষোভকারীদের ছুরির আঘাতে আহত হয়েছেন।

গতবছর থেকেই হংকংয়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে অস্থিরতা চলছে। সন্দেহভাজন অপরাধীদের হংকং থেকে চীনের মূল ভূখন্ডে প্রত্যর্পণের সুযোগ রেখে করা একটি বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনের শুরু। বিক্ষোভের মুখে হংকং এর নেতা ক্যারি লাম শেষ পর্যন্ত বিলটি মৃত ঘোষণা করা এবং প্রত্যাহারের পরও আন্দোলন থামেনি। হংকংবাসীরা আরো অনেক দাবী নিয়ে বিক্ষোভ চালাতে থাকে।

উলেস্নখ্য, ১৫০ বছর ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার পর লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকং চীনের কাছে ফেরত দেয় যুক্তরাজ্য। তখন থেকে বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হংকংকে ২০৪৭ সাল অবধি স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে চীন। এই সময়ে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র নীতি বাদে অন্য সব বিষয়ে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করতে পারবে অঞ্চলটি। তবে গত বছর অঞ্চলটিতে ব্যাপক বিক্ষেভের মুখে সেখানে বিতর্কিত হংকং নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় বেইজিং।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে