logo
বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ১০ জুলাই ২০২০, ০০:০০  

করোনার বিশ্বচিত্র

আক্রান্ত এক কোটি ২২ লাখ পার

বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যাও সাড়ে পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে দ্বিতীয় ধাপের লকডাউন শুরু মেলবোর্নে

আক্রান্ত এক কোটি ২২ লাখ পার
চীনের উহান থেকে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার সাত মাসের মাথায় বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ২২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা 'ওয়ার্ল্ডোমিটার'র তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত এক কোটি ২২ লাখের গন্ডি স্পর্শ করার পাশাপাশি মৃতের সংখ্যাও পাঁচ লাখ ৫২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছে ৭০ লাখের বেশি মানুষ। সংবাদসূত্র : রয়টার্স, বিবিসি, এএফপি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডবিস্নউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বিশ্বব্যাপী বার্ষিক মারাত্মক ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত রোগীর তিনগুণ হয়ে গেছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণে মারাত্মভাবে আক্রান্ত অনেক দেশই ভাইরাসটির বিস্তার রোধে কার্যকর লকডাউন আরোপ করেছিল। কিন্তু সম্প্রতি তারা লকডাউন শিথিল করেছে। তবে চীন ও ফ্রান্সের মতো কয়েকটি দেশ সংক্রমণ ফের বাড়তে থাকায় আরেকবার লকডাউনের শরণ নিয়েছে।

করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী সামাজিক ও কর্মজীবনে যে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে, একটি টিকা আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত তা স্থায়ী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জানুয়ারির প্রথমদিকে চীনে প্রথম নতুন করোনাভাইরাস আক্রান্তের তথ্য নথিবদ্ধ হয়। এরপর ১৪৯ দিনের মধ্যে বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ৬০ লাখে দাঁড়িয়েছিল, আর ওই সংখ্যাটি দ্বিগুণ হতে লাগল মাত্র ৩৯ দিন।

রোগটিতে প্রথম মৃতু্যর ঘটনা ঘটেছিল ১০ জানুয়ারি, চীনের উহানে। এরপর ইউরোপে সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে, পরে এ ধারার বিস্তার ঘটে যুক্তরাষ্ট্রে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক আক্রান্ত বৃদ্ধির বিশ্বরেকর্ড হয়েছে। এদিন দেশটিতে নতুন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬০ হাজার ২০৯ জন। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৩১ লাখ ৫৯ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

বিশ্বের মোট করোনাভাইরাস আক্রান্তের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এ বিশ্বের মোট মৃতু্যর এক-চতুর্থাংশও ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। মৃতের সংখ্যায়ও শীর্ষে আছে দেশটি।

আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় ব্রাজিল বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো মহামারিকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেও করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন।

গত ১ জুলাই থেকে ব্রাজিলে প্রতিদিন শনাক্ত হওয়া নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজারের মধ্যে থাকছে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ লাখ ছাড়িয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা প্রায় ৬৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, লাতিন আমেরিকায় ভাইরাসটি সবচেয়ে দ্রম্নতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্বের মোট আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি দুই আমেরিকায় আর মোট মৃতু্যর প্রায় প্রায় অর্ধেক এই দুই মহাদেশে।

সাত লাখ ৬৭ হাজারের বেশি রোগী নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যায় তৃতীয় স্থানে আছে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল দেশ ভারত। দেশটিতে প্রতিদিন ২০ হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। অনেক দেশেই পর্যাপ্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় আক্রান্ত অনেককেই শনাক্ত করা যায়নি বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। এ কারণে বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্ত ও মৃতু্যর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে বলে মনে করেন তারা।

উলেস্নখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

মেলবোর্নে দ্বিতীয় ধাপের

লকডাউন শুরু

এদিকে, নতুন করে করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় বুধবার রাত থেকে দ্বিতীয় দফায় লকডাউন শুরু হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অঙ্গরাজ্য ভিক্টোরিয়ার রাজধানী মেলবোর্নে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ছয় সপ্তাহের জন্য ঘরের বাইরে বের হতে পারবে না মেলবোর্নের প্রায় ৫০ লাখ বাসিন্দা।

এই বিধিনিষেধ কার্যকরে শহরজুড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া 'যেকোনো জায়গায় যেকোনো সময় চেকপোস্ট' বসানো হবে। ভিক্টোরিয়া ও প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর মধ্যে মঙ্গলবার থেকে সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। মেলবোর্ন থেকে বাসিন্দাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে কুইন্সল্যান্ডও তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। কুইন্সল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টিভেন মাইলস বৃহস্পতিবার বলেন, কিছু সংখ্যক লোক নিজস্ব খরচে ১৪ দিনের জন্য হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকার শর্তে মেলবোর্ন ও আশপাশের এলাকা ছেড়ে আসতে চাইছেন।

কিন্তু কঠোর অবস্থানে কুইন্সল্যান্ড। গত দুই সপ্তাহ ধরে ভিক্টোরিয়ায় আছে এমন কাউকে শুক্রবার থেকে ঢুকতে দেওয়া হবে না জানিয়েছেন মাইলস। তবে কুইন্সল্যান্ডের বাসিন্দাদের কিছু শর্তে ঢুকতে দেওয়া হবে।

গত বুধবার ১৩৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে ভিক্টোরিয়ায়। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ১৯১ জন। আক্রান্ত কমলেও দেশের বাকি অংশের তুলনায় অনেক বেশি। নতুন লকডাউনের কারণে লোকজনকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। কেবল কাজ, ব্যায়াম, খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার মতো জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে পারবে বাসিন্দারা। রেস্তোরাঁ থেকে 'টেকঅ্যাওয়ে' (রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া যাবে না) ভিত্তিতে খাবার কেনা যাবে। দোকান-পাট ও সেলুন খোলা থাকবে।

লকডাউন কেবল মেলবোর্ন ও উত্তরের এলাকা মিচেল শায়ারে কার্যকর হবে। কিন্তু নিউ সাউথ ওয়েলস ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী এবং ড্রোন দিয়ে নজরদারি করা হচ্ছে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
আইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে