logo
শনিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫

  যাযাদি ডেস্ক   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০  

এইচআইভি আক্রান্ত নারীর আত্মহত্যা

কণার্টকে গ্রামবাসীর চাপে হ্রদের পানিই বদল!

কণার্টকে গ্রামবাসীর চাপে  হ্রদের পানিই বদল!
পাম্প দিয়ে হ্রদের পানি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে
ভারতের কণার্টকের ধারওয়ার জেলার ছোট্ট গ্রাম মোরাবে। ওই গ্রামেই রয়েছে ৩৬ একরের একটি বিশাল হ্রদ। আকারে প্রায় ২৫টা ফুটবল মাঠের সমান। একে মোরাব গ্রামের ‘লাইফলাইন’ও বলা যেতে পারে। কারণ গোটা গ্রামটাই এই হ্রদের পানির ওপর নিভর্রশীল। এই হ্রদের পানিই গ্রামবাসীরা খাওয়ার জন্য ব্যবহার করে। সপ্তাহখানেক আগে এই হ্রদেই ঝঁাপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন গ্রামেরই এক নারী। গত ২৯ নভেম্বর তার মরদেহ হ্রদের পানিতে ভাসতে দেখেন কয়েকজন গ্রামবাসী। এরপর দ্রæতই খবরটা ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে। গোটা গ্রাম জানত ৩০ বছর বয়সী ওই নারী এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত। ফলে তার মরদেহ যখন হ্রদের পানিতে ভাসতে দেখে গ্রামবাসীরা, তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদসূত্র : এবিপি নিউজ, এনডিটিভি

ওই নারীর মৃত্যুর জন্যই কি এই আতঙ্ক? গ্রামবাসীরা বলছে ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্য, ওই নারীর মৃত্যুতে নয়, তার শরীরে বাসা বঁাধা জীবাণুই গ্রামবাসীদের মনে আতঙ্কের কারণ! তাদের ধারণা, ওই নারীর শরীরে থাকা এইচআইভি ভাইরাস হ্রদের পানিতে মিশে গেছে। ফলে সেই পানি দূষিত হয়ে গেছে। তাই কোনোভাবেই ওই পানি আর পানের যোগ্য নয় বলেই মনে করছে তারা। দাবি, হ্রদের সব পানি বের করে দিতে হবে। তারা জানায়, এই পানি আর খাবে না। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে দরবারও করে গ্রামবাসীরা।

তাদের দাবি শুনে কমর্কতাের্দর মাথায় যেন বাজ ভেঙে পড়ে। এত বড় একটা হ্রদের পানি সরানো হবে কীভাবে? প্রশাসনিক কমর্কতার্রা গ্রামবাসীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন এইচআইভি আক্রান্ত ওই মহিলা হ্রদে আত্মহত্যা করেছেন ঠিকই। কিন্তু তার শরীরের জীবাণু কোনোভাবেই পানিতে মেশেনি। আর এইচআইভির সংক্রমণও এভাবে হয় না। শুধু তাই নয়, পানি পরীক্ষা করারও আশ্বাস দেয় প্রশাসন। কিন্তু কে শোনে কার কথা! গ্রামবাসীরাও নাছোড়।

অগত্যা গ্রামবাসীদের জেদের কাছে নতিস্বীকার করতে হয় প্রশাসনকে। অবশেষে টানা পঁাচ দিন পাম্প চালিয়ে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে হ্রদটির সব পানি পাম্প দিয়ে ফেলে দেয়া হয়। এরপর হ্রদটিকে পরিষ্কার করে স্থানীয় মালাপ্রভা খালের পানি দিয়ে হ্রদটিকে পুনরায় ভরা হয়। এ ঘটনায় ভারতে আলোড়ন পড়ে গেছে। কারণ ভারতের সমাজে এইচআইভিকে যতটা না কলঙ্ক হিসেবে দেখা হয়, তার চেয়ে এটাকে একটা আতঙ্ক হিসেবেই সমাজে ছড়িয়েছে বেশি। আর এর জন্য শুধুমাত্র অসচেতনতাকেই দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সকল ফিচার

রঙ বেরঙ
উনিশ বিশ
জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরাম
নন্দিনী
অাইন ও বিচার
ক্যাম্পাস
হাট্টি মা টিম টিম
তারার মেলা
সাহিত্য
সুস্বাস্থ্য
কৃষি ও সম্ভাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
close

উপরে