logo
মঙ্গলবার ২৫ জুন, ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

  যাযাদি ডেস্ক   ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০  

অবাধ্য হলেই জেলে ঠঁাই হয় সৌদি নারীদের

অবাধ্য হলেই জেলে ঠঁাই  হয় সৌদি নারীদের
সৌদি আরবে নারীদের স্বাধীন জীবনযাপনে বিঘেœর অভিযোগ বেশ পুরনো হলেও সংস্কারপন্থি কিছু উদ্যোগের ফলে গত বছর বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয় দেশটি। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার দরুন বুঝা যায় দেশটিতে নারীদের ওপর এখনও অনেক ধরনের বিধিনিষেধ চালু আছে Ñপ্রতীকী ছবি
নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর গত বছর বিশ্বজুড়ে সৌদি আরবের প্রশংসা করা হয়। কিন্তু দেশটিতে নারীদের ওপর এখনো অনেক ধরনের বিধি-নিষেধ চালু আছে। এর অন্যতম হচ্ছে ‘পুরুষ অভিভাবকতন্ত্র’ যেখানে একজন নারীর জন্য গুরুত্বপূণর্ সিদ্ধান্তগুলো তিনি নিজে নিতে পারেন না। তার পক্ষ হয়ে সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন শুধুমাত্র তার বাবা, ভাই, স্বামী কিংবা ছেলে। চলতি বছরের শুরু থেকেই এ বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় জোর আলোচনা, যখন এক সৌদি তরুণী বাড়ি থেকে পালিয়ে ব্যাংককে গিয়ে সেখানকার বিমানবন্দরের এক হোটেলে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। তাকে যদি বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়, বলছেন তিনি, তাহলে তার জেল হতে পারে।

একজন সৌদি নারীকে তার পাসপোটের্ আবেদনের জন্য, বিদেশে যাওয়ার জন্য, সরকারি বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়াশোনার জন্য, বিয়ে করার জন্য, এমনকি কারাগার ছেড়ে যাওয়ার জন্যও তার পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি নিতে হয়। এটা এমন একটি বিষয়, যা প্রত্যেক সৌদি নারী এবং মেয়েকে জন্ম থেকে আমৃত্যু ভোগায়, বলছিলেন মিশরীয় বংশোদ্ভূত মাকির্ন সাংবাদিক মোনা এলতাহাউই, এর মাধ্যমে নারীকে মূলত একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে দেখা হয়। সৌদি আরব নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সনদে সই করেছে। সৌদি সরকার বলে থাকে, শরিয়া আইনে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পারস্য উপসাগরের এই রক্ষণশীল রাজতন্ত্র নারী ও মেয়ে শিশুদের খেলাধুলার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। পাশাপাশি নারীদের স্টেডিয়ামে বসে ফুটবল খেলা উপভোগেরও অনুমতি দিয়েছে।

তবে নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য রোধে কোনো আইন না থাকায় এবং সৌদি সরকার বৈষম্যের কোনো আইনগত সংজ্ঞা তৈরি করতে ব্যথর্ হওয়ায় জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা গত বছর ফেব্রæয়ারি মাসে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সৌদি পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থাকে সমাজ ও দেশের অথর্নীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বড় বাধা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা কোরআনের আয়াত থেকে চালু করা হয়েছে বলে বলা হয়। আন্তজাির্তক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০১৬ সালের এক রিপোটের্ বলা হয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সৌদি আরবে স্পষ্ট এবং প্রত্যক্ষভাবে অভিভাবকত্ব আইন প্রয়োগ করা হয়। এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য বেশ কয়েকজন নারীকে বিচার করা হয়েছে এবং জেলে পোরা হয়েছে। সৌদি মানবাধিকার কমীর্ সামার বাদাউই তার বাবার বিরুদ্ধে শারীরিক নিযার্তনের অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান এবং এক আশ্রয়কেন্দ্রে ঠঁাই নেন। এরপর বাবার অভিভাবকত্ব বাতিলের জন্য তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। তার বাবাও মেয়ের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেন বলে সামার বাবার অবাধ্য মেয়ে।

তবে পঁাচ মাস পর সৌদি বাদশাহ এক আদেশ জারি করেন। যেখানে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকত্ব প্রথার প্রয়োজন হবে না বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু ২০১৮ সালে নারীদের গাড়ি ড্রাইভিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে সৌদি আরবে নারী অধিকার আন্দোলনকারীদের ধরপাকড় শুরু হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সন্দেহজনক যোগাযোগসহ বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়। বিচারে তাদের দীঘের্ময়াদি সাজা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সরকারপন্থি গণমাধ্যম তাদের ইতোমধ্যেই ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বণর্না করতে শুরু করেছে। সংবাদসূত্র: বিবিসি
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close

উপরে